অরিজিৎ মণ্ডল: কল্যাণী
লাল পতাকা মূল তোরণে। কমিউনিস্ট আন্দোলনের দুই প্রয়াত নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং সীতারাম ইয়েচুরির নামে সেই তোরণ।
মাত্র দশ ফুট ব্যবধানে তোরণ করেছে বিজেপি। সিপিআই(এম)’র ‘পালটা’। রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের ‘পালটা’ দীনদয়াল উপাধ্যায় কর্মশালার তোরণ।
কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে চলছে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। প্রায় ৩ মাস আগে থেকেই চলছে প্রস্তুতি। জেলাজুড়ে প্রচার, অর্থসংগ্রহ হয়েছে নিবিড় ভাবে।
অভ্যর্থনা কমিটির সম্পাদক অলকেশ দাস বলেছেন, ‘‘ঋত্বিক সদন যাতে না পাই তার চেষ্টা চলেছে। বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। সরকার বদলেছে। কিন্তু তৃণমূলের মতোই মনোভাব নিয়ে চলছে বিজেপি।’’
কেবল এই তোরণ নয়। শাসানির ইঙ্গিত অধিবেশন চত্বরের অন্যত্রও। ঝত্বিক সদনের বাইরে যেখানে লাল পতাকা দিয়ে সাজানো, সেখানেও মাঝে একটি করে পদ্মফুল গুঁজে দিয়েছে বিজেপি।
সরকার বদলেছে সবে ১১০ দিন। প্রতিপক্ষ কে চিনেছে শাসক দল বিজেপি।
ঋত্বিক সদনের মূল গেট দিয়ে ঢুকে হলে যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ফ্লেকসে। রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলনে কমিউনিস্টদের ভূমিকা, স্বাধীনতা পরবর্তী তেভাগা- তেলেঙ্গানা আন্দোলন থেকে খাদ্য আন্দোলনের ইতিহাসের বিবরণ।
নদীয়া জেলার কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে। মার্ক্স- এঙ্গেলসের দ্বন্দ্বতত্ত্ব থেকে পুঁজিবাদের বিকাশ, সবটাই ধরা পড়ছে ঋত্বিক সদন চত্বরে। এই চত্বরই সাজানো হয়েছে ম্যুরালে।
অভ্যর্থনা কমিটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সিপিআই(এম) কর্মীরা বলেছেন যে ফ্যাসিবাদী আরএসএস-বিজেপি শুধুই মতাদর্শগতভাবে আক্রমণ করছে তা নয়। দীনদয়াল উপাধ্যায় কর্মশালার নাম করে চেষ্টা চালিয়েছে যাতে ঋত্বিক সদনে সিপিআই(এম)’র বর্ধিত অধিবেশন হতে না পারে। পুলিশের তরফে সমাবেশের অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি। নেতৃবৃন্দ জানেন, জেনেছেন আগত প্রতিনিধিরাও। উপলব্ধি করছেন বিজেপির আগ্রাসনের নমুনা। পাশাপাশি আলোচনা করছেন এই শক্তিকে প্রতিহত করার পথ নিয়েও। ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছে ফ্যাসিবাদ জেতেনি, জিতেছে শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ লড়াই।
Comments :0