Rakhi Bandhan event held in Raniganj

বিভাজনের প্রতিবাদে সম্প্রীতির বার্তা দিতে রাখিবন্ধন কর্মসূচি পালন রানিগঞ্জে

জেলা

ছবি- রানিগঞ্জে রাখিবন্ধন কর্মসূচি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভাজনের প্রতিবাদ এবং সম্প্রীতির বার্তা দিতে রাখিবন্ধন কর্মসূচি পালন করে সিপিআই(এম) রানিগঞ্জ এরিয়া কমিটি। শুক্রবার বিকেলে রাজারবাঁধ মোড়ের পথের দু’ধারে মানুষজনকে রাখি পরানো হয়। রাখি পরিয়ে তাদের মিষ্টি খাওয়ানো হয়। সম্প্রীতির শহর রানিগঞ্জ দাঙ্গার আগুনে জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে গিয়েছিল। তার আঁচ স্পর্শ করেছিল সম্প্রীতির পরিবেশেও। লালঝাণ্ডা নিয়ে মানুষ পথে নেমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা দিয়েছিল। আরএসএস বিজেপি বারবার ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে হিংসার রাজনীতি করে মানুষের ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করে চলেছে। বিজেপি ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে। বিভাজনের বিরুদ্ধে খনি শিল্পাঞ্চল লড়াইয়ের ময়দানে আছে। এদিন সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক রুনু দত্ত, বীরযু যাদব, হেমন্ত প্রভাকর, নদিম আনসারি বলেন, রাখি একটা প্রতীক মাত্র— সম্প্রীতির প্রতীক। কবিগুরুর ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে একদিন যেমন ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি ব্রিটিশ শক্তিকে মাথানত করাতে সক্ষম হয়েছিল, আজ আমরাও তেমনি হৃদয়ের রাখিবন্ধনের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ শক্তিকে পরাস্ত করব। গড়ে তুলব সম্প্রীতির পরিবেশ। মহম্মদ আনিসের হাতে রাখি পরিয়ে দেয় সাধনা পাশোয়ান, রাজেশ মাহাতোর হাতে রাখি বেধে দেয় জুুুলেখা বেগম।
রানিগঞ্জে শিল্প কারখানা বন্ধ হচ্ছে। কয়লাখনি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। রুটি রুজি আক্রান্ত। প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। পার্টি নেতা সুপ্রিয় রায় বলেন, এই রাখিবন্ধন কর্মসূচি, সাম্প্রদায়িক প্রবণতাকে তোষণ আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতির হিংস্র সংঘবদ্ধতায় রাষ্ট্রীয় মদতের বিরুদ্ধে ঐক্যের শপথ। ধ্বংসের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পুনর্গঠনের সমবেত লড়াই। প্রাক্তন বিধায়ক ও পার্টিনেতা রুনু দত্ত বলেন, এবারের রাখি বন্ধন হোক জীবন ও জীবনসংগ্রামকে জিতিয়ে দেওয়ার সমবেত দায়বদ্ধতা।
কয়লাঞ্চলে আওয়াজ উঠছে, বন্ধ কল - কারখানা চালু হোক। কাজ চাই। বিভেদ নয়, সম্প্রীতির পরিবেশ চাই। ১৯০৫ সালের সেই রাখিবন্ধন যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে রাখবার উৎসব ছিল না। ছিল যন্ত্রণাকে সংগ্রামে পরিণত করার উৎসব।

 

 

Comments :0

Login to leave a comment