CPI(M) Protest Rally in Basirhat

এসআইআর-এ বিদ্ধ সামাজিক প্রকল্প, প্রতিবাদ বসিরহাটে মিছিল, ডেপুটেশন

রাজ্য জেলা

প্রবীর দাস: বসিরহাট

এসআইআর-এ বিদ্ধ, আবাস দুর্নীতির পাঁকে নিমজ্জিত, অন্নপূর্ণা যোজনা, বার্ধক্য ভাতা বিধবা ভাতা আয়ুষ্মান ভারত সহ সামাজিক প্রকল্পে চরম হয়রানির শিকার, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ইটিন্ডা পানিতর, গাছা আখারপুর, সংগ্রাম শিবাটী গ্রাম, বসিরহাট শহরের উপকণ্ঠে গোটরা নিমদাড়িয়া কোদালিয়া, শাকচূড়া বাগুন্ডি, পিফা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মধ্যবর্তী বসিরহাট পৌরসভার ২৩টি ওয়ার্ড। মাঝে বয়ে গেছে ইছামতি নদী।বালি মাফিয়াদের যথেচ্ছ বালি উত্তোলনে যার রূপ যৌবন অনেকটাই ম্লান। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ছড়িয়ে আছে বেহাল নিকাশি, রাস্তাঘাট, পানীয় জল সহ ভেঙে পড়া নাগরিক পরিষেবার নিদারুণ উপাখ্যান। পুলিশ প্রশাসনের শত বাধা উপেক্ষা করে এহেন পরিস্থিতিতে
মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা শাসকের কাছে সিপিআই(এম) নেতা বিশ্বজিৎ বসু, কিঙ্করকান্তি রায় ও সোনালী দাসের নেতৃত্বে ৭ জন প্রতিনিধি এবং প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা কালিদাস বিশ্বাস, নিমাই ঘোষ ও রূপেন রায়ের নেতৃত্বে ৭ জন প্রতিনিধি বসিরহাট-১নং ব্লকের বিডিওর কাছে একগুচ্ছ দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেয়। সিপিআই(এম) বসিরহাট দক্ষিণ -১ও২ এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে। এই উপলক্ষে এদিন বসিরহাট টাউনহল মাঠে পৌরসভার ২৩টি ওয়ার্ড এবং ১নং ব্লকের ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দলে দলে মানুষ প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়। বিজেপি হটাও দেশ বাঁচাও, বিজেপি হটাও রাজ্য বাঁচাও এই আওয়াজ তুলে মিছিল আসে বসিরহাট বোটঘাটে। সেখানে দাবিগুলির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজ্য নেতা তথা সারাভারত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়ন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক নিরাপদ সর্দার, শতরূপ ঘোষ, রাজীব বিশ্বাস, রাজু আহমেদ, দীপেশ চৌধুরী, আনিসুর রহমান।সভাপতিত্ব করেন প্রতাপ নাথ। নেতৃবৃন্দ বলেন, আক্রান্ত মেহনতি মানুষের যে লড়াই শুরু হয়েছে তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাল ঝান্ডা সজাগ এবং দায়বদ্ধ। তৃণমূল লাল ঝান্ডার মিছিল সভার অনুমতি দিত না। বিজেপি সেই একই পথে হাঁটছে। সরকার চাক না চাক আমরা আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাব ডবল ইঞ্জিন সরকারের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে। গোটা বাংলা জুড়ে চুরি, দুর্নীতি করে গেছে তৃণমূল। বসিরহাট পৌরসভার দিকে তাকান। চুরি চুরি আর চুরি। যে পৌরপ্রধান অদিতি মিত্রের নেতৃত্বে উন্নয়নের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করলো সেই পৌরপ্রধানের স্বামী সুরজিৎ মিত্রকে তৃণমূল বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করলো। মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গে এদিন নেতৃবৃন্দ বলেন, সুরজিৎ মিত্র সহ চুরি দুর্নীতি করে যারা বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছে সেই সমস্ত তৃণমূলের বিধায়কদের কার্যত বোগলদাবা করে চলছে শুভেন্দু অধিকারী। কেন? ভেন্দু অধিকারী জানে আমার স্থায়িত্ব কম। তাই ভালো তৃণমূল বিপুল সম্পত্তির মালিক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ববি হাকিম, জাভেদ খানদের বসিরহাটের সুরজিৎ মিত্রদের বোগলদাবা করে চলছে।ভুলে গেলে চলবে না শুভেন্দু তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছে। অথচ মানুষের মাথায় চাল নেই। মুখে ভাত নেই। রেশনের চাল গম চুরি করে পৌরসভার যাবতীয় উন্নয়নের টাকা চুরি করে বিপুল সম্পত্তির মালিক যারা হয়েছে কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না। কেন শুভেন্দু অধিকারী চুপ? এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাধারণ মানুষের সরকার যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন এই সমস্ত চোরেদের জেলে ঢোকাবে ওই সমস্ত সাধারণ মানুষ। নিতিন গড়করির ছেলে আখের রস থেকে ইথানল তৈরি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা ঘরে তুলেছে। আর বাজারে আশি টাকা কেজি দরে চিনি কিনতে হচ্ছে গরীব মানুষকে। 

আজ থেকে পাঁচমাস আগে রাজ্য যে জায়গায় ছিল, ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর চারমাসের মাথায় সেই একই জায়গায় রাজ্য। এরা সামান্য কলকাতায় ফুটপাতবাসীর মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা না করে তার বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নিচ্ছে। চোখ রাঙিয়ে দুধের বাটিতে লাথি মারছে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে বলেছিল। কিন্তু কী দেখছি আমরা? চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ কিছুই কমে নি। বরং বাড়ছে। জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।পঞ্চায়েতগুলি ভেঙে পড়েছে। প্রধান, মেম্বাররা পঞ্চায়েতের আসছেন না। দুর্নীতির দায়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের গ্রেপ্তার না করে আমলাদের হাতে পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা সঁপে দিচ্ছে। ফলে যাবতীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ৩৪ বছর বামফ্রন্ট সরকার পঞ্চায়েত রাইটার্স বিল্ডিং থেকে চালায় নি। গ্রামের গরীব মানুষ চালাতো পঞ্চায়েত। গ্রামের হাল পাল্টে গেল। গরীব মানুষ হাতে জমি পেল,১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে হাতে কাজ পেল, দুবেলা পেট ভরে খাওয়ার ব্যবস্থা হলো। কৃষক ফসল চাষে উৎসাহ পেল, খেতমজুররা সঠিক মজুরি পেয়ে সুখে সংসার অতিবাহিত করতে লাগলো। মহিলারা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে সাবলম্বী হলো। গরীব ঘরের ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আঙিনায় এলো। চালু হলো মিডডেমিল। আজ সব ধ্বংস করে দিয়েছে তৃণমূল। যারা শেষ করে দিল পঞ্চায়েতী ব্যবস্থা তাদের জেলে ভরতে শুভেন্দু অধিকারী পেরেছে?
সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ালে শাসক পিছু হটবে। বস্তিবাসী ফুটপাতবাসী সহ সব মানুষ মাথার উপর ছাদ পাবে, সবচোরেরা জেলে ঢুকবে। সমস্ত দুর্নীতির বিচার হবে। খুনি ধর্ষণকারীদের জায়গা হবে জেল। বেকার যুবকদের কাজের ব্যবস্থা হবে, জিনিসপত্রের দাম কমবে। প্রতিবাদের ঢেউ তুলতে হবে সোস্যাল মিডিয়া থেকে রাস্তাঘাট মাঠ ময়দানে। ভয় পাবেন না। সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন। আপনার যে হক লুট হয়ে গেছে তাকে পুনোরুদ্ধার করতে লালঝান্ডার মিছিলকে লম্বা করুন। লালঝান্ডা আপনাদের পাশে ছিল আছে থাকবে।

Comments :0

Login to leave a comment