Fall of Rupee

টাকা কমে ৯৬.২০, বাড়ছে সারের দাম, ভরসা রাশিয়ার তেল

জাতীয়

ছবি- AI

ডলারের তুলনায় টাকার দাম ৫.৫ শতাংশ নেমেছে ইরানে সংঘাত শুরুর পর থেকে। সোমবারই ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রা টাকার মান হয়েছে ৯৬.২০। 
অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, টাকার দাম সমানে পড়তে থাকার কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। ইরানে সংঘাত চাপিয়েছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। তার ফলে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে এখনও ভারত ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য আমেরিকা বা ইজরায়েলের সরাসরি সমালোচনা করেনি। 
ভারতকে জ্বালানির মেটানোর জন্য প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। প্রাকৃতিক গ্যাসেরও প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। 
এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কারণে কম দামে তেল আমদানি করছিল ভারত। তার সুবিধা যদিও ভারতীয় জনগণ পাননি। রাশিয়ার ওপর আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রাখায় ভারত কম দামে কিনছিল অপরিশোধিত তেল। সেই আমদানি বন্ধের মুখে পড়ে যায় আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে। ইরান যুদ্ধের কারণে সঙ্কট তীব্র হওয়ায় ‘সাময়িক ছাড়’ ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সার্বভৌম দেশ হিসেবে যদিও তেল কেনার সিদ্ধান্তের জন্য অন্য কোনও দেশের ‘ছাড়’ ভারতের  দরকারই নেই।
সোমবার দিল্লির প্রশাসনিক স্তরের বিভিন্ন অংশকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমের বলা হয়েছে যে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় আমেরিকার ‘ছাড়ের’ মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৬ মে। তবে এবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরো রাশিয়া তেল কিনছে ভারত। 
পেট্রোলিয়াম সচিব সুজাতা শর্মা বলেছেন, ‘‘আমেরিকা ‘ছাড়ের’ মেয়াদ না বাড়ালেও রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘ছাড়ের আগে থেকেই ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনছিল। আমরা এখনও কিনছি। বাণিজ্যিক বিচারে সুবিধাজনক হয় এমন সিদ্ধান্তই নিচ্ছি আমরা।’’
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধের কিছু আগে আমেরিকার শুল্কযুদ্ধের পর্বে রাশিয়ার থেকে তেল কিনলে নিষেধাজ্ঞার মুখে ফেলার হুমকি দিয়েছিল আমেরিকা। গত বছর, ওই হুমকির পর থেকে রাশিয়ার তেল আমদানি দ্রুত কমিয়ে ফেলতে থাকে ভারত। ঘটনা হলো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হওয়ায় ট্রাম্প নতুন করে কোনও হুমকি দেননি। দিলে ভারত কী করবে সেটি দেখার আছে।’’ 
এদিকে মধ্য প্রাচ্য থেকে অপরিশোদিত তেল আমদানির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ভারতে সার আমদানির। সংঘাতের ফলে চড়া হারে বাড়ছে সারের দাম। 
সোমবার এক বিবৃতিতে সারা ভারত কৃষক সভা সারের দাম বৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করেছে। সমস্যার সবটাই কৃষকদের ঘাড়ে চাপিয়ে এমওপি’র দাম ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০০-২০০ টাকা করে দিয়েছে। কৃষকসভা বলেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ২০-৩০ শতাংশ হারে বেড়েছে বিভিন্ন সারের দাম। মধ্য প্রাচ্য সঙ্ঘাতে চরম সঙ্কটে কৃষকরা। সার উৎপাদন ক্ষেত্রের বেসরকারিকরণকে দায়ী করেছে কৃষকসভা। 
আরেকদিকে ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যাওয়ায় আমদানির খরচ আরও বাড়ছে। টান পড়ছে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সঙ্কটে থাকা জনতাকে ‘খরচ কমানোর‘ প্রতিশ্রুতি এবং জ্বালানির দামবৃদ্ধি ছাড়া আর কী দিচ্ছেন, উঠছে সে প্রশ্ন।

Comments :0

Login to leave a comment