ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ ও বিভেদের রাজনীতির বিপদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে রুজি-রুটির দাবিতে খেটে খাওয়া মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাল সিপিআই(এম)।
রবিবার সিপিআই(এম) সদর পূর্ব এরিয়া কমিটির ডাকে জলপাইগুড়ি শহরের প্রান্তসীমায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিউনিটি হল সংলগ্ন মাঠে এই উপলক্ষে এক প্রকাশ্য সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মূল বক্তা ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য এবং সিআইটিইউ নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য। বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) জেলা কমিটির সদস্য বিপুল সান্যাল। সভায় সভাপতিত্ব করেন জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রদীপ দে। ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ও শহরে অন্যান্য অংশের খেটে খাওয়া মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
সোমনাথ ভট্টাচার্য বলেন, কোনও মৌলবাদই সাধারণ মানুষের জন্য নয়। মৌলবাদী শক্তি সর্বদাই মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করে। ধর্মের আবেগকে সামনে রেখে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, রুজি-রুটি ও জীবিকার মতো মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলিকে আড়াল করার চেষ্টা চলে। এই বিভেদের রাজনীতির সুযোগ নিয়ে দেশের সম্পদ ও অধিকার ধনী কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ চালানো হচ্ছে।
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নোটবন্দি থেকে শুরু করে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে কর্পোরেট স্বার্থে তুলে দেওয়ার নীতি— সব ক্ষেত্রেই খেটে খাওয়া গরিব মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে।
‘যত মত তত পথ’-র উল্লেখ করে সোমনাথ ভট্টাচার্য বলেন, ভারতের মূল শক্তিই হল বহুত্ববাদ ও সহনশীলতা। সেই পথ ধরেই স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ব দরবারে ভারতীয় সংস্কৃতির উদারতার কথা তুলে ধরেছিলেন। কোনও ধর্মই অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে শেখায় না, প্রতিটি ধর্মের মূল কথাই মানুষকে ভালোবাসা।
বাংলার অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, রবীন্দ্রনাথের সম্প্রীতি ও মানবতার দর্শন এবং নজরুলের ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’-এর বার্তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, রবীন্দ্র-নজরুলের বাংলায় বিদ্বেষ ও হানাহানির রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।
Jalpaiguri Somnath Bhattacharya
বিভাজন চালিয়ে শ্রমজীবীকে কোণঠাস করেছে বিজেপি
জলপাইগুড়িতে জনসভায় সোমনাথ ভট্টাচার্য।
×
Comments :0