M A Baby

:আরএসএস-বিজেপি অপরাজেয় নয়, ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে পরাস্ত করা সম্ভব, বললেন বেবি

রাজ্য

  সারা দেশে ধান্দার ধনতন্ত্র এবং সর্বগ্রাসী দুর্দশার বিরুদ্ধে মানুষের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আরএসএস-বিজেপি যে অপরাজেয় নয়, তা যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের সামনে ৫৬ইঞ্চির মাথা নত করা এবং কয়েকটি উপনির্বাচনের ফলে ক্রমশ স্প্ষ্ট হচ্ছে। ব্যাপক ঐক্য গড়ে সর্বাত্মক প্রতিরোধের মাধ্যমে এই শক্তিকে পরাস্ত করা সম্ভব। তারজন্য নিজেদের সংগঠনকে পুনর্গঠিত করে আরও বেশি করে নিপীড়িত, দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। শনিবার কল্যাণীতে সিপিআই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানিয়েছেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।
এদিন সকালে কল্যাণী ঋত্বিক সদনে সীতারাম ইয়েচুরি নগর ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মঞ্চে পা্টির রাজ্য কমিটির এই বর্ধিত অধিবেশনের সূচনায় রক্ত পতাকা উত্তোলন করেন এমএ বেবি। অধিবেশনের উদ্বোধন করে তিনি জাতীয় পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনগুলি উল্লেখ করে বলেন, গত ১০ আগস্ট সারা দেশজুড়ে আইন অমান্য ও জেল ভরো আন্দোলনের অভূতপূর্ব সাড়ায় শ্রমিক-কৃষক-খেতমজুর সহ শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ  প্রতিফলিত হয়েছে। সংযুক্ত কিষান মোর্চার আন্দোলনে সরকার কৃষক বিরোধী আইন প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছে। এইরকম অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।  প্রধান বিচারপতির উসকানিমূলক মন্তব্যের পরে যন্তর মন্তরে তরুণ প্রজন্মের যে আন্দোলন হয়েছে তাতে বামপন্থী ছাত্র-যুবরাও ছিল। আমরা চেষ্টা করেছিলাম যাতে সব ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে একজোট করা যায়। নতুন প্রজন্মের সমর্থনে সমাজের সব অংশ এগিয়ে এসেছিল, মোদী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতি তীব্র করছে আরএসএস বিজেপি।
মোদী সরকারের নীতিতে গ্রামীণ জনজীবনে ব্যাপক দুর্দশা নেমে আসার কথা তুলে ধরে এম এ বেবি বলেন, ২০২৫সালের জুলাই মাসে যেখানে রেগায় ১৫ কোটির বেশি শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে এ বছর জুলাই মাসে তা অর্ধেক হয়ে ৭ কোটিতে নেমে এসেছে। এর অনিবার্য প্রভাব গ্রামীণ জনজীবনে পড়েছে। বেবি বলেন, আমাদের দায়িত্ব এই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলির পাশে দাঁড়ানো, রেগা থেকে যারা বাদ পড়েছে সেইসব মানুষগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। তিনি শহরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ, কৃষি শ্রমিক সহ শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে পার্টি কর্মীদের নতুন করে যোগাযোগ তৈরি করে তাঁদের সমস্যা ও সঙ্কটের বিষয়গুলি চিহ্নিত করে আন্দোলনের ময়দানে টেনে আনার কথা বলেন। তিনি এই প্রসঙ্গে রেগা চালু করার ক্ষেত্রে সিপিআই(এম)’র উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নামিয়ে আনা সন্ত্রাস এবং সর্বব্যাপক দুর্নীতির পরিণতিতে মানুষের রায় তাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, কিন্তু এরফলে বিজেপি’র ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হয়েছে। তারা ক্ষমতায় এসে সারা দেশে বিজেপি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করছে, সেকাজ শুরু করেছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সাম্প্রদায়িক কারণে, রাজনৈতিক কারণে মানুষকে বাদ দিচ্ছে। এস‌আইআর তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মানুষকে বিভিন্ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। সংখ্যালঘু মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রেক্ষিতে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। এই সমস্ত বঞ্চিত মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। সংগঠনকে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে এই অংশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য।
এমএ বেবি এ রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র শেখ আব্দুল হাফিজের বাঁকুড়ার ইন্দাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাঁর বাবাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি’র বিরুদ্ধে। মারাত্মক এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। বেবি বলেন, বিজেপি সরকারের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আক্রমণের কারণে সমস্ত ধরনের আক্রান্ত মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। মানুষ তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝবেন যে লাল ঝান্ডাই শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে আছে। বামপন্থীদের তো বটেই, তাছাড়াও বিজেপি আরএসএস বিরোধী সব অংশের মানুষকে একজোট করে লড়াই সংগঠিত করতে উদ্যোগী হবে সিপিআই(এম)।

Comments :0

Login to leave a comment