Md Salim Kidderpore

স্বাধীনতার দিনে হুজ্জুতি, খিদিরপুরে সঙ্ঘ- বিজেপিকে জবাব জনসভায়

রাজ্য কলকাতা

খিদিরপুর মোড়ে জনসভায় মহম্মদ সেলিম।

আজাদীর মানে কথা বলার স্বাধীনতা, রোজগারের স্বাধীনতা, জীবিকার স্বাধীনতা। আর ব্রিটিশের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া স্বাধীনতাকে রক্ষা করার শপথ নিতে হয় ১৫ আগস্ট। আজ ফ্যাসিবাদের হাতে স্বাধীনতা বিপন্ন।
খিদিরপুরে জনসভায় একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। 
এখানে মসজিদ, মন্দির, চার্চ রয়েছে এই মোড়ে। এটাই ভারত। যারা আদানি আম্বানির পয়সায় ভোট করে তারা লুটের ব্যবস্থা করে। জনতাকে লুট করে। জনতার মধ্যে বাটোয়ারা করে। 
সেলিম বলেন, নদী ভাঙনের শিকার যারা তাঁদের জন্য কি হচ্ছে, যারা সরকারি চাকরি পায়নি, দুর্নীতির জন্য, তাঁদের জন্য সরকার কি করছে। এই প্রশ্ন আমাদের তুলতে হবে ভোটের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির কি হলো? 
জিনিসপত্রের দাম জনতার নাগালের বাইরে। পেঁয়াজ থেকে চিনির দামে আগুন। আর বিজেপি সারা দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছে বিজেপি। যাতে জনতার কাছে জবাবদিহি এড়ানো যায়। 
কবিতীর্থ এবং কার্ল মার্ক্স সরণির মোড়ে জনসভায় একথা বারবার বলেছেন  সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। খিদিরপুর জমজমাট এই এলাকায় ফুটে ছোট জীবিকা চালান তাঁরা তাঁদের হিমশিম খাওয়া জীবনের কথা বলছেন এক কথায়। সেখানে হয়েছে সমাবেশ।
রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা, রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা এবং মনীষীদের অবমাননার প্রতিবাদে হয় এই সমাবেশ।
সভাপতিত্ব করেন গৌতম রায়। বক্তা মহম্মদ সেলিম, কল্লোল মজুমদার, ফৈয়াজ আহমেদ খান। 
ছিলেন সব অংশের বাসিন্দারা। চাকরিজীবীরা যেমন ছিলেন। তেমন ছিলেন দিনমজুর মানুষ। 
স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন এলাকায় হুজ্জুতি হয়েছে। নেতাজির ছবি রেখে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করার কথা ছিল। মানুষ এসেছিলেন। আরএসএস বিজেপি বাহিনী হুজ্জুতি চালিয়েছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে। এসে পতাকা তোলার কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে। 
এলাকার সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে খিদিরপুর, একবালপুর, ওয়াটগঞ্জ ইতিহাস আছে। পরম্পরা আছে। সরকার যাবে আসবে কিন্তু সম্প্রীতি মজবুত রাখতে হবে।
মহম্মদ সেলিম বলেন, 
১৫ আগস্ট দেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। এখানে কিছু বজরঙ্গি, সঙ্ঘী মনে করেছে সবাই এই দিন পালন করতে পারবে না।
তিনি বলেন, এরাই সেদিন ব্রিটিশের দালালি করেছিল। আজ আমেরিকার জন্য দেশের কৃষি, শিল্পের বাজার খুলে দিচ্ছে। ওদের স্বাধীনতা পালনে আপত্তি তো থাকবেই। তিনি বলেন, হিন্দুস্তানিতে স্বাধীনতাকে আজাদী বলে। এদের কে বোঝাবে? এই আজাদীর জন্য কত প্রাণ গিয়েছে। আজাদীর পর সংবিধান হয়েছে। সব নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে সংবিধান। 
তিনি বলেন, একজন পনের বছরে নিজেকে সম্রাজ্ঞী ভেবেছিল। আসলে কেউ মালিক না। কাল যে পুলিশ তৃণমূলের চামচা ছিল, তারা এখন বিজেপি’র চামচা। 
তিনি বলেন, এদের রাজনীতি বিভাজনের। ধর্ম, ভাষা, অঞ্চলের নামে বিভাজন। যারা নিজেরা আজাদী স্বীকার করেনি তারা এখন আজাদী শেখাচ্ছে। বলছে দরিদ্র, মূল্যবৃদ্ধি থেকে আজাদীর স্লোগান আজ তোলা হচ্ছে কেন? এখানে আজাদীর মানে মুক্তি। আমরা মমতা-অভিষেকের গুলামি থেকেও তো আজাদীর কথা বলেছিলাম। এসব বিজেপি বলবে না।
তিনি বলেন, ইথানল মিশিয়ে বিজেপি এখন ই-টোয়েন্টি।  এসব কথা সামনে আনতে চায় না বলে মন্দির-মসজিদ করে।
তিনি বলেন, আজাদীর মানে, কথা বলার স্বাধীনতা, রোজগারের স্বাধীনতা, জীবিকার স্বাধীনতা। আর ব্রিটিশের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া স্বাধীনতাকে রক্ষা করার শপথ নিতে হয় ১৫ আগস্ট। আজ ফ্যাসিবাদের হাতে স্বাধীনতা বিপন্ন। তাকে রক্ষা করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment