Amghata

রেললাইন সম্প্রসারণের দাবিতে আমঘাটা রেল স্টেশন ও সড়ক অবরোধ

জেলা

আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামল নবদ্বীপ ঘাট রেল বাঁচাও কমিটি। শনিবার দুপুরে আমঘাটা স্টেশনে রেল ও সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা রেল অবরোধ এবং প্রায় এক ঘন্টা সড়ক অবরোধের জেরে ব্যাহত হয় ট্রেন ও যান চলাচল। রেল ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পরে কৃষ্ণনগর থেকে আরপিএফ ও জিআরপি'র বিশাল বাহিনী এসে বিষয়টি কথা বলতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রথমে তীব্র বাদানুবাদ হয় এবং তারপর আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এদিন দুপুর ১টা নাগাদ স্বরূপগঞ্জ তিওরখালি থেকে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করে আমঘাটা স্টেশনে পৌঁছান আন্দোলনকারীরা। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হন। মিছিলকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের দাবি একটাই, নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেল চাই’, ‘আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দাও’ সহ একাধিক স্লোগান।
আন্দোলনকারীরা একই সঙ্গে আমঘাটা স্টেশনে রেললাইন এবং কৃষ্ণনগর রোড ও নবদ্বীপ ঘাটের ৮ নম্বর রুটের রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে বেশ দীর্ঘক্ষণ সময় নবদ্বীপ ঘাট ও কৃষ্ণনগর রোড স্টেশনের মধ্যে বাস, অটো, টোটো-সহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করে রেল পরিষেবা চালু করতে হবে।
উল্লেখ্য, একসময় নবদ্বীপ ঘাট থেকে কৃষ্ণনগর হয়ে শান্তিপুর পর্যন্ত ন্যারোগেজ লাইনে ছোট ট্রেন চলাচল করত। ২০১০ সালের ১৮ জানুয়ারি সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে এই রুটকে ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। শান্তিপুর থেকে আমঘাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ সম্পূর্ণ হলেও আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত বাকি অংশের কাজ কোন এক অজ্ঞাত কারণে এবং নানা জটিলতায় থমকে যায়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আমঘাটা পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা হয়। তবে আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের বেশি অংশে এখনও রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়নি। সেই পুরনো রুট ধরেই নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামল নবদ্বীপ ঘাট রেল বাঁচাও কমিটি।
কমিটির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক সুদীপ দেবনাথ বলেন, ‘আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা আমঘাটা স্টেশনে রেল অবরোধ এবং এক ঘন্টারও বেশি সময় রাস্তা অবরোধ করেছি। খবর পেয়ে আরপিএফ ও জিআরপি কর্মীরা আসেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সাত দিন সময় চেয়েছেন। আমাদের দাবির সমস্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরই আমরা অবরোধ তুলে নিই। তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের অধিকার। ১৬ বছরের বঞ্চনার অবসান চাই। যতক্ষণ না এই রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন ও লড়াই চলবে।

Comments :0

Login to leave a comment