Chakdaha

বেআইনি ভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগ

জেলা

নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিনের আলোয় জাতীয় সড়কের পাশে পুকুর ভরাটের অভিযোগ! চাকদহের চার বিঘা জলাশয় ( মুক্তার পুকুর ) ভরাট চলছে প্রকাশ্যে দিনের আলোয়। প্রশাসন নির্বিকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণায় পরেও পুরো দমে চলছে ভরাট।
চাকদহ থানার জয়কৃষ্ণপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি বড় পুকুর বোজানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।  
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে প্রায় চার বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত ‘মুক্তার পুকুর’ যা সমগ্র জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহদাকারের জলাশয় হিসেবে পরিচিত সেই জলাশয়টি বোজানোর বা ভরাট করার কাজ এখনও চলছে। তাদের অভিযোগ এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় প্রোমটাররা যুক্ত রয়েছেন। বিষয়টি বন্ধ করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা চাকদহের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে জানানো হয়েছে। অভিযোগ, পুকুরের পাড়ে ফেলা নোংরা আবর্জনা ও বিভিন্ন বর্জ্য ধীরে ধীরে পুকুরের ভিতরে ফেলে তা ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ এই জলাশয়টি এলাকার পরিবেশ ও জলনিকাশির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই পুকুরেই এলাকার বহু মানুষ সাঁতার শিখেছেন। পাশাপাশি বর্ষাকালে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বৃষ্টির জল এসে এই পুকুরে জমা হয়। ফলে জলাশয়টি এলাকার জলাবদ্ধতা ও প্লাবন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে বর্ষার সময়ে জলমগ্নতার সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
চাকদহ বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি বিবর্তন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্যের বিজ্ঞান, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের থেকে বারবার পুকুর ভরাট না করার কথা বলছেন। তাঁর বক্তব্য সরকার বদলের পরেও  সরকারি নির্দেশ-প্রশাসনের নজরদারিকে উপেক্ষা করে মুক্তার পুকুর বোজানোর কাজ চলছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’ চাকদহের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কর্মী নারায়ণ দাসগুপ্ত বলেন, ‘‘আমরা এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে যে-ই যুক্ত থাকুক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’’
চাকদহ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুকুর ভরাটের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দফতরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে ইতিমধ্যেই পুকুর বোজানোর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এই পুকুরটি এখনও ভরাট করার কাজ রীতিমতো চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুকুর ভরাটের এই অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় পরিবেশ রক্ষা এবং জলাশয় সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কী উঠে আসে এবং পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সাধারণ মানুষের দাবি আগের মত যেমন পুকুর ছিল সেটি ফিরিয়ে আনা হোক।

Comments :0

Login to leave a comment