Nepal Flood China Warning

সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার জলপ্রবাহের আশঙ্কা, নেপালকে সতর্ক করল চীন

আন্তর্জাতিক

আবর্জনা আর পাথর জমে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক বাধা। আপাতত তাতেই আটকে আছে হ্রদের জল। বাধা ভেঙে গেলে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার মাত্রায় ফের নামতে পারে জলের স্রোত।
শনিবার নেপালকে এই মর্মে সতর্ক করেছে চীন। এই হ্রদের জলই উপচে হু-হু করে মিশতে থাকে  ছোচেন খোলা এবং ত্রিশূলি নদীতে। নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান হয়েছে সে কারণেই। অন্তত ৫৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ২ হাজার ছাড়িয়ে। 
গত বুধবারই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। চীনের তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে একের পর এক জনপদ। কঠিন অবস্থায় ত্রাণ এবং উদ্ধারের কাজ চালাছ্ছে নেপাল। তার মধ্যেই ফের সতর্কবার্তা। 
চীনের বিদেশ মন্ত্রকের বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে যে এই হ্রদের জল সমানে ঘোলা হয়ে উঠছে। যার অর্থ এখানে ফের জল জমা হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত হ্রদটিতে ২৫ লক্ষ ঘন মিটার জল জমা ছিল। আগামী তিন দিনে আরও ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমা হতে পারে। 
এদিকে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং শুক্রবার কমিউনিস্ট পার্টির একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকে তিনি তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
গত বুধবার তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে বন্যার প্রাবল্যজনিত পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়। সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বন্যায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে ৭ জনের মৃত্যু খবর সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। 
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিং এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
চীনের সরকারি আধিকারিক স্তর থেকে জানানো হয়েছে যে দ্রুত এবং সমন্বিত জরুরি উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। দুর্গত মানুষদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।
বৈঠকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিকল্পনা করে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নিখোঁজ চিনা নাগরিক এবং বিদেশিদের খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিব্বতে এখনও ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, নেপালে প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিকের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
চীনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রায় ১,০০০ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৫৫ জন পর্যটক। তবে পর্যটকদের জাতীয়তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে বহু ভারতীয় আটকে পড়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছে অন্তত ৩২০ ভারতীয়ের নাম।

Comments :0

Login to leave a comment