দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তির বাড়াবাড়ি চলছে। এখন রাজ্যেও ফ্যাসিস্ট কায়দায় আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনে এই শক্তিকে মোকাবিলার বিষয়টি চর্চা করবে গভীরভাবে।
শুক্রবার কলকাতায় সিপিআই(এম) রাজ্য দপ্তর মুজফ্ফর আহ্মদ ভবনে একথা জানিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি।
আগামী শনি ও রবিবার, ২৯-৩০ আগস্ট, কল্যাণী ঋত্বিক সদনে হবে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। অধিবেশনকে ঘিরে এলাকার নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নামে। মঞ্চের নামকরণ হয়েছে প্রয়াত পলিট ব্যুরো সদস্য এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে।
এই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘‘রাজ্য সম্মেলনে গৃহীত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলি জেলায় বা রাজ্যে কতটা বাস্তবায়িত হলো তাই ‘মিড টার্ম রিভিউ’ করে দেখা হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তির বাড়াবাড়ি চলছে। এখন রাজ্যেও ফ্যাসিস্ট কায়দায় আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। কিভাবে পুজোপাঠ করা হবে সেসব বলা হচ্ছে। যাদবপুরে র্যাম্প তৈরি করা হয়েছে, সেখানে কিভাবে হাঁটা হবে তা ঠিক করা হচ্ছে।’’
সেলিম বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ে তান্ডবের ঘোষণা করলেন যাদবপুরের এমএলএ। বাচ্চারা দুধ খাবে কি না তাও ঠিক করে দিচ্ছেন বিধায়িকা। দেশে ছাত্রদের উপর পেলেট গান চালানো হচ্ছে। বিহারের বাচ্চাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হুমকি দিচ্ছেন তিন প্রজন্ম পর্যন্ত জেলে আটকে রাখবেন। এই ধরণের ঘটনা আমরা দেশে দেখেছি, এখন রাজ্যেও ছাত্র-যুব, মহিলাদের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে।"
সেলিম বলেন, "মানুষকে বাদ দেওয়ার কৌশল করেছে রাজ্য সরকার। ভোটের আগে সকলের জন্য অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেবে বলেছিল। এখন কতজনকে বাদ দেওয়া যায় তার হিসাব করছে। ‘ডেমোগ্রাফিক মিশন’ চালাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার, জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে চাইছে। ফ্যাসিস্টরা বৈচিত্রকে ভয় পায়। বৈচিত্রকে উদ্যাপন করার বদলে মানুষের মধ্যে তা নিয়ে ভয় তৈরি করে। বিজেপি তাই করছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। আগের সরকারের আমলে বিরোধী শূন্য করার রিহার্সাল চলছিল। আরএসএসের নির্দেশে এখন সেটাই মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।’’
সেলিম বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্টের সঙ্গে চুক্তি করে কৃষিক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। দুর্নীতি নিয়ে সরকার কোনও পদক্ষেপ করছে না। রাজ্যে বিজেপি সরকার ১০০ দিন উদ্যাপন করছে। কিন্তু মানুষের জীবন যাপন কি ভাবে হবে সেটা নিয়ে কোনও কথা নেই সরকারের মুখে।"
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্ট আক্রমণ প্রসঙ্গে এদিন সেলিম বলেন, "কোনও ফ্যাসিস্ট শক্তিই কেবল সরকার দখল করে ক্ষান্ত থাকে না। যেখানে যুক্তি, বুদ্ধি, গবেষণা হয় সেখানে আঘাত করা হয়। একাডেমিতে গেরুয়া রং করা হচ্ছে কেন? চিনির দাম বাড়ছে। রেশন বন্ধ করে মানুষের পেটে লাথি মারছে। বেকারদের কাজ নেই। মানুষের হৃদয়, মস্তিষ্ক, পেটকে তারা আঘাত করছে। সরকার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারছে না। দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়কে শেষ করতে চাইছে। আমাদের নবজাগরণ, স্বাধীনতা আন্দোলন, বাম আন্দোলন, সংস্কৃতি আন্দোলনকে ওরা শেষ করতে চাইছে। তাই যাদবপুরে আক্রমণ।’’
যাদবপুরের হোস্টেলে কিষেণজী প্রসঙ্গে লেখার বিষয়ে এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, "সিপিআই(এম)-কে শেষ করতে মাওবাদী কিষেনজীকে ব্যবহার করেছিল তৃণমূল। মমতা-শুভেন্দু মাওবাদীদের রাজ্যে ঢুকিয়েছিল। সংঘ পরিবার পিছন থেকে সাহায্য করেছিল।"
এদিন কর্পোরেশন ভোটের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে সেলিম বলেন, "ওয়ার্ড পুনর্গঠনের নাম করে যা করা হচ্ছে তা একটা প্রশাসনিক পদক্ষেপ। কোনও সর্বদলীয় বৈঠক হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর ডাকা হয়েছে সর্বদলীয় বৈঠক। পুনর্বিন্যাসের আগে বৈঠক করতে হয়। পৌরসভা, পঞ্চায়েতে স্বায়ত্তশাসন চলে। এই সরকার পঞ্চায়েত পৌরসভাকে শেষ করে দিয়েছে। আমরা নাগরিক পরিষেবার দাবিতে রাজ্য জুড়ে আন্দোলন করছি।’’
MD Salim on the extended session.
রুখতে হবে দেশে-রাজ্যে ফ্যাসিস্ট আক্রমণকে, বর্ধিত অধিবেশন প্রসঙ্গে সেলিম
মুজফ্ফর আহমদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম ও এম এ বেবি।
×
Comments :0