Nepal Flash Flood

উদ্ধার কাজ অব্যাহত নেপালে, মৃতের সংখ্যা ৭৬৮

আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পাঁচদিন। উদ্ধারকার্য এখনও চলছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আশঙ্কা বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নিখোঁজ এখনও হাজার হাজার মানুষ। রবিবার সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেল, নেপালে বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৬৮। এখনও নিখোঁজ ২ হাজার ৫০২ জন। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এদিন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
গত ২৬ আগস্টের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার পাঁচদিন পর রবিবার ভোটে কোশী নদীতে বাড়ছে জলস্তর!
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে , বৃষ্টি ও দুর্যোগের কারণে ভোটে কোশী নদীতে ফের জল বাড়তে শুরু করেছে। ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। বন্যা বিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের কাছে হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রসুয়া, চিতওয়ান, ধাডিং, এবং নোয়াকোটে উদ্ধার কাজ চলাকালীন যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বন্যা-আক্রান্ত জেলাগুলোর বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। 
ভোটেকোশী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, বন্যা-আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে ক্রমাগত মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। দুর্যোগের পঞ্চম দিনেও উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য যুদ্ধকালীন অভিযান চালাচ্ছেন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত আটটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ত্রিশুলিতেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে স্বজন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী খুঁজছেন মানুষ। দেবীঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন বহু গৃহহারা পরিবার। ত্রাণশিবিরে রান্না করে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হচ্ছে। কাঠমাণ্ডুর একটি হাসপাতালে নিখোঁজদের ছবি ও পোস্টার টাঙিয়ে স্বজনদের অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। বন্যার স্রোতে বহু দেহ ভেসে গিয়ে দূরবর্তী এলাকায় উদ্ধার হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
নিখোঁজদের মধ্যে বিহারের সমস্তিপুরের আটজনও রয়েছেন। তাঁরা নুয়াকোটের বাত্তার এলাকায় একটি টায়ার ও হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করতেন। বন্যার পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, জলস্রোতে ভেসে আসা দেহগুলি মূল নদীর নিম্ন অববাহিকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। চিতওয়ান থেকে ২৫৯ টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নওয়ালপরাসি পূর্বে ১৮৪, নওয়াবপরাসি পশ্চিমে ৮২, গোর্খায় ৫৮, নুয়াকোটে ৫২, ধাডিংয়ে ৫০, তানাহুনে ৩৬ এবং রাসুয়া থেকে ১৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। 
নিখোঁজ ২ হাজার ৫০২ জনের মধ্যে ৮৫ জন নিরাপত্তারক্ষী এবং ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক। এখনও পর্যন্ত ২২৭ জন বিদেশি সহ মোট ৮ হাজার ১৮৬ জনকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পাঁচদিন পরেও অব্যাহত উদ্ধার অভিযান। নেপাল সরকার উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রায় ২০,০০০ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে। উদ্ধারকাজে নেপালকে সাহায্য করছে ভারত, চীন সহ একাধিক দেশ। ভারতের ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলে রয়েছেন চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞরা। শনিবার তাঁরা নুয়াকোটের ত্রিশুলি এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গগুলি পরিদর্শন করেন এবং চিলিমে ও লাংটাং এলাকায় আকাশপথে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। চীন থেকেও ছ’জন সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞের দল নেপালে পৌঁছেছে। শনিবার পর্যন্ত ৪,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। 
নেপালের শিক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বন্যা-বিধ্বস্ত তিনটি জেলার বিভিন্ন স্কুলের ২৩৮ জন পড়ুয়া এবং ১৮ জন শিক্ষক নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন। 
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানের কারণে মধ্য নেপালের অনেক শহর ও গ্রাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিমালয় সীমান্ত অঞ্চল থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত ভোটেকোশী নদীর বন্যার জল ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তা এবং সেতু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ে একটি হিমবাহ ধসে চীনের দিকে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছিল। লেন্দে নদীতে তৈরি লেক বা হ্রদের বাঁধ যে কোনও মুহূর্তে ভাঙতে পারে। হ্রদের জলের রং বদলে যাওয়াকে ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে দেখছে বেজিং। তবে চীন জানায়, হ্রদটি ভেঙে গেলেও নদীতে সর্বোচ্চ ৫০০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড হারে জল প্রবাহিত হতে পারে। তবে চীনের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, শনিবার থেকে হ্রদটির আকার কমতে শুরু করেছে, যার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমেছে।

Comments :0

Login to leave a comment