হায়দরাবাদে এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে দেশের জন্য আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই দেশপ্রেম বা আত্মত্যাগ সীমান্তে গিয়ে যুদ্ধে জীবনদান নয়। তিনি বলেছেন দেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়কে রক্ষা করতে দেশকে সংযমী হতে হবে, মিতব্যয়ী হতে হবে। পরিবহণ খরচ কমাতে করোনা লকডাউনের মত যথা সম্ভব ঘরে বসে কাজ করতে বলেছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বাসে, ট্রেনে যাতায়াত করতে বলছেন। পেট্রল, ডিজেল, গ্যাস চালিত গাড়ি বাদ দিয়ে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার করতে বলেছেন। মানুষ যাতে বেশি বেশি সোনা, রূপা না কেনেন তার পরামর্শ দিয়েছেন। পণ্য পরিবহণে রেলকে ব্যবহার করতে বলেছেন। কৃষকদের বলেছেন রাসায়নিক সার ব্যবহার কমিয়ে দিতে। এছাড়াও মানুষকে বিদেশ ভ্রমণে যেতে নিষেধ করেছেন। যারা বিদেশে বিয়ের আয়োজন করেন তাদেরও অন্তত এক বছর বন্ধ রাখতে বলেছেন। আর এই সব কিছুকেই তিনি দেশের প্রতি ভালোবাসা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। এসব ক্ষেত্রে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা লাগে। এই দুঃসময়ে যখন বিদেশি মুদ্রার (ডলার) তুলনায় টাকার মূল্য হু হু করে কমে যাচ্ছে তখন বিদেশি মুদ্রা আয় অত্যন্ত কঠিন।
দেশবাসীকে এমন দেশপ্রেমের বাণী বিতরণ করে পরদিনই তিনি শতাধিক গাড়ির কনভয় নিয়ে গুজরাটে রোড শো করেছেন। অন্যদিকে আতঙ্কে আতঙ্কে দেশের শেয়ার বাজারে মহাপতন ঘটেছে। মোদীর ভাষ্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেশের অর্থনীতি মহা সঙ্কটে। এমন সঙ্কট যা আগামী এক বছরেও মেরামতের সম্ভাবনা কম। তাই প্রধানমন্ত্রী কৃচ্ছ্বসাধনের পর্ব আপাতত এক বছর ধার্য করেছেন।
ইতিমধ্যে শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে বিমানের জ্বালানির দাম। তার ধাক্কায় বিমান সংস্থাগুলি ধুঁকছে। বাণিজ্যিক গ্যাস বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বেড়েছে অটোর গ্যাস। গত আড়াই মাস ধরে বাড়ির রান্নার গ্যাস এবং পেট্রল, ডিজেলের দাম না বাড়লেও পেট্রোলিয়াম নির্ভর সব ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হলেও পাঁচ রাজ্যের ভোটের দিকে তাকিয়ে মোদীরা বার বার বলেছেন আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে। ভোট শেষে জয়ের আনন্দ উদ্যাপন করে তিনি আচমকাই করোনা লকডাউনের স্মৃতি উসকে দিয়ে ভয়াবহ সঙ্কটের বার্তা দিয়েছেন। এই বার্তা শুধু বিদেশি মুদ্রা বাঁচানোর জন্য নয়। ঘুরিয়ে এটাও বোঝানো হয়েছে জনগণ কোমর বাঁধো কয়েক দিনের মধ্যেই উচ্চ হারে বাড়তে চলেছে পেট্রল, ডিজেল, বাড়ির রান্নার গ্যাস, সারের দাম। মানুষের আয় বাড়ার কোনও বন্দোবস্ত না হলেও খরচ যে আগামী এক বছরে দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়ছে সেটা একরকম নিশ্চিত।
Editorial
মোদী বার্তা, জনগণ পেটে গামছা বাঁধো
×
Comments :0