Chandranath Rath

চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআই

রাজ্য

চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনার তদন্তভার গেলো সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যে সাত সদস্যের সিট গঠন করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। মঙ্গলবার তারা রাজ্যে আসছে বলে জানা গিয়েছে। 
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের গতকাল আদালতেও পেশ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার পুলিশের যৌথ অভিযানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে বিশাল শ্রীবাস্তব, রাজ সিং এবং মায়াঙ্ক মিশ্র নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতার কাছে বালির একটি টোল প্লাজায় আততায়ীদের করা ইউপিআই পেমেন্টের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত বুধবার রাত ১০টা থেকে ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। সেই সময় তিনি তার গাড়ির সামনের সিটে বসে বাড়ি ফিরছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে তার বাড়ির ২০০ মিটারেরও কম দূরত্বে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকানো হয়, এরপর বাইকে আসা আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অভিযুক্তরা গাড়িটি ঘটনাস্থলে ফেলেই অন্য একটি লাল রঙের গাড়ি ও বাইকে করে পালিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং টোল প্লাজায় ওই লাল গাড়ির সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, তিন অভিযুক্তই একই গাড়িতে ছিল এবং ইউপিআই-এর মাধ্যমে টোল ট্যাক্স মেটায়। এই ইউপিআই পেমেন্টই খুনিদের কাছে পৌঁছনোর সবচেয়ে বড় সূত্র হয়ে দাঁড়ায়।
তদন্তকারীদের মতে, ধৃত তিনজনই পেশাদার খুনি। বিশালের আদি বাড়ি বিহারের বক্সারে এবং বাকি দুজনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। বিশালের বিরুদ্ধে খুন ও ডাকাতি সহ ১৫টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আজ তাদের বারাসত আদালতে পেশ করা হবে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দুটি বাইক উদ্ধার করেছে এবং গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অপরাধে ব্যবহৃত সবকটি যানই চুরি করা এবং মাইক্রা গাড়িতে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো ছিল।
ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছিলেন, ‘অপরাধে ব্যবহৃত চার চাকার গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তবে রিপোর্ট অনুযায়ী গাড়ির নম্বর প্লেটটি ভুয়ো এবং বিকৃত করা হয়েছে।’ গাড়িটিতে WB74AK2270 নম্বর লাগানো ছিল।
গত শুক্রবার পুলিশ উদ্ধার হওয়া একটি বাইকের আসল মালিকের সন্ধান পায় এবং জানতে পারে সেটি চুরি গিয়েছিল। ২০১২ সালের ৪ মে বিভাষ কুমার ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তির নামে বাইকটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল।
এই হত্যাকে পূর্বপরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথার খুন বলে চিহ্নিত করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আততায়ীরা অন্তত দু-তিন দিন ধরে রেইকি করেছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজিত করার জেরেই এই খুন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment