M A Baby in Kolkata

পতনের দিন গুনতে শুরু করেছে মোদী সরকার

রাজ্য কলকাতা

এম এ বেবি।

কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার পতনের দিন গোনা শুরু করেছে। তীব্র আন্দোলনের চাপে শিক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ তার সূচক। মোদী নিজেকে অপরাজেয় ভাবতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ছাত্র-যুব-মহিলা-শ্রমিক-কৃষকরা আন্দোলনে নামলে এই সরকার পিছু হটতে বাধ্য।
শুক্রবার কলকাতায় মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভবনে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। আগামীকাল, ২৯ আগস্ট থেকে দু’দিন কল্যাণীতে সিপিআই(এম)’র বর্ধিত অধিবেশনে যোগ দিতে এসেছেন তিনি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও।  
বেবি বলেন, এর আগে কৃষক আন্দোলন এই সরকারকে বাধ্য করেছিল দাবি মানতে। বিরোধী সংসদের বার করে দিয়ে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সংসদের অধিবেশনে পাশ করানো হয়েছিল তিন কৃষি আইন। সেই আইন ফিরিয়ে নিতে সরকারকে বাধ্য করেছিল দীর্ঘমেয়াদী কৃষক আন্দোলন। 
বেবি বলেন, বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভায় তিন দশক পর বিজেপি হেরেছে। বিজেপি শুধু মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেনি। রাম নিয়ে রাজনীতি করেছে। মনে রাখা দরকার, গত লোকসভা নির্বাচনে অযোধ্যায় বিজেপি হেরেছিল রাম মন্দির হওয়ার পরেও। এখন রাম মন্দিরে প্রণামী চুরি সামনে এসেছে। 
বেবি বলেন, মোদী সরকারের পতনের দিন গোনা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলায় প্রথমবারের মতো তারা সরকার করেছে। কলেজের সব পরিচালন সমিতির মাথায় বিজেপি নিজেদের লোক বসিয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রকে তারা কব্জা করতে চাইছে। জেএনইউ, যাদবপুরে তারা হামলা করেছে। আমাদের সব অংশের মানুষের কাছে এই বিপদের বার্তা নিয়ে যেতে হবে। 
তিনি বলেন যে দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপি’র আন্দোলনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি ছিল। তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়া ব্লক’-কে ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সেই বাস্তবতা আছে। কিন্তু সচেতন থাকতে হবে যাতে বিজেপি-আরএসএস তার সুযোগ না নিতে পারে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিচার করে ‘ইন্ডিয়া’-কে কাজ করতে হবে। 
পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ রাজ্যে প্রগতিশীল আন্দোলনের ভূমি। আমরা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। আরও মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি। শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজ্যের নেতৃত্ব এগচ্ছে। তিনি বলেছেন যে সেপ্টেম্বরে কেরালায় রাজ্য কমিটির বর্ধিত সভা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি স্থির করেছিলে যে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে গত এপ্রিলে, তার প্রতিটিতে বর্ধিত অধিবেশনে বিশদ পর্যালোচনা চূড়ান্ত করা হবে।  
বেবি বলেন, বেকারত্ব প্রতিদিন বাড়ছে। জিনিসের দাম বাড়ছে। সংখ্যালঘুদের ওপরও বাড়ছে আক্রমণ। এই সবকিছুকে পার্টি গুরুত্ব দেবে। এরাজ্যে নির্বাচনের সময় বিজেপি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সবাইকে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আমার এই সব বিষয় নিয়ে আন্দোলনে যাবো। এই নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তির মোকাবিলার করতে সব বামপন্থী শক্তির এক হওয়া দরকার। এছাড়া বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ধর্ম নিরপেক্ষ শক্তিকে এক করার কাজ চালাচ্ছে সিপিআই(এম)।

Comments :0

Login to leave a comment