Fuel Price Hike

আকাশছোঁয়া পেট্রোল-ডিজেল, ক্ষোভ জনতার, তীব্র সমালোচনা রাহুল গান্ধীর

জাতীয় রাজ্য

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝে পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা, তামা, রাসায়নিক সার এই পণ্যগুলি সংযমী হয়ে ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয়ের আবেদনও করেছিলেন। কেন্দ্র সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল, গ্যাস বা অপরিশোধিত তেলের কোনও ঘাটতি নেই। বলা হয় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদনের কয়েকদিনের মধ্যেই শুক্রবারই পেট্রোল ও ডিজেলের প্রতি লিটারে ৩ টাকা এবং সিএনজি’র প্রতি কেজি-তে ২ টাকা করে দাম বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধিতে জর্জরিত জনতার ওপর আরও বোঝা বাড়ানো হলো। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে সব জিনিসের দাম বাড়বে।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের ছয় দিনের মধ্যেই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। শপথ গ্রহণের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় রাজ্য জুড়ে জ্বালানি তেলের দামে বড়সড় বৃদ্ধি ঘটানো হলো। এদিন সকাল ৬টা থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এই বর্ধিত হার, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ভোটের আবহে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকলেও, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতেই একধাক্কায় পেট্রোলের দাম বাড়ল ৩ টাকা ২৯ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বাড়ল ৩ টাকা ১১ পয়সা। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারদরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় সবজি থেকে শুরু করে চাল, ডাল—সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়বে, যা খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন বাজেটে বড় আঘাত।
সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধিকে বিদ্রূপ করে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, 'আচ্ছে দিন'-এর শুরুটা মোটেও সুখকর হলো না। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিলেও আসলে সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই ভোটের খরচ তোলা হচ্ছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। মানুষ বলছে, যেভাবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, তাতে সরকারেরও সাধারণ মানুষের কথা ভাবা উচিত।
পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজির দাম বৃদ্ধিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধী সরকারের সমালোচনা করে লিখেছেন,‘‘ প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘ভুলগুলোর’ মাশুল জনগণকে দিতে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি—যাকে তিনি ‘বসূলি’ হিসেবে মনে করেছেন তা কিস্তিতে কিস্তিতে আদায় করা হবে।’’
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগেই চড়া ছিল, এখন পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় শাকসবজি থেকে শুরু করে সমস্ত জিনিসের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যদিনের কাজের জায়গা বা ব্যবসা-বাণিজ্যে যাতায়াতের খরচ বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে তাদের আয়ের ওপর। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়চ্ছে। পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে এবং তারা এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 
অর্থনীতিবিদদের মতে পেট্রোল, ডিজেল এবং সিএনজি’র দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যাঁরা মোটরবাইক ব্যবহার করেন, তাঁদের  খরচ বাড়বে অনেকটা। আরও ব্যয়বহুল হতে পারে অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবাও।  খরচ বৃদ্ধি পাবে গণপরিবহন, ট্রাক এবং পণ্য পরিবহণের উপর। বাড়তে পারে বাস, ট্যাক্সি ভাড়া। বাড়তে পারে পণ্য পরিবহণের খরচও। সিএনজি’র দাম বাড়ার ফলে বিপদে পড়বেন অটো চালকরা। বাড়তে পার অটোর ভাড়াও। দেশের বেশিরভাগ খাদ্যপণ্য সড়কপথে পরিবহণ করা হয়। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে চাল, ডাল সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাবে। সেই অতিরিক্ত খরচ সাধারণ ক্রেতার উপরেই চাপিয়ে দেবে ব্যাবসায়ীরা। কৃষিকাজের জন্য ব্যাবহার করা ট্র্যাক্টর, পাম্পে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। পরিবহণ কর্মীরা যেমন বিপদে পড়বেন তেমনই সমস্যা হবে গণপরিবহণের ওপর নির্ভরশীল বিপুল জনতার। শুক্রবার পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো।
এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, নাকি সাধারণ মানুষকে এই চড়া দামেই অভ্যস্ত হতে হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Comments :0

Login to leave a comment