দীর্ঘ আট বছর নেই কোন নির্বাচিত পৌর বোর্ড, নেই কোন কাউন্সিলার, নেই পর্যাপ্ত কর্মী থেকে আধিকারিক - এই নিয়েই দিনের পর দিন পরিচালিত হচ্ছে হাওড়া কর্পোরেশন। কবে শেষ কর্পোরেশনের ভোট হয়েছে তা মনে করতে পারছেন না হাওড়া বাসী। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে শুধুমাত্র নিজেদের দখলে রাখতে তৃণমূল কংগ্রেস
নিজের পছন্দের লোকদের প্রশাসক নিয়োগ করে পরিচালনা করেছিল হাওড়া কর্পোরেশন। রাজ্যে রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের পরই হাওড়া বাসীর দাবি অবিলম্বে হাওড়া কর্পোরেশনের ভোট। সুস্থ নাগরিক পরিষেবা চালু। ২০১৩ সালে হাওড়া শহরের মানুষ শেষ ভোট দিয়েছিলেন হাওড়া কর্পোরেশনের নির্বাচিত পৌর বোর্ড গঠনে। জোর করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে হাওড়া কর্পোরেশন দখল নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। পাঁচ বছর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি করে নির্বাচিত পৌর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালে। তার পর থেকে আর নির্বাচন হয়নি হাওড়া কর্পোরেশনের। বিভিন্ন সময়ে নিজেদের দখলদারি বজায় রাখতে নিজেদের মনোমত প্রশাসক বসিয়ে পরিচালিত হয়েছে হাওড়া কর্পোরেশন। নির্বাচিত পৌর বোর্ড না থাকায় চরম অসুবিধায় পড়েন সাধারণ মানুষ। পানীয় জল , জঞ্জাল অপসারণ, নিকাশীর মত মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবার ক্ষেত্রে হয়রানির স্বিকার হন সাধারণ মানুষ। কোন শংসাপত্রের প্রয়োজন হলে কোথায় কার কাছে যাবেন তা নিয়ে দ্বিদ্ধাগ্ৰস্ত ছিলেন নাগরিকেরা। দীর্ঘ আট বছর শুধুমাত্র কয়েকজন আমলা নিজেদের দায়িত্বে পৌর পরিষেবা সচল রাখতে কাজ করে চলেছেন। প্রয়োজনের তুলনায় আমলা, ইঞ্জিনিয়ার, স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা দিনে দিনে কমেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। হাওড়া কর্পোরেশনের কর্মীরা জানান বারে বারে রাজ্য সরকারের পৌর দপ্তর থেকে শুরু করে জেলার মন্ত্রীদের সমস্যার কথা জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। স্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ না করে শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদের অস্থায়ী নিয়োগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বদলি হয়েছেন জয়েন্ট কমিশনার। নেই ডেপুটি কমিশনারও। বদলি হয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ দুইটি পদে কোন নিয়োগ হয়নি। বর্তমানে হাওড়া কর্পোরেশন পরিচালনা করেছেন পৌর কমিশনার। বিল্ডিং, জঞ্জাল অপসারণ, পানীয় জল সরবরাহের মত মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো হাতে গোনা কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার পরিচালনা করছেন। একজন ইঞ্জিনিয়ার বহু দপ্তরের দায়িত্বে থাকায় অসুবিধায় পড়ছেন তারা। হাওড়া কর্পোরেশনের সাতটি বরো অফিসগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। শুধুমাত্র একজন সহকারী ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে প্রতিটি বরো অফিসগুলোতে। নেই পর্যাপ্ত কর্মী। ৫০ টি ওযার্ডের নাগরিক পরিষেবা চালু রাখতে বরো অফিসের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ আধিকারিক ও কর্মীর অভাবে দিশাহীন ভাবে চলছে বরো অফিসগুলো।
কয়েকদিন বাদেই বর্ষার মরশুম। অতীতে বর্ষার সময়ে দীর্ঘদিন ঘর বন্দি হয়ে থেকেছেন হাওড়া বাসী। নিয়মিত নালা নর্দমা পরিস্কার না হওয়া , নিয়মিত ভ্যাট থেকে জঞ্জাল অপসারণ না করার ফলেই সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে যায় হাওড়া শহরের অধিকাংশ অঞ্চল। দৈনন্দিন জঞ্জাল অপসারণ কাজ তদারকি করার মত লোক নেই। মানুষের বসবাসের ঘরে জল ঢুকে গিয়ে দীর্ঘদিন জমে থাকে। চরম হয়রানির মধ্যে পড়েন সাধারণ মানুষ। কয়েকদিন আগে সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওড়া শহর। হাওড়া কর্পোরেশন এলাকায় নাগরিক পরিষেবা একেবারে তলানিতে এসে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ হাওড়া বাসীর। তাই বর্ষার সময়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে কি অবস্থা দাঁড়াবে সেই কথা ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন হাওড়া বাসী।
Howrah Municipal Corporation
দীর্ঘ আট বছর হয়নি নির্বাচন, পৌর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হাওড়ার মানুষ
×
Comments :0