তপন বিশ্বাস
উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার স্বপ্ন দেখেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গোয়ালপোখর- ২(চাকুলিয়া) ও গোয়ালপোখর-১ ব্লকের বহু মেধাবী পড়ুয়াকে। স্থানীয় অধিকাংশ হাইস্কুলে একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকায় প্রতিবছর মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের দূরের স্কুলে ভর্তি হতে হচ্ছে। আর্থিক অসুবিধা ও যাতায়াতের সমস্যার কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও কলা বিভাগে ভর্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
জানা গিয়েছে, গোয়ালপোখর- ২ ব্লক অর্থাৎ চাকুলিয়া থানা এলাকায় মোট ১৭টি হাইস্কুলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটিতে বিজ্ঞান বিভাগ রয়েছে। অন্যদিকে গোয়ালপোখর ব্লকের ১৬টি হাইস্কুলের মধ্যে মাত্র ৪টিতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে। ফলে প্রতিবছর বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী সমস্যার মুখে পড়ছে। এর পাশাপাশি যে কয়েকটি স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ চালু রয়েছে, সেখানেও শিক্ষক ও ল্যাবরেটরির ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় রসাখোয়া হাইস্কুলের ছাত্র মুন্তাজির আলম ৬৪১ নম্বর পেয়েছে। তার বাবা আবদুল আজিজ বলেন, “বাড়ির খুব কাছেই চাকুলিয়া হাইস্কুল। অথচ সেখানে এখনও বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়নি। ছেলেকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াতে গেলে দূরের স্কুলে পাঠাতে হবে।”
একই সমস্যার কথা শোনালেন চাকুলিয়া হাইস্কুলের ছাত্রী অজন্তা সিংহের বাবা নরেশচন্দ্র সিংহ। দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালানো তাঁর পক্ষে মেয়েকে দূরের স্কুলে পাঠানো কঠিন। তার প্রাপ্ত নাম্বার ৫৬০। তিনি বলেন, “মেয়ের বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছে। কিন্তু এলাকায় সুযোগ না থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”
গোয়ালপোখরের গোতি হাইস্কুল, ভেন্ডাবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকেরাও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বহু ছাত্রছাত্রী ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েও স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
চাকুলিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বাসুদেব দে জানান, “পরিকাঠামোগতভাবে স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা সম্ভব। তবে প্রধান বাধা হল পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা।” গোতি হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রঞ্জিত দাস বলেন, “এলাকার বহ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগ না থাকায় সেই স্বপ্ন অনেক সময় থেমে যাচ্ছে।”
এদিকে, উত্তর দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দেবাশিস সমাদ্দার জানিয়েছেন, “বিজ্ঞান বিভাগ চালুর জন্য অনেক স্কুল আবেদন করেছে। আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব মল্লিকা সাহা বলেন, “দ্রুত বিজ্ঞান বিভাগ চালুর পাশাপাশি পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ না হলে গ্রামীণ এলাকার মেধাবী পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। বিগত সরকার এলাকার শিক্ষার্থীদের কোমর ভেঙে দিয়েছে শিক্ষক নিয়োগ না করে। বর্তমান সরকার কী করে সেটাই দেখার।”
Comments :0