তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করেছে বরানগর থানার পুলিশ। বরানগর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজোর বিরুদ্ধে বরানগর থানায় তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ব্যবসায়ীও প্রোমোটারদের কাছ থেকে তোলাবাজি করতো তৃণমূল কাউন্সিলার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন অভিযান চালিয়ে বনহুগলী থেকে তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজোকে গ্রেপ্তার করে বরানগর থানার পুলিশ। ধৃতকে বৃহস্পতিবার বারাকপুর আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগে তৃণমূলের দুই বালি মাফিয়া নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি ও তবরক আলি মণ্ডল। দুজনই এলাকার তোলাবাজ ও বালি মাফিয়া নামে পরিচিত। প্রথম জনের বাড়ি জামালপুর থানার চক্ষণজাদি গ্রামে। অপরজনের বাড়ি জামালপুর থানারই শাহহোসেনপুরে। দানি পঞ্চায়েত সদস্য ও বেড়ুগ্রাম অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। অপরজন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের নেতা। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের অম্বুজা কলোনির ভাড়াবাড়িতে ছিল তারা। মঙ্গলবার দুপুরে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকা থেকে তাদের ধরা হয়। ধৃতদের বুধবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে তাদের সাতদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। দু’জনকে পাঁচদিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুর থানার চকদিঘি পঞ্চায়েতের গোপীকান্তপুরের বাসিন্দা গৌরসুন্দর মণ্ডল কিছুদিন আগে বিজেপিতে যোগ দেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি বাইকে চেপে বর্ধমান থেকে আঝাপুর হয়ে জামালপুরের দিকে আসছিলেন। চৌবেড়িয়া ব্রিজ পার হয়ে সারাংপুরের দিকে যাওয়ার সময় ফাঁকা রাস্তায় সাহাবুদ্দিন সহ কয়েকজন তাঁর পথ আটকায়। তাঁকে গালিগালাজ করে। বাইক থেকে টেনে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে পেটানো হয়। এরপর সাহাবুদ্দিন কোমর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। তা দেখে গৌরসুন্দর চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। চিৎকার শুনে পথচলতি মানুষ তাঁকে উদ্ধার করেন। তাড়া খেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। জামালপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গৌরসুন্দরের চিকিৎসা হয়। পরে তিনি নিজেই ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে তোলা চেয়ে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবশঙ্কর ঘোষ ওরফে শিবুকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। শিবশঙ্কর দীর্ঘদিন বর্ধমান জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সচিব ছিলেন। বর্তমানে তিনি ক্রীড়া সংস্থার কোর কমিটির সদস্য। এছাড়াও তিনি জেলার প্রাক্তন নামী খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠক। বর্ধমান থানার নারানদিঘি এলাকায় তাঁর বাড়ি। বুধবার ভোররাতে তাঁকে বর্ধমান–সিউড়ি রোডের সাই কমপ্লেক্সের কাছ থেকে ধরা হয় বলে পুলিশের দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান থানার গোলঘর ঘোষপাড়ার বাসিন্দা মুকুল নন্দী মঙ্গলবার রাতে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে শিবশঙ্কর সহ চারজনের নাম রয়েছে। অভিযোগে মুকুল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে। টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে নানাভাবে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকী প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।
বর্ধমান থানার পুলিশ গোরু পাচারের অভিযোগে গত ২দিনে মোট ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই সঙ্গে ২৭টি গোরু আটক করেছে। বুধবার দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি গোরু উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সোমবার ২২টি গোরু আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচটি গোরু নিয়ে তেলিপুকুরের দিক থেকে আসছিল লাল ও করিম। তাদের দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গোরু মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কোনও কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি বলে পুলিশের দাবি।
TMC Leader Arrested
জামালপুরে গ্রেপ্তার তৃণমূলের দুই বালি মাফিয়া নেতা, বরানগরে কাউন্সিলর
বরানগরের কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার।
×
Comments :0