Adani US Court

কীসের বিনিময়ে আদানি নিষ্কৃতি

সম্পাদকীয় বিভাগ

অবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা মোদী ঘনিষ্ট ধনকুবের গৌতম আদানির সংস্থাকে মার্কিন আদালতে দু’-দুটি মামলা থে‍কে নিষ্কৃতি দেবার ব্যবস্থা করেছে। বিনা প্রতিদানে ট্রাম্পের মতো ঝানু ব্যবসায়ী যে কাউকে কিঞ্চিত পরিমাণেও রেয়াত করেন না সেটা কমবে‍‌শি সকলেরই জানা। এক্ষেত্রে ঠিক কতটা প্রতিদান তিনি আদায় করেছেন সেটা নিয়ে নানা মহলে বিস্তর জল্পনা চলছে। গৌতম আদানির দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে অবশ্য জল্পনার কিছু নেই। ট্রাম্পের বাণিজ্য ও শুল্ক নীতির সূত্র ধরে আদানি মোক্ষম চালে বলেছেন আদানি গোষ্ঠী আমেরিকায় ১০০০ কোটি ডলার পুঁজি বিনিয়োগ করবে। তাতে অন্তত ১৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ভাবা যায়! একটি ভারতীয় কর্পোরেট সংস্থা ভারতে ব্যবসা করে ভারতের শ্রমিকের শ্রম চুরি করে ও জনগণের পকেট কেটে যে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে সেটা ভারতে বিনিয়োগ করে ভারতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে সেই পুঁজি আমেরিকায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অথচ দেশে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। আর চলছে কাজের হাহাকার।
শুধু এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগে ট্রাম্প তুষ্ট হবার পাত্র নন। মার্কিন এসইসি’র মামলায় মিটমাট হ‍‌য়েছে যে শর্তে সেটা হলো গৌতম আদানি ৬০ লক্ষ এবং ভাইপো সাগর আদানি ১২০ লক্ষ মার্কিন ডলার জরিমানা দেবেন। মামলা থেকে নিষ্কৃতির জন্য যে বোঝাপড়া হয়েছে তার মধ্যে এ দু’টি প্রকাশ্যে হয়েছে। এর বাইরে যে সমঝোতা নিয়ে জল্পনা সেগুলি হয়েছে মোদী সরকারের সঙ্গে। বন্ধু আদানিকে রক্ষার জন্য মোদী দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভারতের বাজার মার্কিন পণ্যের জন্য অবাধ করতে ট্রাম্প শুধু ভারতীয় পণ্যে উচ্চ শুল্ক চাপাননি তার সঙ্গে আদানিদের বিরুদ্ধে মামলাকে খাঁড়া হিসাবে ব্যবহার করেছেন। ট্রাম্পের লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে আমেরিকার বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, পারলে উদ্বৃত্ত করা। অর্থাৎ ভারত আমেরিকায় যত রপ্তানি করবে আমেরিকা ভারতের কৃষক, পশুপালক, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদকদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। অপেক্ষাকৃত সস্তার মার্কিন পণ্যে ভারতের বাজার ভরে যাবে। বিপদে পড়বে ভারতের কৃষক ও গ্রামের গরিব মানুষ। তেমনি সামরিক পণ্য, মোটর গাড়ি সহ অন্যান্য পণ্যও ভারতে ঢুকবে। তাতে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন প্রবল প্রতিযোগিতায় বিকাশের সুযোগ পাবে না। গত এক বছর ধরে আমেরিকার সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তির জন্য যে আলোচনা চলছে এবং গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে সেটা যে আদতে মোদী সরকারের আত্মসমর্পণ সেটা দেশের বিরোধীরা জোর গলায় বলছে। মোদীরা আমেরিকার সঙ্গী হবার ও থাকার বাসনায় যেমন ট্রাম্পের অপমান সহ্য করছে তেমনি দেশের সাধারণ মানুষরে ক্ষতির বিনিময়ে বন্ধু আদানিকে ‘শাপমুক্ত’ করতে মরিয়া হয়ে গেছে।

Comments :0

Login to leave a comment