BJP's mob attack in Falakata

‘দিমাগি নকশাল’ সিরিজে হামলা দিল্লি থেকে ফালাকাটায়, চলল প্রতিবাদও

জেলা

ভিন্ন স্বর দেখলেই উন্মত্ত ভিড়ের সন্ত্রাস নামবে। পরিকল্পনা করেই এই কৌশল নিয়ে চলছে বিজেপি। দিল্লি থেকে জয়পুর বা যাদবপুর, ইন্দাস থেকে ফালাকাটায় ধরা পড়ছে সেই কৌশলই। প্রধানমন্ত্রীর ‘দিমাগি নবকশাল’ ভাষণের পর থেকেই মাত্রা বাড়ছে আক্রমণের।
ফালাকাটায় বামপন্থীদের সভার মাঝে প্রকাশ্যে হামলা করেছিল বিজেপি। গত রবিবার, ২৩ আগস্ট, ওই হামলায় আহত হন বামপন্থী নেতা ও কর্মীরা। প্রতিবাদে সোমবার, ২৪ আগস্ট, মিছিল করে থানা ঘেরাও করেন বামপন্থী কর্মী ও সমর্থকরা।  
প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে তোয়াক্কা না করেই ফালাকাটা শহরে প্রতিবাদী জনতার ঢল নামে সোমবার। গত রবিবার রাতে বড়ডোবার জামতলা বাজারে সিপিআই(এম)’র পথসভা চলাকালীন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়।  গত সোমবার মিছিলে দাবি ওঠে হামলায় যুক্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার না করা হলে উত্তরবঙ্গ জুড়ে তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলন হবে। ফালাকাটার বড়ডোবার জামতলা বাজারে সিপিআই(এম)-র এই পথসভা আগে থেকেই ঠিক ছিল। সভার মাঝে হঠাৎ করেই বিজেপি আশ্রিত একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী লাঠি, রড ও দেশি অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। পরপর চেয়ার ভাঙতে থাকে। 
হামলায় বেশ কয়েকজন বাম নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন এবং মঞ্চ ও মাইক ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
সোমবার রাতে ফালাকাটা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছোট ছোট মিছিল যুক্ত হয়ে বিশাল চেহারা নেয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা শহর। ধিক্কার মিছিলটি ফালাকাটা শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা পরিক্রমা করে স্থানীয় থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকেরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হয়। হামলায় জড়িত সমস্ত দুষ্কৃতীদের নাম উল্লেখ করে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বাম নেতৃবৃন্দ ধিক্কার জানান শাসক শিবিরের যোগসাজশে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা আচরণের। 


গতকাল, সোমবার, দিল্লিতে ডিওয়াইএফআই রাজ্য কমিটির কোষাধ্যক্ষ রাহুল কিরাদের বাড়ি ঘিরে দেওয়া হয়েছে প্রাণে মারার হুমকি। চলেছে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। কিরাদ জাতগত সংরক্ষণের পক্ষ নিয়ে কয়েকদিন আগেই পোস্ট করেছিলেন সোশাল মিডিয়ায়। 
গত ১৫ আগস্ট, লালকেল্লা থেকে ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’-দের জব্দ করার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ককরোচ আনদোলনে নাকাল বিজেপি প্রতিবাদী স্বর দেখলেই আক্রমণে এই শব্দবন্ধকে হাতিয়ার করছে। 
এই সময়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলেছে তাণ্ডব। মেদিনীপুর কলেজেও হামলা চালায় এবিভিপি। আবার জয়পুরে সিজেপি’র প্রতিনিধিদল স্কুল দেখতে গেলে হামলা হয়। বাঁকুড়ার ইন্দাসে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচিতে নামায় সিজেপি কর্মী আবদুল হাফিজের বাড়িতে হামলা হয়। আহত হয়ে মারা যান হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ তীব্র হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment