‘লড়াই অবশ্যই কঠিন। সিপিআই(এম) এবং বামপন্থী বিধায়ক হিসেবে একা। কিন্তু লড়াইটা লড়তে পারব। কারণ শুধু আমি না আমার পিছনে পার্টি আছে। বহু গণ সংগঠন আছে, যারা রাস্তায় তিনশো পঁয়ষট্টি দিন লড়াই করছে।’ বিধায়ক হিসাবে শপথ নেওয়ার পর গণশক্তি ডিজিটালের মুখোমুখি হয়ে বললেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)। তিনি বলেম, ‘এ লড়াই তৃণমূল বিজেপি’র নাটক করা লড়াই না। রুটি রুজির লড়াই, খেটে খাওয়া মানুষের লড়াই, পরিযায়ী শ্রমিকদের লড়াই, কলে কারখানায় লড়াই চলবে আমাদের। সেই লড়াইয়ের বার্তাই আমি বিধানসভায় তুলে ধরব। ফলে কাজটা কঠিন হলেও পারব, কারণ সঙ্গে পার্টি আছে।’
রাজ্যে কর্মসংস্থানের সঙ্কট। আরেকদিকে চলছে বিভাজনের রাজনীতি। এ প্রসঙ্গে প্রশ্নে রহমান বলেন, ‘গোটা রাজ্যে মেরুকরণের ভোট হয়েছে। এই মেরুকরণকে বিজেপি হিন্দু এবং মুসলিমের মধ্যে ভাগাভাগির অঙ্কে দেখাতে চাইছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় মেরুকরণ হয়েছে তৃণমূল থাকবে না বিদায় করা হবে, এই প্রশ্নে। তৃণমূলের চরম অপশাসন, একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত দুর্নীতি। বেকারদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। এসএসসি’র পরীক্ষায় দুর্নীতি, চাকরি চুরি, কয়লা চুরি, বালি চুরি- এই সামগ্রিক অরাজকতায় মানুষ বিরক্ত ছিল। যে কোনও মূল্যে তৃণমূলকে হারাতে হবে এই মানসিকতা প্রধান হয়ে উঠেছিল। তৃণমূলকে হারাতে পারবে, এমন যে বিকল্প রয়েছে তাকে বেছে নিয়েছে। তাই বহু জায়গায় দেখা গিয়েছে যে ভোট দিয়েছেন এই চিন্তা থেকে যে বিজেপি এখানে জিততে পারে। তাই এখন বিজেপি-কে ভোট দাও।’
ডোমকলের জন্য কোন কোন কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সবার আগে?
মোস্তাফিজুর বলেন, ‘ডোমকলের প্রাক্তন বিধায়ক এবং পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী আনিসুর রহমান যে কাজ করে গিয়েছিলেন তার পর আর কাজ হয়নি। আমাদের সেই রেখে দেওয়া কাজ করব। আমরা অগ্রাধিকার ঠিক করছি। সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।’
ডোমকলেই প্রায় পঁচিশ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। রাজ্যজুড়ে রয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এই ক্ষেত্রে ভূমিকা কী হবে? কেরালায় ডোমকলের যেই পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ করেন, তাদের সাথ গোটা বছর যোগাযোগ রাখেন সিপিআই(এম) বিধায়ক।
মোস্তাফিজুর বলেন, এটি অবশ্যই বড় কাজ। নবনির্বাচিত সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন যে হিন্দু-মুসলিম বা মন্দির-মসজিদ তো অনেক হলো। এবার শিল্পের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কাজ করুন। ছোট শিল্প গড়ার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। সেগুলি করা দরকার।রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন থাকবে রাজ্যের ছেলে মেয়েদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করার।
তিনি বলেন, বামফ্রন্ট সরকার স্লোগান দিয়েছিল কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। সেই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা লড়েছিলাম। বিধানসভাতেও আবেন করব এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ হোক।
উল্লেখ্য রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে বন্ধ হয়েছে আট হাজারের বেশি স্কুল। সিপিআই(এম) বিধায়ক বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান আমাদের বামপন্থীদের মূল স্লোগান। সেখানে শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্ব পাবে।’
Comments :0