‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ দপ্তরের বাইরে মঙ্গলবার একদল লাগিয়ে দিয়েছে গেরুয়া রঙ। পরে যদিও সেই দেওয়াল মুছে সাদা করে দেয় এই পত্রিকা গোষ্ঠীর কর্তৃপক্ষ। বিজেপি এবং অনুগামী বাহিনীর ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনায় রাজ্যে এবং দেশে ক্ষোভ জানিয়েছে বিভিন্ন অংশ।
এদিনই ঘটনার পর সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কথা বলেন আনন্দবাজারের সম্পাদকের সঙ্গে। সেলিম বলেন, এই ঘটনার খবর পেয়ে আমি আনন্দবাজারের সম্পাদককে ফোন করেছিলাম। তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আমরা আবার সাদা রঙ করে দিয়েছি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএসএস-বিজেপি’র অনুগামী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি হামলা চালিয়েছিল ১৯-২০ আগস্ট মধ্যরাতে। সংবাদমাধ্যমে যে অংশ এই আগ্রাসনের সমালোচনা করেছিল তার মধ্যে ছিল আনন্দবাজার পত্রিকা। এর কিছু পরে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নাম না করেও সংবাদমাধ্যমের এই অংশকে লক্ষ্য করে হুঁশিয়ারি দেন। আনন্দবাজার-র শিরোনামের জন্য পত্রিকার সম্পাদকের নামে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়।
মঙ্গলবার সেলিম বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণের পর আনন্দবাজার পত্রিকায় যে শিরোনাম করেছিল তার জন্য এই সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ব বাহিনী আজ পুলিশের সামনে গেরুয়া রঙ করেছে। গুন্ডামির সাক্ষ্য রাখলো ফের। ‘রংবাজি’ করলো। ছবিতে দেখলাম ঘটনাস্থলে পুলিশ নীল সাদা ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছাতার রং এখনো বদলায়নি, কিন্তু ছাতির রঙ বদলে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার, ৩০ আগস্ট কল্যাণীতে সমাবেশ থেকেও সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণের নিন্দা করেন সেলিম। তিনি বলেন, তৃণমূলের সময়ে লাইব্রেরিতে কোন বই রাখা হবে, কাগজ থাকবে তা ঠিক করে দিত সরকার। আর এখন মাত্র তিন মাসের সরকার শিরোনাম ঠিক করে দিচ্ছে। বিজেপি কেন্দ্রে আসীন হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে ভারত তলানিতে এসে ঠেকেছে।
আনন্দবাজারের দেওয়ালে গেরুয়া রঙ মাখানোর সময় দেখা গিয়েছে যে গেরুয়াধারী একদল লোক আশেপাশে দাঁড়িয়ে। আর পুলিশ পিছন ফিরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
Anandabazar md Salim
আনন্দবাজারের দেওয়ালে গেরুয়া রঙ, ধিক্কার সেলিমের
×
Comments :0