নবজাগরণের বাংলায় শিক্ষাকে একদিকে গুণমানে উন্নত করা অন্যদিকে জনমুখী ও সর্বজনীন করে তোলায় সাফল্য দেখিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। ৩৪ বছর ধরে বামফ্রন্ট সরকার প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষার যে পরিকাঠামো উন্নয়ন করেছিল, আজ তা ধংসের মুখে। শিক্ষাকে অবৈতনিক করে গরিবের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতনের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধি করা এসব সাফল্যই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। চরম দুর্নীতির গ্রাসে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা। বাংলা বাঁচানোর সংগ্রামে তাই রাজ্যের শিক্ষাকে বাঁচানোর দাবি আবশ্যিক হয়ে উঠেছে। এবারের নির্বাচনী সংগ্রামেও বামপন্থীরাই শিক্ষা বাঁচানোর ডাক দিয়েছে।
অন্ধকার বিজেপি শাসিত রাজ্যের শিক্ষা
মোদী সরকার কায়েম হওয়ার পর থেকে দেশে শিক্ষার বেহাল দশা বাড়ছে। সব মাপকাঠিতে শিক্ষার পশ্চাৎগতি চলছে। একদিকে সরকারি শিক্ষার আওতা থেকে ছিটকে যাচ্ছে গরিব পরিবারের ছেলেমেয়েরা। অন্যদিকে যে শিক্ষা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দেওয়া হচ্ছে তার গুণমান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসারের বদলে পাঠ্যসূচীতে সাম্প্রদায়িক বিষয় অন্তর্ভূক্ত করে দেওয়া হচ্ছে, মনুবাদী ধ্যানধারণা ও কুসংস্কারকে শেখানো হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিককালে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমেছে সব থেকে বেশি। মধ্যপ্রদেশে ২৯,৪১০টি এবং উত্তরপ্রদেশে ২৫,১২৬টি সরকারি স্কুল উঠে গিয়েছে। দুই রাজ্য মিলিয়ে মোট ৮৯,৪৪১ গুলো সরকারি স্কুল কমেছে। অন্যদিকে একই সময়ে উত্তরপ্রদেশে ১৯,৩০৫টি বেসরকারি স্কুল তৈরি হয়েছে। যা দেশের মোট ৪২,৯৪৪টি বেসরকারি স্কুল বৃদ্ধিতে ৪৪.৯% অবদান রেখেছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ২১.৪% কমেছে, ২০১৪-১৫ সালে ২৩,৮৭৪ থেকে ২০২৩-২৪ সালে সরকারি স্কুল কমে হয়েছে ১৮,৭৫৮। একই সময়ে, ওড়িশার সরকারি স্কুলের সংখ্যা ১৭.১% কমে ৫৮,৬৯৭ থেকে ৪৮,৬৭১ হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশে ১৬.৪% কমে ৩,৪০৮ থেকে ২,৮৪৭ হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে ১৩.৪% কমে ৪১,৩২২ থেকে ৩৫,৭৯৫ হয়েছে। নাগাল্যান্ডে ১৪.৪% কমে ২,২৭৯ থেকে ১,৯৫২ হয়েছে। গোয়ার স্কুলগুলি ৯০৬ থেকে ১২.৯% কমে ৭৮৯ হয়েছে এবং উত্তরাখণ্ডের সরকারি স্কুলগুলি ৮.৭% কমে ১৭,৭৫৩ থেকে ১৬,২০১-এ দাঁড়িয়েছে।
স্পষ্ট হয়ে গেছে জাতীয় শিক্ষা নীতিতে শিক্ষার বেসরকারিকরণের জোর দেওয়া হয়েছে। নয়া শিক্ষানীতি এনেছে বিজেপি সরকার শিক্ষার অধিকার সঙ্কুচিত করতে। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ প্রায় দশ বছরে গোটা দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমেছে আট শতাংশ। বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা দেশে বেড়েছে ১৪.৯ শতাংশ। কোনো বেসরকারি সমীক্ষার রিপোর্ট নয়, সংসদে পেশ করা কেন্দ্রীয় সরকারের বয়ানেই এই তথ্য জানা গেছে। সরকারি তথ্য বলছে এই সময়কালে দেশে ১১,০৭,১০১ থেকে সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমে হয়েছে ৮৯,৪৪১। সেই জায়গায় বেসরকারি স্কুল ৪২,৯৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩,৩১,১০৮। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে শিক্ষা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতিও ঘটেছে। নিয়োগ দুর্নীতি ব্যাপম কেলেঙ্কারিকে জড়িতদের সবার শাস্তি হয়নি, বরং রহস্যজনকভাবে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষার উন্নয়ন, শেখাচ্ছে বাম কেরালা
শুধু প্রাথমিক শিক্ষার বুনিয়াদ শক্ত করাই নয়, উচ্চশিক্ষা ও মেধার বিকাশেও সরকারি দায়বদ্ধতাকে দেখিয়ে দিচ্ছে কেরালার বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার। গত জানুয়ারি মাসে কেরালা সরকার যে বাজেট পেশ করেছে তাতে সরকারি কলা ও বিজ্ঞান কলেজগুলোতে বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কেরালায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা ছিলই, এখন তা উচ্চশিক্ষায় প্রসারিত করা হয়েছে। আর্থিক অভাব যাতে কোনও মেধাবীর উচ্চশিক্ষার পথে বাধা না হয় তা নিশ্চিত করতে সরকার এগিয়ে এসেছে। দেশের অন্য বহু রাজ্য যখন কলেজস্তরের শিক্ষায় ফি বৃদ্ধি করে চলেছে তখন কেরালা সরকারের পথ বিকল্পের সন্ধান দিচ্ছে। কেরালা সরকার ঘোষণা করেছে রাজস্ব ব্যয়ের ৩৪ শতাংশ সামাজিক খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬২ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে। উচ্চশিক্ষাকে অবৈতনিক করতে সরকার শিক্ষায় অতিরিক্ত বরাদ্দও করেছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজে নিজেদের ছেলেমেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করতে কেরালা সরকার শিক্ষার উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপরেও জোর দিয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী থেকে শুরু করে মিড ডে মিলের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যও উচ্চহারে বরাদ্দ করেছে।
মানুষ গড়ার কারিগর নিয়োগেই দুর্নীতি
শিক্ষার মানোন্নয়নে মেধাবীদের শিক্ষক পদে নিয়োগ নিশ্চিত করতে বামফ্রন্ট সরকার স্কুল সার্ভিস কমিশন চালু করেছিল। পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করেই শিক্ষকতার চাকরি পেতে হতো। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে সেখানেও টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। যারা লক্ষ লক্ষ টাকা তৃণমূল নেতাদের দিয়ে স্কুলে চাকরি পেয়েছেন তাঁরা ছাত্র-ছাত্রীদের কী শিক্ষা দেবেন?
২০১৬ সালে ৩ লক্ষের মতো চাকরিপ্রার্থীর মধ্য থেকে ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়। আদালত দুর্নীতির দায়ে নিয়োগ পরীক্ষাটিকে পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের মতে, প্যানেলের বাইরে নিয়োগ, তালিকা টপকানো, ওএমআর শিট খুঁজে না পাওয়া ছাড়াও নতুন নতুন পদ্ধতিতে ‘প্রতারণা’ ও ‘জালিয়াতি’ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের মতে 'চালে কাঁকড়ের পরিমাণ এতো বেশি যে তা বরদাস্ত করা সম্ভব নয়।’ হাইকোর্টের রায়ের সঙ্গে সহমত পোষণ করে সুপ্রিম কোর্ট এই তালিকাকে বাতিল করে। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকপদকেই এভাবে বাতিল করার দরকার হতো না যদি তৃণমূল সরকার ও তাদের স্কুল সার্ভিস কমিশন দাগীদের চিহ্নিত করে দিতো। যদি তারা ওএমআর শিট প্রকাশ করে অযোগ্যদের চিহ্নিত করে দিত। কিন্তু দুর্নীতিতে সরাসরি যুক্ত থাকায় সরকার সেপথে হাঁটেনি, তারা চাল ও কাঁকড় আলাদা করেনি। সব শিক্ষকদের চাকরিই বিপন্ন করেছে, এবং স্কুলগুলিকে প্রায় শিক্ষকশূন্য করে শিক্ষার বারোটা বাজিয়েছে। দুর্নীতির দায়ে স্বয়ং প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জিকে সিবিআই গ্রেপ্তার করেছিল, তাঁর বাড়ি থেকে এত টাকা উদ্ধার হয়েছিল যে গোনার জন্য মেশিন আনতে হয়েছিল। তবে সিবিআই’র শিথিলতায় পার্থ চ্যাটার্জি সহ শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় সব ধৃত তৃণমূল নেতা বিধায়কই এখন জামিনে মুক্ত। এদের হাতে বাংলার শিক্ষা বাঁচবে?
বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য
• গত ২৫ জুন কসবার দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজের ভিতরে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে ওই কলেজেরই অস্থায়ী কর্মী তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দাপুটে নেতা। কলেজের নিরাপত্তা রক্ষীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে সেখানেই সঙ্গীদের নিয়ে ধর্ষণে নামে তৃণমূল নেতা।
• সুদীপ্ত গুপ্ত থেকে আনিস খান দু’জনেই ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষার দাবিতে লড়াই করছিলেন, দু’জনেই নিহত হয়েছেন পুলিশের আক্রমণে। সুদীপ্তকে রাজপথে, আনিস খানকে মধ্যরাতে বাড়িতে গিয়ে হামলা করে পুলিশ।
• কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদগুলি পুলিশের সরাসরি সাহায্য নিয়ে দখল করে নিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। কীভাবে তৃণমূল নেতারা কলেজ কবজা করছে তা গার্ডেনরিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজ এলাকায় পুলি অফিসার খুনের (২০১৩সালের ১২ ফেব্রুয়ারি) ঘটনাতেই পরিষ্কার। ঘটনাস্থলে কলকাতা কর্পোরেশনে তৃণমুলের কাউন্সিলর মহম্মদ ইকবাল ওরফে মুন্নার ভূমিকা ক্যামেরায় দেখা গেছে।
• শিক্ষাঙ্গনেও গোলাগুলি ছাড়া কথা নেই তৃণমূলের। কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষকদেরও ক্যাম্পাসের মধ্যে শাসকদলের গুন্ডারা শারীরিকভাবে নিগ্রহ করছে। মুখ্যমন্ত্রী সবক্ষেত্রেই বলছেন,‘ছোট্ট’ ঘটনা বা দুষ্টু ছেলের দুষ্টুমি।
• কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছড়ি ঘোরাতে তৃণমূল কংগ্রেসের বাহিনীর ভূমিকা পালন করছে– ‘ওয়েবকুপা’। ‘ওয়েবকুপা’র বিরাট ক্ষমতা! কারণ তার কাজকর্ম হয় রাজ্য তৃণমূলের সদর দপ্তর থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কলেজ অধ্যক্ষদের নিয়মিত কুর্নিশ করতে হয় ‘ওয়েবকুপা’-র মাতব্বরদের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, যেসব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ‘ওয়েবকুপা’-র সদস্য নন, তাঁরাই ‘হার্মাদ’।
• রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বশাসনে হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘একশো বার স্বাধিকারে হাত দেব। মাইনেটা তো আমিই দিই।’’
• তৃণমূলীদের দাপটে সরে যেতে হয়েছে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলে ২০১৫ সালের ১ জুলাই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পিটিয়েছে তৃণমূলের ‘ছাত্র’ নামধারী দুষ্কৃতীরা। ২০১৩সালের ১০ এপ্রিল কলকাতায় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেট ভেঙে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় তৃণমূলীরা। প্রেসিডেন্সিতে ঐতিহ্যবাহী বেকার ল্যাবরেটরিতেও ভাঙচুর চালানো হয়। নিগ্রহ করা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের।
• মেধার ভিত্তিতে কলেজে ভর্তি এখন অতীতের কথা। তৃণমূলী ছাত্র সংগঠন কলেজে কলেজে কার্যত আসন নিলামের দোকান খুলে বসেছে। অন লাইন ভর্তির ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই হাসির খোরাক।
• মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাতেও সমানতালে ফিরে এসেছে গণটোকাটুকি। নকল আটকাতে গিয়ে অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের হেনস্থাও হতে হচ্ছে শাসকদলের কর্মীদের হাতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছে আখছার।
• স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় তৃণমূলী হামলা থেকে কারোরই রেহাই নেই। ২০১১সালের ২৯ জুলাই শাসক দলের সমর্থক দুষ্কৃতীদের মারে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মৃত্যু হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী বাসুদেব নন্দীর। ২০১১সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষককে চড়। অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর তপন দাশগুপ্ত।
• ২০১২সালের ৫ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যক্ষ দিগ্বিজয় দে সরকারকে কলার ধরে মারধর করে তৃণমূল কর্মীরা। বাঁচাতে গিয়ে জখম হন কয়েকজন শিক্ষক। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ছোট্ট’ ঘটনা।
• ২০১১সালের ২৩ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক সব্যসাচী সেনগুপ্তকে শিক্ষা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (সরকারী পি এ) একজন ফেল করা ছাত্রকে পাশ করানোর নির্দেশ দেন। উপাচার্য সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন। ফলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
Comments :0