অমিত কুমার দেব
গত দু'বছর সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি চলেছে এবং পরীক্ষা দেওয়ার পর ভালো ফলেরই আশা ছিল তার। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে বাতিল হয়ে গেল সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষা। আর তাতেই কিছুটা হতাশ এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকা চতুর্থ স্থানাধিকারী কোচবিহার রামভোলা হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র চন্দ্রচূড় সেন । এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৩।
২০২৪ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে এই চন্দ্রচূড় সেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আবারও তার এই সাফল্য উজ্জ্বল করল কোচবিহারের মুখ।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাওয়া চন্দ্রচূড় বলেন, নিট পরীক্ষা নিয়ে তার মতো দেশের বহু ছাত্র-ছাত্রীদের একটি বড় প্রত্যাশা ছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এই ছাত্র ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজমেন্টের ত্রুটিগুলি লক্ষ্য করাটা একান্ত প্রয়োজন।
এদিন চন্দ্রচূড় সেন আরও বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে যে নম্বর পাওয়া যায়, তা নিজেদের পরীক্ষা প্রস্তুতিকে ন্যায্যতা প্রতিপাদন করে, কিন্তু সম্ভাবনাকে কখনোই তা করে না। সুতরাং আমাদের যে দক্ষতা, আমাদের যে অনন্যতা, তা কখনোই পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে বিচার করা যায় না। তবুও উচ্চ মাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াটা একটি আত্মবিশ্বাস এর জায়গা।
কোচবিহার শহরের ৯নং ওয়ার্ডের নীলকুঠি রেলঘুমটি সংলগ্ন এম জে এন মেডিকেল কলেজ এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা কাঠ ব্যবসায়ী সুশান্ত সেন ও গৃহবধু মৌসুমী সেনের সন্তান চন্দ্রচূড় ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনার প্রতি তীব্র আগ্রহ তার। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য গল্পের বই পড়ারও নেশা রয়েছে তার। ফেলুদা সমগ্র বা শার্লক হোমসের বই তার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। সত্যজিৎ রায় তার কাছে এক অন্যতম ব্যক্তিত্ব। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আবৃত্তি না শিখলেও আবৃত্তির প্রতি তীব্র আকর্ষণ রয়েছে তার। গান এবং অঙ্কনেও পারদর্শী সে।
Comments :0