ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঢাঁক ঢোল পিটিয়ে শেষ পর্যন্ত অশ্বডিম্ব। ভোট বৈতরনী পার হওয়া, প্রচারে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে শুধুই মাটি লুঠ ছাড়া আর কিছুই হয়নি তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ উঠে এলো ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী শান্তিনাথ সাতিকের প্রচারে।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানই শাসকদল তৃণমূলের মুখে লিউকোপ্লাস্ট সাঁটিয়েছে। ভোট বৈতরনী পার হওয়ার হাতিয়ার উল্টে জনরোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিপিআর প্রকাশ না করে এক ডজন নদীর চরের মাটি বিক্রি করার ঘটনায় ভাসতে পারে গ্রাম, সেই আশঙ্কাই ঘাটাল মহকুমা জুড়ে। ভোটের মুখে জনরোষ গ্রামে গ্রামে নদীর পাড়ের মানুষের। রাজ্য সরকারের বদান্যতায় এবং সেচ মন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার দাপটে যে হারে অবৈজ্ঞানিকভাবে নদীর পাড় ঘেঁষে মাটি কেটে পাচার করেছে ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে। তাতে চাষের জমি, বাস্তুজমি, ঘরবাড়ি সহ নদীর পাড় সামনের বর্ষায় ভেষে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। নদীগর্ভ ও চরের মাটি কেটে নদীর পাড় ও গুড়ি না বেঁধে সেই মাটি সরকার প্রতি বর্গফুট ১ টাকা দরে বিক্রি করেছে। আর ঠিকাদার সংস্থা সেই মাটি কাটার বরাদ নিয়ে বাজারে প্রতি বর্গফুট ৮-১০ টাকা দরে বিক্রি করেছে।
গত বছর মে মাসেই বন্যা শুরু হয়। ২৮ টি স্থানে নতুন করে নদী বাঁধ ভাঙে। এবছর এখনও পর্যন্ত সেই ৪২ টি স্থানের ভেঙে পড়া নদী বাঁধের ২৭ টি এখনও মেরামত হয়নি।
নদী থেকে মাটি লুঠের কারনে ঘাটালের প্রতাপপুর ক্ষোভে ফুঁসছে। ক্ষোভে ফুঁসছে শতাধিক মৌজা। ফলে এই অবৈজ্ঞানিক ড্রেজিং ও মাটি লুঠে বিক্ষোভের মুখে কাজ বন্ধ। ভাসতে পারে গ্রাম। ঘাটাল মাস্টার প্লেনের নামে তৃণমূল কংগ্রেস ও তার সরকারের যে মাটি লুঠের প্রকল্প তা আজ প্রমানিত। তিনটি সুইস গেট পুননির্মাণ ছাড়া আর কোনও কাজই হয়নি। ১৫০০ কোটির প্রকল্প বলা হলেও ঐ সুইস গেট সরকারী ভাবে নির্মাণ ছাড়া ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের নামে লুঠ হয়েছে বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ। ফলে জনরোষ গ্রামে গ্রামে। তৃণমূল কংগ্রেস ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে চিৎকার করেছিলো ঘাটাল মহকুমা, পাঁশকুড়া, আরামবাগ, গোঘাটের ভোট বৈতরনী পার হওয়ার জন্য। এখন ভোটের মুখে আর রা টুকুও কাড়ছে না। কিন্তু এলাকার মানুষ জবাব দেওয়ার জন্য তৈরী। স্থানীয় মানুষের একটাই দাবী নদী পাড় শক্তপোক্ত না করে নাব্যতা বাড়ানো ফলে ফের নদী পারের ঘর-বাড়ি ভেঙে যেতে পারে। চাষের জমিও রক্ষা পাবে না।
Comments :0