দীর্ঘদিন ধরে বাজারে সবজির দাম আকাশ ছোয়া। দাম বেড়েছে চিনি থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল, আটা-ময়দা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব সামগ্রীর। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডালের দামও। মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছেন। কয়েকদিন আগেও বাজারে এক কেজি চিনি মিলতো ৫২-৫৩ টাকায়। এখন ৬৫-৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শুধু চিনি নয় ভোজ্য তেল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমাগত দামবৃদ্ধিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আগামীদিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা। ডাবল ইঞ্জজিন সরকারের ১১০ দিনে মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে। চিনির কালোবাজারি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিখানা সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। ইথানল’র কারণেই চিনি খোলাবাজারে ৮০ টাকা দরে বিকোচ্ছে এই দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। চিনি ও মুদিখানা সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে মঙ্গলবার একযোগে পুলিশ ও প্রশাসন বর্ধমান শহরের পাইকারী বাজার ও কাটোয়ার বিভিন্ন বাজারে আচমকা অভিযান চালায়। এদিন বর্ধমান বড় বাজার ও কাটোয়ার বড়বাজার, স্টেশন বাজার এবং রুদ্র মার্কেটের বিভিন্ন মুদিখানা দোকান ও গোডাউনে হানা দেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক, কৃষি দপ্তরের আধিকারিক এবং পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম হঠাৎ করে কেন বাড়ছে, বাজারে কৃত্রিমভাবে পণ্যের সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না এবং কোথাও বেআইনি মজুত বা কালোবাজারি চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। বিভিন্ন দোকান ও গোডাউনে গিয়ে মজুত সামগ্রীর পরিমাণ, চাল ও চিনির ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য এবং সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেন আধিকারিকরা।
পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিখানা সামগ্রীর বর্তমান বাজারদর সম্পর্কেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কোনও ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সামগ্রী বিক্রি করছেন কি না, কিংবা কৃত্রিমভাবে পণ্যের ঘাটতি দেখিয়ে বাজারে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও নজরদারি চালানো হলেও তাতে কোন লাভ হয়নি। মজুত মাল আটক বা কালোবাজারি কাজের সাথে যুক্ত কোন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। নগরবাসী বলছেন এটা সম্পূর্ণ আই ওয়াশ। মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রকৃত কারন পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, টাকার দাম কমে যাওয়া।ডাবল ইঞ্জিন সরকারের জনবিরোধী নীতির কারনেই মৃল্যবৃদ্ধি আকাশছাঁয়া। শুধু চিনি নয়, ডাল, তেল, বিস্কুট, মশলা সব কিছুরই দাম বেড়েছে লাগামছাড়া। তার সাথে বেড়েছে খোলাবাজারে চালের দামও। আদানি সহ বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা চালের বাজার দখলের কারনেই বাড়ছে বাঙ্গালীর ভাতের দামও।
এদিন প্রশাসনের আচমকা অভিযানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধুমাত্র একদিনের অভিযান নয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাকি আগামী দিনেও বিভিন্ন বাজার, দোকান এবং গোডাউনে এ ধরনের নজরদারি ও অভিযান চলবে। কালোবাজারি, বেআইনি মজুত বা কৃত্রিমভাবে পণ্যের সংকট তৈরির কোনও অভিযোগ সামনে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
Price Rise
চিনি সহ নিত্যপ্রয়োজনী সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, বর্ধমানে পুলিশের অভিযান
×
Comments :0