মূর্তি ভাঙার রাজনীতি, বিভাজনের রাজনীতি করে সরকার চালায় বিজেপি। এরা বেকারি, জিনিসের দাম, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করে না। বৃহস্পতিবার খিদিরপুরের সভা থেকে এমনটাই বললেন, সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার।
তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম জনতার নাগালের বাইরে। পেঁয়াজ থেকে চিনির দাম আগুন। আর বিজেপি সারা দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছে। যাতে জনতার কাছে জবাবদিহি এড়ানো যায়। কবিতীর্থ এবং কার্ল মার্ক্স সরণির মোড়ে জনসভা করেছে সিপিআই(এম)। খিদিরপুর জমজমাট এই এলাকায় ফুটপাতে ছোট জীবিকা চালান, তাঁরা হিমশিম জীবনের কথা বলছেন এক কথায়। রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা, রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা এবং মনীষীদের অবমাননার প্রতিবাদে হয় এই সমাবেশ।
এইদিনের সভার সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) নেতা গৌতম রায়। এদিনের সভার বক্তারা হলেন, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, , রাজ্য কমিটির সদস্য ফৈয়াজ আহমেদ খান। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন সব অংশের বাসিন্দারা। চাকরিজীবীরা যেমন ছিলেন। তেমন ছিলেন দিনমজুর মানুষও।
নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতা দিবসের দিন এলাকায় হুজ্জুতি হয়েছে। নেতাজির ছবি রেখে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করার কথা ছিল। মানুষ এসেছিলেন। আরএসএস বিজেপি বাহিনী হুজ্জুতি চালিয়েছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে। এসে পতাকা তোলার কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে। খিদিরপুর, একবালপুর, ওয়াটগঞ্জ ইতিহাস আছে। পরম্পরা আছে। সরকার যাবে আসবে কিন্তু সম্প্রীতি মজবুত রাখতে হবে।
এদিন কল্লোল মজুমদার বলেন, ১৫ বছরের সরকারের কোনও নীতি ছিল না। তাই এই সরকার আসীন। কাটমানি, কমিশনের সরকার চলেছে। সবাই দেখেছেন। চাকরি দুর্নীতি হয়েছে, আক্রান্তরা বিচার পাইনি। তিনি বলেন, নতুন সরকার এলো। সর্ষের তেলের দাম বাড়ছে। চিনি চল্লিশ থেকে সত্তর। গ্যাসের কেওয়াইসি না করা থাকলে বেশি দামে কিনতে হবে। এখন বলছে ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেখবে। মমতার তানাশাহী দেখেছি। এখন জাহাজ ডুবছে। ইঁদুররা ঝাঁপ মারছে। অনেকে বলেছিল, লেফটের শক্তি নেই। আজ লেফট আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তিনি বলেন, স্লোগান উঠেছিল, আগে রাম, পরে বাম। তিন মাসের মধ্যে হকাররা বুঝেছেন কাকে আনা হয়েছে। বেআইনি নির্মম উচ্ছেদ হয়েছে। কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে তো শ্রমিককে হকার হতে হয়েছে।
রাতে পার্টি অফিসের জানালার কাচ ভাঙে। আমরা বামপন্থীরা ভয় পেয়ে ঘরে ঢুকে যাচ্ছি না। মূর্তি ভাঙার রাজনীতি, বিভাজনের রাজনীতি করে বিজেপি সরকার চালায়। এরা বেকারি, জিনিসের দাম নিয়ে, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করে না। সেই সময়েই ক্ষোভ বেরিয়ে পড়ল কোকরোচ জনতা পার্টির নামে। শিক্ষা মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হলো। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দমিয়ে রাখতে পারবেন না।
ফৈয়াজ আহমেদ খান বলেন, স্বাধীনতার লড়াইয়ে যারা যোগ দেয়নি তাদের তো এই ইতিহাস খারাপ লাগবেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘শুক্রবারিরা’ করেছে। গুন্ডা দমন আইন, আমরা বলেছিলাম আইন দমন করব। ভারতের ইতিহাস বিকৃতি করছে। লেনিনের চিঠি, নেহেরুর চিঠি ছাড়ছে। বলছে আজাদী লিজ দিয়েছে। এই করছে। দেশ জানে নেতাজী মানে সুভাষ বসু। ওদের তাতে আপত্তি। ছাত্ররা স্কুলের দাবি করবে তাতে ভয়। বিহারে পাঁচ বছরের বাচ্চাকে গ্রেপ্তার। রাজস্থানে স্কুলে ঢোকাই বারণ করছে। ওরা ভয় পেয়েছে। আমাদের লড়াই চলবে।
গৌতম রায় বলেন, ষোল জনের প্রাণ চলে গেল তারাতলাতে। গুদামে ভেঙে পড়ল। মুখ্যমন্ত্রী কর্পোরেশনের তৃণমূল বোর্ডকে দায়ী করলেন। আর প্রাক্তন মেয়রকে আশ্রয় দিলেন। রান্নার গ্যাস সাড়ে চারশো টাকায় দেবেন। উলটে চড়ছে দাম। সদ্যোজাত শিশু হাসপাতালে মারা যাচ্ছে। কোনো কিছুতেই হেলদোল নেই সরকারের।
Comments :0