দিনহাটা পৌরসভার ভুয়ো প্ল্যান পাশের জের, প্রায় দু বছর পর ফের শনিবার পুলিশ তৎপর হল। এদিন প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশংকর মাহেশ্বরীর বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করে পৌরসভার কর্মী দিনহাটার তৃণমূল নেত্রী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে।
উল্লেখ্য ২০২৪ সালে এই মৌমিতা ভট্টাচার্যকে ভুয়ো প্ল্যান কান্ডে কয়েকবার জেরা করলেও তৎকালীন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ঘনিষ্ট হওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হয় নি মনে করছেন দিনহাটার মানুষ। মেসিকান্ডের কেস রিওপেনের মত এবারে দিনহাটা পৌরসভার ভুয়ো প্ল্যান কান্ডের কেস রিওপেন হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য তৃণমূল পরিচালিত দিনহাটা পৌরসভায় বিল্ডিং প্ল্যান কেলেংকারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। সেই ঘটনার জেরে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যেতে হয়েছিল গৌরীশংকর মাহেশ্বরীকে! পুলিশ তদন্তে নেমে একের পর এক গ্রেপ্তার করলেও মামলার কিনারা হয় নি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির তারা এখন জামিনে মুক্ত। এখন দেখার পুলিশ তাদেরকেও ফের তদন্তের জন্য গ্রেপ্তার করে কিনা। দিনহাটার মানুষের ধারনা এই দুর্নীতির মধ্যে জড়িয়ে আছে প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তার অনুগামীরা। আর সেকারণেই পুলিশ মামলার কিনারা করে নি।
উল্লেখ্য, ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান কান্ডের তদন্তে নেমে ২০২৪ সালে দিনহাটা থানার পুলিশ পৌরসভার কর্মী উত্তম চক্রবর্তী, দুই ইঞ্জিনিয়ার অর্কপ্রভ দাশগুপ্ত ও হরি বর্মনকে গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও পুলিশ চার্জশীট জমা না দেওয়ায় তিনজনেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ওই সময়ে পুলিশ পৌরসভার প্রধান করণিক জগদীশ সেন, প্রাক্তন মন্ত্রী ঘনিষ্ট পৌর কর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্য, পদত্যাগী চেয়ারম্যান গৌরীশংকর মাহেশ্বরীকেও একাধিকবার জেরা করলেও গ্রেপ্তার করে নি।
ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান কান্ডে মোট ১৫টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। তিন কর্মী গ্রেপ্তারের পর তাদের সইয়ের নমুনা কলকাতার ভবানী ভবনে পাঠানো হয়েছিল। পরে তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আরেক ইঞ্জিনিয়ার শৌভিক দাসের সইয়ের নমুনা পরীক্ষা করতে ভবানী ভবনে পাঠানো হয়েছিল। এরপরে সেই রিপোর্ট আর প্রকাশ্যে আসে নি। পুলিশও আদালতের সামনে কোন রিপোর্ট জমা দেয় নি।
Comments :0