Pandua's cattle market

বন্ধের মুখে পান্ডুয়ার গরুর হাট, দেখা নেই ক্রেতার, কর্মহীন বহু মানুষ

জেলা

দেখা নেই ক্রেতার,বন্ধের মুখে পান্ডুয়ার গরুর হাট।

অভীক ঘোষ

১৯৪৫ সালে শুরু হয় পান্ডুয়ার গবাদি পশুর হাট। তখন থেকেই একটানা চলছে হাট। কিন্তু ২০২৬ সালের সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর এই হাট এখন প্রায় বন্ধের মুখে।

পান্ডুয়া হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরে জিটি রোডের পাশেই রয়েছে কয়েক বিঘা জায়গার উপর এই গবাদি পশুর হাট। বর্তমানে এই হাট প্রায় বন্ধের মুখে। হাতে গোনা কয়েকটা গরু রয়েছে হাটে কিন্তু তাও নেবার জন্য কোনও ক্রেতার দেখা নেই। এই হাটের উপর নির্ভর করেই চলত বহু পরিবার। কেউ গোবর থেকে ঘুটে তৈরি করে, আবার কেউ গরুকে জল খাইয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু এই হাটে গরু না আসায় কর্মহীন হয়ে পড়ছেন তারা। ফলে আগামী দিনে কী ভাবে তাদের সংসার চলবে সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকে। ঠিক তেমনি এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। কেউ লোন নিয়ে গরু কিনেছেন, কেউ আবার গাড়ির ব্যবসা সঙ্গে যুক্ত ফলে তারাও কর্মহীন হচ্ছেন। বিহার সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু আসতো এই হাটে। হুগলি সহ জেলার বাইরের ক্রেতারা এই হাটে গরু নিতে আসতেন। বর্তমানে হাট খোলা থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই।

ব্যবসায়ী শেখ লালবাবু, গোবিন্দ মল্লিক, ওমপ্রকাশ সাউ, সেখ জাহির আব্বাসরা বলেন, "কয়েক হাজার মানুষ এই হাটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। হাট প্রায় বন্ধ হবার মুখে। বাইরে থেকে কোনও গরু আসছে না। কোনও ক্রেতারও দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমরা চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছি। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবার ফলে চরম আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েছি, লোন নিয়ে গরু কিনেছিলাম কিন্তু তা এখন কী ভাবে শোধ করব, কী ভাবে পরিবার সামলাবো সেটাও বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আবেদন আমাদের রুজি-রুটির উপরে যেন আর আঘাত না আসে।"

গরু হাট মালিক মফিজুর রহমান বলেন, "হাট খোলা, কিন্তু কোনও ক্রেতা না আসায় প্রায় বন্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই হাট আমাদের সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত। সরকারি নির্দেশ রয়েছে হাট খোলা রাখতে কিন্তু হাট খোলা রাখলে পরেও গরু আসা যাওয়ার হচ্ছে না। প্রশাসন থেকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। ১৯৪৫ সালে থেকে চলছে এই হাট। এই হাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ যুক্ত আছে। পান্ডুয়ার অর্থনীতি অনেকটা নির্ভর করে এই হাটের ওপরে কিন্তু সেই হাট বন্ধ হওয়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছে।"


 

Comments :0

Login to leave a comment