Nepal Flash Flood

নেপালের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯, চলছে উদ্ধার কাজ

আন্তর্জাতিক

নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবীঘাট গ্রাম কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢাকা।

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৫৭৯ হয়েছে। তিব্বত অঞ্চলের ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজের সংখ্যা এখনও ১ হাজার ৯২৪ জন। তবে নিখোঁজের এই তালিকা এখনও চূড়ান্ত নয়। হড়পা বানের পর নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৫ জন দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের পুলিশ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে নিখোঁজ বিদেশিরা ৩৬টি দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৬২ জন ইউক্রেনীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া নেপালের ১৪৯ জন নাগরিকও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে ৮৬ জন নিরাপত্তা কর্মী, ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারি তথ্যে আরও জানানো হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১ হাজার ৫৪৫ জন আহত ও আটকা পড়া মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ৮৪ জন কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নেপাল প্রশাসনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শুক্রবার সন্ধ্যার পর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জন। প্রতিবেশী তিব্বত অঞ্চলের ৫ জনের মৃত্যু যোগ হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জন।
আজও চলছে উদ্ধার অভিযান। উদ্ধারকারীরা কাদা-পাথরের স্তূপ সরিয়ে প্রতি মুহূর্তেই উদ্ধার করছেন একের পর এক দেহ। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল ও আশপাশের নদী এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৫৪৭ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই বিপর্যয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৭৩ জন।
ভয়াবহ হড়পা বানের পর এখন নেপালজুড়ে শুধুই ধ্বংসের ছবি। প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও বাড়ি ঘর জলের তোরে ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মৃতদেহ এলাকা থেকে বহু দূরে বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে যায়। প্রবল কাদা-পাথরের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে নেপাল সীমান্তের বিস্তৃত এলাকা। ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যমগুলিতে সেই ভয়াবহতার দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বুধবার থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার কাজ চলছে। সরকারিভাবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৮৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে; নিখোঁজ রয়েছেন এখনও ১ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষ।
রাসুয়া ছাড়াও নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান ও নাওয়ালপরাসি জেলা থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে যে আটটি জেলা থেকে মোট ৫৭৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ান জেলা থেকে ২৩৩টি, পূর্ব নাওয়ালপরাসি থেকে ১৫৪টি, গোর্খা থেকে ৪৬টি এবং ধাদিং থেকে ৪০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নুয়াকোট থেকে ৩৭টি, তানাহু থেকে ৩০টি, পশ্চিম নাওয়ালপরাসি থেকে ২৭টি এবং রাসুয়া থেকে ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পৃথকভাবে চীনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবরে জানানো হয়েছে, নেপালের সেনা বাহিনী ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলের ভেতরে আটকে পড়া শতাধিক মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। কিন্তু এলাকাটি জুড়ে থাকা কাদার স্তর উদ্ধার অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বসনেট বলেন, ‘‘আমরা দুটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছি, কিন্তু টানেলের প্রবেশপথটি চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’’

Comments :0

Login to leave a comment