জলাতঙ্ক আক্রান্ত এবং আক্রমণাত্মক পথকুকুরদের মেরে ফেলার নির্দেশ বহাল রাখলো সুপ্রিম কোর্ট। পথকুকুরদের স্থানান্তর সংক্রান্ত আগের একটি নির্দেশিকা সংশোধনের দাবিতে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ আবেদনের শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত এই রায় দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল বিধি এবং অন্যান্য আইনি প্রোটোকল মেনে আইনত গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে দুরারোগ্য, জলাতঙ্ক আক্রান্ত বা স্পষ্টভাবে বিপজ্জনক ও আক্রমণাত্মক কুকুরদের ক্ষেত্রে ইউথ্যানেসিয়া মতো ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।’
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন. ভি. আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই সংক্রান্ত আবেদনগুলি খারিজ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, জনবহুল এলাকায় পথকুকুরদের অবাধ উপস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছে বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে শিশুদের ওপর পথকুকুরের আক্রমণের ঘটনাগুলিকে কোনভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
শিশু এবং বয়স্কদের ওপর কুকুরের কামড়ের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। হাসপাতাল, পার্ক, রেলওয়ে স্টেশনের মতো পাবলিক স্পেস বা জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগের নির্দেশ সংশোধন করতে সরাসরি অস্বীকার করেছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের আগের নির্দেশিকাগুলি যথাযথভাবে পালন না করার জন্য রাজ্য সরকারগুলিরও কড়া সমালোচনা করেছে বেঞ্চ। গত বছর আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, জনবহুল স্থান থেকে পথকুকুর সরিয়ে তাদের অ্যানিম্যাল শেল্টারে নিয়ে যেতে হবে। আদালত এও জানিয়েছিল যে, একবার বন্ধ্যাকরণ হয়ে যাওয়ার পর এই কুকুরগুলিকে যেখান থেকে ধরা হয়েছিল, সেখানে আর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এছাড়া, নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া প্রকাশ্যে বা যত্রতত্র কুকুরকে খাবার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, আদালতের সেই নির্দেশিকা পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েই বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং পশুপ্রেমী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত তাদের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
Supreme Court
বিপজ্জনক ও জলাতঙ্ক আক্রান্ত পথকুকুরদের 'শান্তিমৃত্যু'র অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট
×
Comments :0