BJP

কলকাতা পৌরভোটে দায়িত্বে সুকান্ত, হাওড়ায় রাহুল সিনহা

রাজ্য কলকাতা

কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে দায়িত্ব দিল বিজেপি। তাকে সহযোগিতা করবেন দলের রাজ্য সহ-সভাপতি অনিন্দ্য ব্যানার্জি (রাজু)। অন্যদিকে, হাওড়া পৌরসভা নির্বাচনের জন্য প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দলের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত করা হয়েছে সুকান্ত মজুমদারকে। সহ-দায়িত্বে থাকবেন অনিন্দ্য ব্যানার্জি। মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়কে আহ্বায়ক এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারিকে সহ-আহ্বায়ক করা হয়েছে।
হাওড়া পুরনিগমের জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাহুল সিনহাকে। বালি বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিংকে করা হয়েছে আহ্বায়ক।
এই দায়িত্ব বন্টনের মধ্য দিয়ে কলকাতা ও হাওড়া পৌরভোটকে সামনে রেখে বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলো রাজ্যের শাসক দল। এখনও ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও চলতি বছরের শেষ দিকে উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার পর দুই পৌরসভায় নির্বাচন হতে পারে বলে রাজ্য সরকারের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘দলের পক্ষ থেকে ধাবিত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের বোর্ড শহরকে শেষ করে দিয়েছিল। সেই জায়গা থেকে কলকাতার ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের লক্ষ।’
ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পৌরসভা ভেঙে গিয়েছে। বর্ষায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। বিভিন্ন জায়গায় ‘সেবক’ হিসাবে কাজ করছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের কথায়, মানুষের যাতে কোন সমস্যা না হয় তাই তারা পৌরসভাকে বলে এই কাজ গুলো করছেন।  
গত ১২ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দুটি সংশোধনী বিল পাশ হয়। সংশোধিত আইনে কলকাতা পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ এবং হাওড়া পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার প্রস্তাব রয়েছে।
মঙ্গলবার বিধাননগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে কলকাতা পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকার দলীয় নেতৃত্ব ও বিধায়কদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনসল, রাজ্য সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী এবং সুকান্ত মজুমদার-সহ দলের শীর্ষ নেতারা।
কলকাতা পুরভোটে সুকান্ত মজুমদারকে দায়িত্ব দেওয়াকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দলের একাংশ। নির্বাচনী প্রচার, ইস্তাহার তৈরি, প্রার্থী বাছাই-সহ সামগ্রিক প্রস্তুতি তার নেতৃত্বাধীন কমিটির তত্ত্বাবধানে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২১ সালের কলকাতা পুরভোটে ১৪৪টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সেই ভাবে তারা দাগ কাটতে পারেনি। ভোট শতাংশের নিরিখে তৃতীয় স্থানে ছিল তারা। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বামফ্রন্ট। তৃণমূল ১৩৪টি ওয়ার্ডে জয়ী হলেও বিজেপির ঝুলিতে আসে মাত্র ৩টি আসন। ভোটের হার ছিল প্রায় ৯.২১ শতাংশ।
তবে আসন্ন পুরভোট হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সরিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ফলে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটে শাসকদল হিসেবে বিজেপির প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

Comments :0

Login to leave a comment