SFI Jadavpur University

সাংবাদিক সম্মেলনে যাদবপুরের ছাত্রীনেত্রীরা, বিজেপি’র জঘন্য আক্রমণকে প্রতিহত করার বার্তা

রাজ্য কলকাতা

শুক্রবার দীনেশ মজুমদার ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এষণা সেন, সানিয়া ঘোষ ও শাল্মলী সোম।

রাজ্যের বিভিন্ন থানায় যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখার্জির নামে এফআইআর হবে। প্রতিষ্ঠানের সব ছাত্রছাত্রী, প্রাক্তনীদের কাছে এই মর্মে আবেদন জানিয়েছে এসএফআই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটি। গত ২৪ আগস্ট বিজেপি’র মিছিলে একটি পোস্টার হাতে হাঁটতে দেখা যায় শর্বরী মুখার্জিকে। ছাত্র-ছাত্রীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে, জঘন্য মন্তব্য লেখা ছিল পোস্টারে। তার বিরুদ্ধেই এফআইআর করার ডাক দিয়েছে এসএফআই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটি। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘোষণা করা হোক। তাহলেই দেখা যাবে ছাত্রছাত্রীরা কোন সংগঠনকে গ্রহণ করছে। 
এসএফআই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির তরফে শুক্রবার এসএফআইয়ের রাজ্য দপ্তর দীনেশ মজুমদার ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। এই সাংবাদিক সম্মেলন অংশ নেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি এষণা সেন, আর্টস ইউনিটের সভাপতি শাল্মলী সোম, আর্টস ইউনিটের সহ-সম্পাদক সানিয়া ঘোষ। 
গত ১৯ তারিখ রাতে বহিরাগত এবিভিপি দুষ্কৃতী বাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে যাদবপুরে। ২০ তারিখ এবিভিপি-র মিছিল থেকেও আক্রমণ করা হয়েছে যাদবপুর চার নম্বর গেটের বাইরে। তারপর থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদেরকে, অপদস্থ করার চেষ্টা চলছে, চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে খুন ধর্ষণের হুমকিও। 
গত ১৯ আগস্ট রাতে যাদবপুরে তান্ডবের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি। এবিভিপি’র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নিখিল দাস ২০১৪ শ্লীলতাহানির ঘটনায় জেল খেটেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতেই ‘হোক কলরব’ আন্দোলন হয়েছিল। সেই অভিযুক্তের সঙ্গে শর্বরী মুখার্জিকে দেখা গেছে।  


এষণা সেন অভিযোগ করেছেন, ২৪ আগস্ট বিজেপির নাগরিক মিছিল থেকে শর্বরী মুখার্জি একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাঁটেন। যাতে লেখা ছিল ‘বিকৃতকামা, বিকৃতমনা, বিকট দর্শন, বিপথগামী’। যা ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলার চেষ্টা করেছেন। 
এছাড়াও বহিরাগত এবিভিপির মিছিল থেকে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে যে যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে, হাত ও মুখভঙ্গি ব্যবহার করে খারাপ ইঙ্গিত করা হয়েছে, তারও বিরোধিতা করছে এসএফআই।
শাল্মলী বলেছেন, ‘‘মনুস্মৃতির ভাবধারা নিয়ে চলে বলে ছাত্রীদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য। ‘আজাদি’ বললে আপত্তি হয়। আমরা ‘আজাদি’ চাই নারীদের ঘিরে এমন জঘন্য আচরণ থেকে।’’ তিনি মনে করিয়েছেন যে কলকাতা পুলিশের আইটি সেল সোশাল মিডিয়ায় জঘন্য প্রচারের পরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেছেন, "শুভেন্দু অধিকারী যে কথা বলছেন তার সঙ্গে তার সাংবিধানিক পদের সামঞ্জস্য নেই। ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন তিনি। আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সামনে দাঁড়িয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের হুমকি দিয়ে গুন্ডা সুলভ আচরণ করেছেন। যদি বিজেপি এবিভিপি-র এতই ইচ্ছা থাকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দখল নেওয়ার, তাহলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করুক। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের বেছে নিতে দিক রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কোন ছাত্র সংগঠন থাকবে।"

Comments :0

Login to leave a comment