Cattle Market Bankura

তাড়িয়ে দিচ্ছে পুলিশ, বসছে না পশু কেনাবেচার হাট

জেলা

ছবি প্রতিনিধিত্বমূলক।

মধুসূদন চ্যাটার্জি: বাঁকুড়া

পশুহত্যার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। তারপরই বাঁকুড়া জেলার পশু কেনাবেচার হাটগুলিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 
বাঁকুড়া জেলায় বড়জোড়ার আশুড়িয়া, কোতুলপুর, রানীবাঁধের ঘোড়াধরা, বাঁকুড়া-১ ব্লকের শুনুকপাহাড়ি সহ একাধিক এলাকায় সপ্তাহান্তে একদিন করে হাট বসে। এই হাটে সব চেয়ে বেশি বেচা কেনা হয় গরু, ছাগল, মুরগী, হাঁস, ভেড়া, শুকরের মতো প্রাণি। 
ক্ষমতায় আসার পাঁচ দিনের মধ্যেই গোহত্যায় লাগাম পরাতে নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। বলা হয়েছে,
পশু হত্যা করতে হলে আগাম শংসাপত্র জোগাড় করতে হবে। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয় যে কোনও পশুকে বলি দেওয়ার আগে শহরে পৌরসভার চেয়ারম্যান ও গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির সঙ্গে একজন পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে শংসাপত্র আদায় করতে হবে। সেই শংসাপত্রে চেয়ারম্যান কিংবা সভাপতির সঙ্গে পশু চিকিৎসক পশুটি উপযুক্ত বললে তবেই মিলবে অনুমতি। 
এদিকে বাঁকুড়ার এইসব হাটে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয় গরুর। চাষের জন্য বা দুধের জন্য মানুষজন দূরদূরান্ত থেকে এসে এই হাটগুলি থেকে গরু কেনেন। সেখানে হিন্দু, মুসলমান, আদিবাসী সমস্ত অংশের মানুষজনই আছেন। মহাজনের কাছ থেকে বহু মানুষ গরু কিনে হাটে বিক্রি করেন। গত এক সপ্তাহ ধরে হাটগুলিতে গরু নিয়ে যেতে না পেরে ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়েছেন এঁরা। বড়জোড়ার চাঁদাই, ওন্দার পুনিশোল গ্রামের একাধিক গরিব মানুষ রয়েছেন ভুক্তভোগীদের তালিকায়। 
গত বৃহস্পতিবার বড়জোড়ার আশুড়িয়াতে হাট বসেছিল। একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, পুলিশ মাঝপথ থেকেই আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। জানিয়ে দিয়েছে যে হাটে গরু নিয়ে যাওয়া চলবে না। শনিবার রানিবাঁধের ঘোড়াধরা এলাকায় হাট ছিল। রাজ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ একটি হাট এটি। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন এখানে আসেন গরু কিনতে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার গরিব মানুষজন গৃহস্থের কাছ থেকে গরু কিনে এখানে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। 
এদিন এরকম একাধিক বিক্রেতা জানান, এদিন ৫কিমি দূর থেকে পুলিশ আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। ফের গরু নিয়ে আমরা ফিরে যাচ্ছি। গরুর খাবারও নেই, আমাদের খাবারও নেই।
সোমবার আরেকটি বড় হাট বসার কথা বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়িতে। সেখানেও হয়ত গরু কেনা বেচা করতে দেওয়া হবে না বলেই ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের আশঙ্কা।
ঘটনা হলো, এই সব হাট ঘিরে এলাকায় আর্থিক লেনদেন হয়। নানা ধরনের দোকান বসে। সপ্তাহের ওই একটা দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। কিন্তু চলতি সপ্তাহে কোথাও হাটে গরু না বিক্রি হওয়ায় এই সমস্ত ছোটখাটো দোকানগুলিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে। সেক্ষেত্রে লক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়ে যাবেন।

Comments :0

Login to leave a comment