Md Salim on TMC-BJP Relation

তৃণমূলকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টাই চালাবে বিজেপি: সেলিম

রাজ্য

কল্যাণীতে সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম। রয়েছেন মেঘলাল শেখ ও অলকেশ দাস। ছবি ও ভিডিও: প্রিতম ঘোষ

অরিজিৎ মণ্ডল: কল্যাণী

বিজেপি-ই প্রতিদিন প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করছে তৃণমূলকে। সাপুড়েরা সাপ ঝাঁপিতে ঢুকিয়ে রাখে, সময় মতো বের করে। এখানেই তাই চলছে।
শনিবার কল্যাণীতে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন সেলিম। তিনি বলেছেন যে সামনে থাকা বিপদের থেকে নিস্তার পেতে ভোট দিয়েছেন মানুষ। বিজেপি’র বিপদ সম্পপর্কে বামপন্থীরা তখনও বলেছে। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানে ফ্যাসিস্ট শক্তি কেবল বেড়ে যাওয়া নয়। ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের প্রথম দিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। সেলিম বলেন, তিনি বলেন, আমরা আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম জারি রেখেছি। হকার উচ্ছেদের মতো বাদ দেওয়ার রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখব। 


তৃণমূল এবং বিজেপি’র সম্পর্ক সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, মেরুকরণের রাজনীতি হয়েছে। মানুষের মনে বিষ ঢোকানো হয়েছে মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে। রুটি-রুজি, শিক্ষা স্বাস্থ্য থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মন্দির-মসজিদ, হিন্দু মুসলিম করা হয়েছে। বিভাজন কেবল রাজনৈতিক ছিল না, সাম্প্রদায়িকও ছিল। আমরা সম্প্রীতির কথা বলেছি। কিন্তু ভোটে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়েরই লাভ হয়েছে। দু’দলই মদত দিয়েছে।
সেলিম বলেন, নির্বাচনের পর তৃণমূলের ছবিটা সরে গিয়েছে। ছবি সংগঠন সরেছে। ব্যানার, হোর্ডিং সরেছে। কিন্তু প্রতিদিন বিজেপি আবার চেষ্টা করছে অক্সিজেন দিয়ে হোক, রক্ত দিয়ে হোক প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা হচ্ছে।
সেলিম বলেন, বিজেপি বলেছিল দুর্নীতি অপশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি থেকে চিট ফান্ড- কোনোটিতে বিজেপি সরকার ব্যবস্থা নেয়নি। মোদী বলেছিলেন সব জেলে থাকবে। এখন সব নাটক চলছে। উলটে ‘ভালো তৃণমূল’ বলে দলে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকসময় সাপুড়েরা সাপ বের করে আবার ঝাঁপিতে ভরে রাখে। সময় বুঝে বের করে। এখানেই তাই চলছে।   
সেলিম বলেন, পনের বছর ধরে যারা জেল, জরিমানা, মাথা ফাটানো, হামলা, রাস্তায় কান ধরে উঠবোস করানো, বুলডোজার দিয়ে বিরোধীদের ঘর ভেঙে দেওয়া চলেছে সমানে 
মানুষ তৃণমূলের থেকে থেকে নিস্তার চাইছিল। তখনও গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, ত্রিপুরায়, মধ্য প্রদেশে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মানুষ ভুগছিলেন। কিন্তু দূরের মনে করে সেই সময় গুরুত্ব দেননি। আমরা তখনও বলেছিলাম বিজেপি কোন দল নয়, এরা আরএসএস পরিচালিত একটি সংগঠন। আরএসএস একটি ফ্যাসিস্ট সংগঠন। বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানে ফ্যাসিস্ট শক্তি কেবল বেড়ে যাওয়া নয়। ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সবাক কাছে সবকিছু নিয়ে যেতে পারিনি। একেবারে সামনে বিপদ নিয়েই মানুষ সবচেয়ে ভাবিত হন।
কিষেণজী প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এনকাউন্টার হয়েছিল তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। সব তখন সামনে আসবে। কার সঙ্গে কার বন্ধুত্ব ছিল। কে খানা-পিনা দিত। আগের মুখ্যমন্ত্রী এবং এখনকার মুখ্যমন্ত্রীর দুই পরিবারের অনেক সত্য বেরিয়ে আসত যদি কিষেণজীকে এনকাউন্টার না করা হতো।
সেলিম বলেন, ২২ নভেম্বর যেদিন পার্ক সার্কাসে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেদিন নন্দীগ্রাম নিয়ে ছিল লোকসভায় আলোচনা। সেখানে প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে ছিলাম তৃণমূল মাওবাদী যোগাযোগ। 
যাদবপুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কথার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
ওরা বলে দিচ্ছে কী লিখতে হবে। এবার বলবে বাংলা ভাষার শুদ্ধিকরণ দরকার। একশো বছর আগে সাভারকার বলেছিলেন মারাঠি ভাষা কেমন হবে। কারণ সেখানে ফারসি ভাষা বেশি ছিল। তাই বলেছিল শুদ্ধ করতে হবে। বাঙালি কীভাবে কথা বলবে শুভেন্দু ঠিক করবেন নাকি।
সেলিম বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে, স্বদেশী শিক্ষা আন্দোলনে যে যেই সংস্থা তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। ওরা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করছে, ওরা ইতিহাস কী ভাবে জানবে। আমরা একুশ শতকে এগোব না অষ্টাদশ শতকের দিকে পিছিয়ে যাবো তা ঠিক করতে হবে।
সেলিম ক্ষোভ জানান রাজ্যে শিশু মৃত্যু নিয়ে। চলতি মাসেই মালদহ জেলা হাসপাতালে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেছেন,
চৌত্রিশ বছরে শিশু মৃত্যুর হার আমরা কমিয়ে ছিলাম। গত পনের বছর তৃণমূল রাজত্বে স্বাস্থ্যকে শেষ করেছে। বিজেপি’র এই কয়েক মাসেও হাল খারাপ হয়েছে। সরকার কেন আলোচনা করছে না এই বিষয় নিয়ে? উলটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন দেহদান না করতে। বিজেপি সরকার আসল সমস্যা খুঁজে বার করুক। সরকার এই সব নিয়ে ভাবতে চায় না। এরা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শেষ করে দিতে চাইছে। 
কলকাতায় আমেরিকান সেন্টারে সশস্ত্র হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আফতাব আনসারির সেল থেকে মোবাইল, ওয়াই-ফাই সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। 
এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, এই আফতারকে বামফ্রন্ট সরকার বিদেশ থেকে ধরে এনে বিচার করে জেলে পুরেছিল। দেশে এভাবে আর কোনও আন্তর্জাতিক অপরাধীকে ধরা যায়নি। তৃণমূল আমলে জেলে ভিআইপি ব্যবস্থা শুরু হয়। বিজেপি’র সময়ে কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের জন্য সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উল্টে যারা আর্থিক দুর্নীতি করেছে তাদের বাইরে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এই বিজেপি সরকারই ভীমা কোরেগাঁও মামলায় প্রবীণ  খ্রীস্টান যাজক স্ট্যান স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করেছিল। তাঁর শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেয়নি। জল খাওয়ার জন্য একটি স্ট্র চেয়েছিলেন, তা-ও দেয়নি। জেলেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।

Comments :0

Login to leave a comment