অরিজিৎ মণ্ডল: কল্যাণী
একদিকে মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। আরেকদিকে পেটে লাথি পড়ছে মানুষের। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যে ফ্যাসিস্ট কায়দায় আক্রমণ চলছে। গোটা দেশে চলছে এমন আক্রমণ। জনতাকে সমবেত করে প্রতিরোধের কাজ আরও জোরদার করবে সিপিআই(এম)।
শনিবার কল্যাণী ঋত্বিক সদনে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিনই কল্যাণীতে শুরু হয়েছে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। শনি ও রবিবার হবে অধিবেশন। রবিবার, ৩০ আগস্ট হবে সমাবেশও। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে কল্যাণীকে প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নামে এবং মঞ্চ প্রয়াত পলিট ব্যুরো সদস্য রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য অলকেশ দাস, নদীয়া জেলা সম্পাদক মেঘলাল শেখ। এদিন সকালে পতাকা উত্তোলন করেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। বর্ধিত অধিবেশনে রয়েছেন পলিট ব্যুরো সদস্য মারিয়াম ধাওলে, এম এ বেবি, নীলোৎপল বসু, রামচন্দ্র ডোম, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, তপন সেন। রয়েছেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত, প্রবীণ নেতা সূর্য মিশ্রও।
বর্ধিত অধিবেশন প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, সিপিআই(এম)’র সম্মেলন তিন বছর পরপর হয়। ২০১৫ সালের পার্টি প্লেনাম থেকে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাঁচ রাজ্যে বিধানসভার পর কেন্দ্রীয় কমিটি বর্ধিত অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের রাজ্য সম্মেলন থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা কতটা কার্যকর হয়েছে। তার পর্যালোচনা হচ্ছে বর্ধিত অধিবেশনে।
সেলিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ফ্যাসিস্ট কায়দায় আক্রমণ চলছে। মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। হকার, ফুটপাতবাসী, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত, অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের পেটে লাথি পড়েছে।
সেলিম বলেন, উৎসবের মরসুমে চিনির দাম বাড়ছে। শিল্প হবে, কাজ হবে, চাকরি হবে - এই সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বলা হয়েছিল নিয়োগ হবে দুর্নীতি মুক্ত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও নিয়োগ নিয়ে সরকার কোনও কথা বলছে না। কাজ না দিয়ে উলটে মানুষের জীবন জীবিকার ওপর আক্রমণ।
সেলিম বলেন, সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। আগের মুখ্যমন্ত্রী বলে দিতেন কোন কাগজ লাইব্রেরিতে রাখবে আর কোনটি রাখবে না। এখন হেডলাইন কী হবে তা নিয়েও বর্তমান সরকার নির্দেশ দিচ্ছে। এক পত্রিকার সম্পাদকের নামে মামলা করা হয়েছে গতকাল। মিডিয়ার স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরিখে আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দিক থেকে অনেক নীচে।
সেলিম বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে মুক্ত চিন্তা দিয়ে ভাবনা চিন্তা হয় সেখানেও আক্রমণ। মানুষের উদর, হৃদয় এবং মস্তিষ্কে তালা লাগাতে চাইছে। এই সবের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি।
‘জি’ গোষ্ঠীর মালিক সুভাষ চন্দ্র হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করেছে। তার ঋণ মকুব করা হয়েছে। আর অন্যদিকে এরা সুভাষ বসুর দেশাত্মবোধ নিয়ে কথা বলছে। নজরুল, সুকান্তকে বিজেপি অপমান করেছে।
সেলিম বলেন, প্রতিটি মানুষ যাতে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে পারে সেই নিয়ে আমাদের আলাপ আলোচনা চলছে। বাংলার যে ইতিহাস, সংস্কৃতি তা বিজেপি শেষ করতে চাইছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ঠিক করে দেবে বলেছে যে খাবার নিরামিশ হবে না আমিশ। আমাদের সংস্কৃতির বৈশিষ্ট আছে। আমরা দেখেছি দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে জোড়া ইলিশ দেওয়া হয়।
সেলিম বলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন প্রতিটি ঋতুতে উৎসব উপভোগ করতে। তাই বসন্ত উৎসব, বর্ষা মঙ্গল। শারদীয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বই, স্টল, জামা কাপড় হয়। সেটা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ঠিক করে দেবে?
চৈতন্যদেব শিখিয়েছেন সহজ ভাবে ঈশ্বরকে ডাকার পথ। আবার সুফিবাদও সেই ভাবনায় চালিত। এখানে হিন্দুত্বের জোর বাড়াতে বাঙালিকে নিরামিশ খেতে বলছে। বাংলার মানুষকে ঠিক করতে হবে যে তাঁরা উন্নতির জন্য ভোট দিয়েছিলেন নাকি তাঁদের ধর্মাচরণের রীতি ঠিক করার জন্য।
Comments :0