দেবাঞ্জন দে
স্কুল আছে, অথচ নেই! ছাত্র আছে, অথচ নেই! শিক্ষক আছে, অথচ নেই! এই আছে আর নেই’র প্যারাডক্সে আটকে আছে গোটা রাজ্যের স্কুলশিক্ষা। বাংলার স্কুলশিক্ষা— যা একসময় গোটা দেশের মডেল ছিল। নাহ্, শুধু বামপন্থী সরকারের সময়কালের কথা বলছি না। প্রকৃতপক্ষে প্রাক স্বাধীনতা আমলেই বাংলার স্কুলশিক্ষার উৎকর্ষ গোটা দেশের কাছে ছিল এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রামগোপাল ঘোষ, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, ডেভিড হেয়ার, অ্যালেক্সান্ডার ডাফ, বেথুন সাহেবের মতো সমাজ সংস্কারকদের হাত ধরে বাংলার সাধারণ, গরিব বাড়ির ছেলেমেয়েদের স্কুলমুখী হওয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে উঠে এসেছিল বঙ্গীয় সমাজে। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ, সম্ভ্রম, সম্মান বাংলার মানুষকে মর্যাদাবোধ শিখিয়েছিল। যে মর্যাদার শেকড় থেকে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, জেদ, স্পর্ধার বিচ্ছুরণ ঘটে। স্বাধীনতার আন্দোলনের দাবানল রচনার তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থেকে গেছে বাংলার নানা প্রান্তের একের পর এক ইস্কুলবাড়ির।
সেই স্বাধীনতার লড়াইয়ে পুষ্ট, উদ্বুদ্ধ স্কুলবাড়িগুলিই এখন ভূতের বাড়ির মতো একলা, নিঃসঙ্গ, বিষণ্ণতায় ভারী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পলেস্তরা খসা দেওয়াল থেকে ঝুলে থাকা ধুলোর স্তূপ জানান দিচ্ছে বাংলার স্কুলশিক্ষার কঙ্কালসার চেহারার। ক্লাস চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের মাথার ওপর ফ্যান ভেঙে পড়ার ঘটনাই হোক বা হাজার হাজার স্কুলে অপর্যাপ্ত বাথরুম-বাংলা স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামোগত দৈন্য সর্বত্র প্রকাশিত। গত পনেরো বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় সরকারি মনোযোগ, হস্তক্ষেপ, বরাদ্দ সবটাই কমেছে প্রতি বছর। লক্ষ্য থেকেছে বেসরকারি স্কুল, মডেল স্কুলের বাজার বাড়ানোর। সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো যতো দুর্বল হয়েছে, ততো বেসরকারি স্কুলের আর্থিক দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তৃণমূলের লুট করা টাকায় মডেল স্কুল বানিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে স্থানীয় মাতব্বরদের। কোনও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এই স্কুলগুলোতে যেমন খুশি টিউশন ফি নিয়ে আরেক ধাপের বেলাগাম লুট সংগঠিত হয়েছে মূলত গ্রামীণ এলাকায়। শহরাঞ্চলের লুটের কেন্দ্র হিসাবে কাজ করেছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি সাধারণ জনমানসের ঝুঁকে পড়া নিশ্চিত করেছে সরকার। নয়া উদার অর্থনীতিতে শিক্ষার ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করার প্রক্রিয়া দেশজুড়ে আরও ত্বরান্বিত হয়েছে এই শতকের দ্বিতীয় দশকজুড়ে। দেশে বিজেপি সরকার, রাজ্যে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার দু’য়ে মিলে স্কুলশিক্ষাজনিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক ফান্ড সিস্টেম কম্পোজিট গ্রান্ট (যে টাকায় সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের মৌলিক পরিকাঠামোর ব্যবস্থা চলে) আটকে রেখে দিয়েছে বছরের পর বছর। বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার এসেও সেই টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি। স্বভাবতই ভেঙে পড়া পরিকাঠামো থেকে মুখ ফিরিয়েছেন মানুষ। কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দিলেও যৎকিঞ্চিত সঞ্চয় বেচেও মানুষ তাঁর সন্তানের জন্য শিক্ষা কিনতে লাইন দিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গায়। সরকারি ব্যবস্থার বিলোপ ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই বহুলাংশের মানুষকে নির্ভর করতেই হবে বেসরকারি ব্যবস্থার ওপর। একইসাথে বহুলাংশের মানুষ ছিটকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হবে লেখাপড়ার সামগ্রিক ব্যবস্থা থেকেই। এই প্রক্রিয়াই নয়া ফ্যাসিবাদী অর্থনীতি ও একরৈখিক সমাজকাঠামো গঠনের ধারায় ব্যবহার করেছে আরএসএস মদত পুষ্ট সরকার।
এই পদ্ধতির মধ্য দিয়েই ড্রপ আউটকে প্রাতিষ্ঠানিক মান্যতা দেওয়া হয়েছে। হয় বেসরকারি সংস্থায় গিয়ে কর্পোরেটের পকেট ভরাও অথবা নিজের ফুটো পকেট আর অদৃষ্টকে দুষে শিক্ষার মূলস্রোত থেকে সরে দাঁড়াও। এই নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক অদক্ষ শ্রমিক নির্মাণ করার জন্য। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত না পৌঁছেই বিপুল সংখ্যক ছেলেমেয়ে অর্থাভাবে লেখাপড়া ছেড়ে নাম লেখাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকের দলে। ক্যাগ রিপোর্ট বলছে ভারতে হাইস্কুল পার করার আগেই স্কুলছুট হচ্ছে ৭২ শতাংশ পড়ুয়া। রাজ্যে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের নথি বলছে আপার প্রাইমারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মাঝে স্রেফ গায়েব হয়ে যাচ্ছে প্রায় ৪০ শতাংশ পড়ুয়া। তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ কারণ দেখিয়েছে আর্থিক অনটনের, ১৪ শতাংশ সার্বিক লেখাপড়ার প্রতি অনাগ্রহ, ১৩ শতাংশ হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক, ১২ শতাংশ বাল্য বিবাহ। রাজ্যে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে বাল্য বিবাহ, নাবালিকা প্রসূতির হার। ড্রপ আউট পরিণত হয়েছে সামাজিক সঙ্কটে। এই সঙ্কটের মূলে আছে সরকারি পরিকাঠামোর পরিকল্পিত বেহাল অবস্থা।
জুলাই মাসে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের ইউডিআইএসই প্লাস রিপোর্ট বলছে, বাংলায় ৪১৩৩টি স্কুলে কোনও ছাত্র-ছাত্রী নেই, অথচ ১৯৫০২জন শিক্ষক চাকরিরত আছেন এই স্কুলগুলোতেই! আবার ৬৭৬৯টি স্কুলে মাত্র ১জন শিক্ষক চাকরিরত, অথচ সেখানে মোট ছাত্র সংখ্যা ২২৯৫৬৯! গোটা দেশের মোট ৭৩ শতাংশ ছাত্রশূন্য স্কুল বয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই! এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে যোগীরাজ্য উত্তর প্রদেশ। গত শিক্ষাবর্ষ থেকেও এই শিক্ষাবর্ষে ছাত্রহীন স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫০০, আর শিক্ষকহীন স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০০০। ভয়ানক এই তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে বাংলায় লেখাপড়ার প্রতি জনমানসের ইতিবাচক চিন্তার বিলোপ ঘটেছে সরকারি মদতেই। রাজ্য কেন্দ্রের যোগসাজশে শিক্ষক নিয়োগে একের পর এক দুর্নীতি এবং তার কোনও ইতিবাচক সুরাহা না হওয়ায় সমস্ত স্তরের স্কুলে শিক্ষক বিন্যাস, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কেনোটাই আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নেই। রিপোর্ট বলছে, ছাত্র শিক্ষক অনুপাতের দুর্বলতার ক্ষেত্রেও বাংলা একদম প্রথম সারিতে। উপরন্তু এসএআইআর’র দীর্ঘসূত্রতার ফলে একধাপে হাজার হাজার শিক্ষককে স্কুল থেকে দূরে সরিয়ে গত কয়েক মাসে আরও ভয়াবহ অবস্থায় গেছে স্কুলশিক্ষা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনগণনার কাজ, যেখানে এই মুহূর্তে সরকারি স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষক স্কুলে পড়াতে যেতেই পারছেন না। এর ফলে আরও বিপন্ন হয়ে উঠছে সরকারি ও সরকারি অনুদান প্রাপ্ত স্কুলের অস্তিত্ব।
পরিকাঠামোর মৌলিক অভাবের কারণেই লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন অংশের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা। বৃত্তি, স্টাইপেন্ড, স্কলারশিপের অভাব প্রকট গ্রামীণ এলাকায়। ব্যাপক অংশের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রাপ্য স্কলারশিপ সম্পর্কে জানতেই পারে না বেশিরভাগ প্রত্যন্ত এলাকাতে। সরকার সামনে কোনও আশাবাদ বা বেড়ে ওঠার স্বপ্ন হাজির করতে না পারায় তাঁরা দলে দলে অদক্ষ শ্রমিক হয়ে অল্প টাকার বিনিময়ে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করতে পাড়ি দিচ্ছে ভিনরাজ্যে। যে অর্থনৈতিক চক্রে জড়িয়ে পড়ছে এরা তাতে এদের পরবর্তী প্রজন্মও একইভাবে শিক্ষা সম্পর্কে অনাগ্রহী হয়েই বেড়ে উঠবে। চা বলয়ে সরকারি স্কুলের অভাবে হতদরিদ্র চা শ্রমিকের ছেলেমেয়ে মাত্র দশ বছর বয়সের মধ্যেই ঢুকে পড়ছে চা বাগানে দিনমজুরির কাজে, সেটাই হয়ে উঠছে শ্রমিক লাইনের একমাত্র কেরিয়ার অপশন।
বাংলার ছেলেমেয়েদের স্বপ্ন দেখার, জীবন সম্পর্কে উচ্চাশা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উচ্চাকাঙ্ক্ষার যে ধারা বহমান ছিল তার মূলে আঘাত করা হয়েছে স্কুলশিক্ষাকে ধ্বংস করে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা প্রজন্মের অনেকে এখন অন্তত পক্ষে পরিযায়ী শ্রমিক, ডেলিভারি-গিগ ওয়ার্কার, খেতমজুর, রাজমিস্ত্রী হতে পারলেই যথেষ্ট মনে করছে। এই আকাঙ্ক্ষার অবক্ষয় নির্মাণ করা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। প্রশ্নহীন প্রজন্ম, অদক্ষ সস্তার শ্রমিক, মৌলবাদী বাহিনীকে পুষ্ট করার ব্ল্যাক শার্টস-গেস্টাপো নির্মাণের জন্য লাখো ছেলেমেয়েকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে লেখাপড়ার মূল স্রোত থেকে। আরএসএস’র হিন্দু রাষ্ট্র গঠনে, হিন্দুত্বের অর্থনীতির ভীত প্রস্তুত করতে বলি দেওয়া হচ্ছে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে এই লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীদের।
আবার ব্যর্থতা ঢাকতে বিজেপি সরকার সামনে আনছে গালভরা একের পর এক প্রতিশ্রুতি। স্কুলের মধ্যে এআই মডিউল সেট আপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বর্তমান স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী হয়তো এটাই জানেন না যে রাজ্যের ৯৩১৪৭টি স্কুলের মধ্যে মাত্র ২৩৮৯৪টি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব আছে, ১৮৩৭৪টি স্কুলে আছে ইন্টারনেট কানেকশন, মাত্র ৪০৩টি স্কুলে আছে ডিজিটাল লাইব্রেরি (ইউডিআইএসই রিপোর্ট)। ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশি। কিন্তু সেই আওয়াজে ঢাকা পড়ছে না বাংলার ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যশালী স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার মৃতদশা। যে রাজ্য এক সময় শিক্ষার সম্প্রসারণে, অবৈতনিক শিক্ষায়, মাদ্রাসা উন্নয়নে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পেয়েছে, সেই রাজ্য এখন স্কুলছুটের খাতায় ফার্স্ট, পরিযায়ী শ্রম, শিশু শ্রম, নাবালিকা প্রসূতি, বাল্য বিবাহে দেশের প্রথম সারিতে।
দায় সরকারের। সকল মানুষের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা করাটা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারি স্কুলশিক্ষাকে পুষ্ট করা সরকারের মৌলিক কাজের মধ্যে পড়ে। সরকারি স্কুল তুলে দিয়ে, সেই জমিতে হিন্দুত্ববাদীদের সরস্বতী বিদ্যামন্দির অথবা আদানির বিদ্যা ভারতী স্কুল কমপ্লেক্স গড়ার প্রক্রিয়া সংবিধান বিরোধী। রাষ্ট্র যখন কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক কাঠামোর প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে তখন তাদের প্রধান কাজই হয় প্রজন্মের মূলে আঘাত করা। ফ্যাসিবাদের বীভৎসতাকে নামিয়ে আনতে গেলে এই বৌদ্ধিকভাবে অন্ধ, বিকলাঙ্গ প্রজন্ম তৈরি করাই ফ্যাসিবাদের মৌলিক প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের প্রথম লেখাপড়ার মূল গ্রন্থী স্কুলশিক্ষাকে ধ্বংস করা।
স্কুলগুলোকে আমাদের বাঁচাতে হবে। গ্রাম, নগরে স্কুলের গেটে সংগঠিত করতে হবে মানুষকে। স্কুল বাঁচলে তবেই বাঁচবে উত্তর প্রজন্ম। বাঁচবে প্রজন্মের আশা, আকাঙ্ক্ষা, বেড়ে ওঠবার পথ। বাঁচবে প্রশ্ন করার, সংশয় করার স্পর্ধা, সাহস, মনন। চাপ বাড়াতে হবে সরকারের ওপর। সরকারি টাকা খরচ করতে হবে স্কুলের পরিকাঠামো পুনরুদ্ধার করতে। ড্রপ আউট হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার মূল স্রোতে নিয়ে আসতে চাই সরকারি বাজেটে স্পেশাল স্টিমুলাস প্যাকেজ। প্রান্তিক অংশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাড়াতে হবে বৃত্তি, স্কলারশিপ, স্টাইপেন্ড। এই সবের জন্য সবার আগে সংগঠিত হতে হবে রাজ্যের সমস্ত প্রান্তে প্রায় উঠে যাওয়া স্কুলগুলোকে বাঁচাতে। সরকারি জমি বেহাত হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে। রাজ্যের সর্বত্র আওয়াজ উঠেছিল,‘স্কুল বাঁচাও, মূল বাঁচাও’। সেই আওয়াজ আরও তীব্র হোক। সেই আওয়াজ হয়ে উঠুক গোটা প্রজন্মের আওয়াজ। লড়াইয়ের আওয়াজ, শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের আওয়াজ, সূত্রায়িত প্রতিটি সামাজিক সঙ্কট থেকে মুক্তির আওয়াজ।
Comments :0