তপন বিশ্বাস, ইসলামপুর
কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে গিয়ে মাত্র কুড়ি দিনের মাথায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার রাতে বিহারের দ্বারভাঙা জেলায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই ব্যক্তির বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘী ব্লকের রসাখোয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুর দাসপাড়া এলাকায়। বুধবার দুপুরে মরদেহ মহেশপুর গ্রামে পৌঁছায়।এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সঞ্জিৎ দাস ওরফে বিলাতু দাসকে গ্রেপ্তার করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসারের আর্থিক অবস্থা ফেরাতে প্রায় কুড়ি দিন আগে মহেশপুর দাসপাড়া থেকে বিহারের দ্বারভাঙায় একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করতে যান সঞ্জিৎ দাস। তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন স্ত্রী ফুলকুমারী দাস (৩০), আট বছরের মেয়ে সন্ধ্যা দাস, ছয় বছরের ছেলে হৃদয় দাস এবং চার বছরের ছোট ছেলে রোহন দাস। পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, ভিন রাজ্যে কাজ পেয়ে সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে কোনো একটি পারিবারিক অশান্তিকে কেন্দ্র করে আচমকাই হিংস্র হয়ে ওঠে সঞ্জিৎ দাস। পুলিশ সূত্রে খবর, পোল্ট্রি ফার্ম সংলগ্ন বাসস্থানে একটি লোহার রড দিয়ে প্রথমে স্ত্রী ফুলকুমারী দাসকে আঘাত করে সে। এরপর একে একে নিজের তিন শিশু সন্তানকেও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিহার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সঞ্জিৎ দাসকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক কলহ, মানসিক অস্থিরতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন।
এই নৃশংস ঘটনার খবর রসাখোয়া এলাকায় পৌঁছাতেই এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মহেশপুর দাসপাড়ায় সকাল থেকেই ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ফুলকুমারী দাস অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মহিলা ছিলেন এবং সন্তানদের নিয়েই তাঁর সমস্ত সময় কাটত। এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
Comments :0