তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর আমড়াকোলা জঙ্গল থেকে এক আদিবাসী যুবতীর অর্ধনগ্ন বিকৃত দেহ উদ্ধার হলো। দলবদ্ধ ধর্ষণের পরে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘন জঙ্গলের মধ্যে গাছের গোড়ায় হাঁটুমোড়া অবস্থায় দেহ বসিয়ে ওই যুবতীর ওড়নার একপ্রান্ত গলায় পেঁচিয়ে, অন্যপ্রান্ত গাছের ডালে বেঁধে ধর্ষণকারীরা গা ঢাকা দেয় বলে অভিযোগ করছে পরিবার।
দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে খড়্গপুর লোকাল থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন নিহত যুবতীর ভাই। ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবিতে পরিবারের সঙ্গে খড়্গপুর থানায় যান সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য দিলীপ সাউ, স্থানীয় পার্টিনেতা উত্তম নাগ প্রমুখ। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের সাথে দেখা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
বছর চারেক আগে এই থানা এলাকাতেই শোলাডহর মৌজার জঙ্গলে এমনভাবেই আরেকজন আদিবাসী যুবতীর দেহ গাছের গোড়ায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল। তখনও দলবদ্ধ ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। এবার ফের সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তিতে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খড়্গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত আমড়াকোলা জঙ্গল থেকে বছর কুড়ির একজন আদিবাসী যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খড়্গপুরের গোপালি থেকে ঘাঘরা যাওয়ার পথের মাঝখানে এই জঙ্গল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর গ্রামীণ থানা এলাকায় ওই যুবতীর বাড়ি। মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ গোপালি থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন তিনি। বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ঘন জঙ্গল থেকে দেহ উদ্ধারের পিছনে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ধর্ষণকারীদের চিনতে পারায় ওই যুবতীকে খুন হতে হয়েছে বলেও সন্দেহ। তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মরদেহ উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে রাখা হয়। শুক্রবার মেদিনীপুর মেডিক্যালে দেহ আনা হয় ময়নাতদন্তের জন্য। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এদিনই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে সেই মতো আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দিনমজুর পরিবারের এই যুবতীর বাবা এদিন বলেন, ‘‘আমার মেয়েটাকে ওরা মেরে ফেলল। ভরদুপুরে ওই রাস্তার জঙ্গলে গাছের তলায় মদের আসর বসে সমাজবিরোধীদের। মেয়েটা ১২ ক্লাস পড়ার পর আরও পড়তে চেয়েছিল। সংসারে সঙ্কটের কারণে পড়াতে পারিনি। এবছর ওর ভাই কলেজে ভর্তি করার জন্য টাকা জমিয়ে ছিল পাকা ঘরের জোগানদারের কাজ করে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৩মিনিটে ফোন করা হলে মেয়ে জানায় সে গোপালিতে আছে। বাড়ি ফিরছে। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। মোবাইল ফোনও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে জঙ্গলে জ্বালানি জোগাড় করতে গিয়ে মহিলারা দেখেন এমন দৃশ্য। সেই ঘটনা জানাজানি হতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের দেহ উদ্ধার করা হয়।’’
নিহত যুবতীর ভাই এদিন বলেন, ‘‘ওড়নার একপ্রান্ত এতটাই উঁচুতে গাছে বাঁধা ছিল যে সেখানে দিদির ওঠার মতো ক্ষমতা নেই। গলায় দড়ি দিলে কখনো হাঁটুমোড়া অবস্থায় গাছের তলায় বসে থাকে? মদ্যপ সমাজবিরোধীরা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালিয়ে খুন করেছে ঘটনা চাপা দিতে। তিনদিন মোবাইল সুইচড্ অফ থাকলেও দেহ উদ্ধারের সময় হাঁটুর কাছ থেকে চালু মোবাইল উদ্ধার হয়।’’
স্থানীয়দের আক্ষেপ, মেয়েটি খেলাধূলাতেও ভালো ছিল। আবারও কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনাও করতে চেয়েছিল। তা আর হলো না!
Murder
দলবদ্ধ ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, নিখোঁজ আদিবাসী যুবতীর দেহ মিলল আমড়াকোলা জঙ্গলে
ছবি প্রতিকি
×
Comments :0