Hooghly Dhaniakhali

একই পরিবারের তিনজনের দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য ধনিয়াখালিতে

জেলা

একই পরিবারের তিনজনের রহস্য মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ধনিয়াখালিতে। সিলিং ফ্যান থেকে উদ্ধার হয় স্বামী, স্ত্রী ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ। ঘরের দেওয়ালে লেখা ‘‘আমাদের ৩ জনের মৃত্যু জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, টিঙ্কু, মেয়ে, জামাই।’’ সুইসাইড নোট অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথ মুর্মু সহ ৪ জনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমান সংগ্রহের জন্য খবর দেওয়া হয়েছে ফরেন্সিক আধিকারিকদের। 
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুগলির ডানকুনির বাসিন্দা বাবা উত্তম চাঁই(৫২), মা রুপা চাঁই(৪৫), মেয়ে অঙ্কিতা চাঁই(১৭) গত চার মাস আগে ধনিয়াখালির সোমসপুর দুলেপাড়ায় একটি বাড়িতে ভাড়া আসেন। এলাকায় সে ভাবে কারোর সাথে মেলামেশা ছিল না পরিবারের সদস্যদের। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশীরা কাউকে দেখতে না পেয়ে বাড়ির মালিককে খবর দেয়। বাড়ির মালিক এসে পুলিশকে খবর দেয়। তারপরেও ডেকে সারা না পেয়ে ভিতর থেকে বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে পুলিশ। একটি ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে একসাথে তিনজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরের একাধিক দেওয়ালে একাধিক সুইসাইড নোট লেখা ছিল বলে জানিয়েছেন হুগলী জেলা গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং। সেখানে রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, রিঙ্কু, মেয়ে,জামাই সহ একাধিক মানুষের নাম লেখা ছিল।


ঘটনার পর এলাকায় আসেন হুগলী জেলা গ্রামীণ পুলিশের উচ্চপদস্থ তদন্তকারী আধিকারিকরা। আশেপাশের মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এবং বাড়িটি সিল করে দেন। বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ ৪ প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায়, মধুমিতার মা টিঙ্কু ওরফে ইন্দ্রানী সিংহ রায়, এবং মধুমিতার স্বামী জয় সিংহ রায় কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। 
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অর্থ ও বাড়ি আদান প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অন্যদিকে খবর পেয়ে ধনিয়াখালি হাসপাতালে আসেন মৃতের আত্মীয়রা। সোমসপুর এলাকার এক প্রতিবেশী ঝুলন মালিক জানান, সাড়া না পাওয়ায় পুলিশ আসে। তারপর মৃতদেহ ভিতর থেকে বার করা হয়। বলছিল গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেছে। সবাই বলছে দেওয়ালে কিছু লেখা আছে। ধনিয়াখালি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ধীরেন্দ্রনাথ দাস জানান, শুক্রবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে তিনজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। সম্ভবত এরা এক ই পরিবারের সদস্য। আমরা মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাচ্ছি। তার আগে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment