MA Baby

বিজেপিকে জনবিচ্ছিন্ন করতে হবে, তাদের হারাতে হবে : বেবি

রাজ্য

ছবি ভিডিও - প্রীতম ঘোষ

অরিজিৎ মণ্ডল, কল্যাণী


‘বিজেপিকে মানুষের থেকে জনবিচ্ছিন্ন করতে হবে, তাদের মুখোশ খুলে দিতে হবে, তাদের হারাতে হবে।’ কল্যাণীতে সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন উপলক্ষে প্রকাশ্যে সভা একথা বলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। শনিবার এবং রবিবার দুদিন ধরে চলে এই অধিবেশন। এদিন ছিল প্রকাশ্যে সমাবেশ। বিজেপি এবং প্রশাসনের বহু বাধাকে উপেক্ষা করে কল্যাণীর মানুষের সহযোগীতায় হয়েছে এই কর্মসূচি।
সমাবেশে বেবি বলেন, ‘আমরা জানি এই সরকার যারা বড় লোকদের রক্ষা করে সাধারণ মানুষের জীবনকে সঙ্কটে ঠেলে দিয়েছে। এরা সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াচ্ছে। মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে। এই প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের দাঙ্গা করে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ফ্যাসিস্ট আরএসএসের মোকাবিলা করতে এক হতে হবে। ধর্ম মানুষের ব্যাক্তিগত বিষয়। আরএসএস সাম্প্রদাবিক হিংসা তৈরি করছে। আমাদের প্রথম রাজনৈতিক কাজ এই সাম্প্রদায়িক দলকে সরকার থেকে সড়াতে হবে। গত লোকসভা নির্বাচনে দেখা গিয়েছে মোদী এবং বিজেপির জনপ্রিয়তা দেশে তলানিতে। দুটি দলের ওপর ভরসা করে সরকার করেছে। তবে দেশের ছাত্র আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে তারা ভালো জায়গায় নেই। ছাত্র আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিতে। আমরা প্রতিদিন সেই আন্দোলনকে সমর্থন করেছি। বিহারের ছয় বছরের শিশু দেখিয়ে দিয়েছে এই ৫৬ ইজ্ঞির বিরুদ্ধে ছয় বছরের এক শিশু চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে পারে।’ 
বেবি বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলার সেই স্বাধীনতা আন্দোলনে বামপন্থীদের যেই ভূমিকা ছিল, সেই সময় থেকেই প্রান্তিন মানুষ লাল ঝান্ডার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। আমাদের দল এবং সংগঠন নতুন করে জমি তৈরি করছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে আমাদের উল্লেখ যোগ্য সাড়া পাওয়া গিয়েছে। নতুন প্রজন্মের বহু প্রতিনিধি প্রার্থী হয়েছিলেন। বাংলায় নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিনিধি উঠে আসছেন, বলা যেতে পারে এরাজ্য বামপন্থী আন্দোলন নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।’
তৃণমূলকে নিশানা করে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মমতা রাজনীতিতে উঠে এসেছে বিজেপির হার ধরে। মমতা বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তৃণমূল ভেঙে গিয়েছে। রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কল্যাণীর মানুষের সমর্থন ছাড়া এই সভা কোন ভাবেই করা সম্ভব হতো না। মানুষের কাছে আবেদন থাকবে বাংলাকে বাঁচাতে লাল ঝান্ডার সাথে থাকুন।’   


বাঁকুড়ার ছাত্রের পরিবারের ওপর আরএসএস বিজেপির আক্রমণের ঘটনার নিয়ে তিনি বলেন, ‘আব্দুল হাফিজ দিল্লিতে যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি স্কুল গুলোয় পরিকাঠামো উন্নতির দাবিতে মানুষকে এক করতে শুরু করেছিলেন। তার ওপর এবং তার পরিবারের সদস্যদের ওপর বিজেপি আরএসএস গুন্ডারা আক্রমণ করে। হাফিসের বাবা মাফিসের প্রাণ কেড়ে নেয় তারা। এই সভা থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই ঘটনার। হাফিজ চেয়েছিল গ্রামের স্কুলের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে। সরকার তার কোন কথা শোনেনি।’
সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজ্য এবং দেশে এক কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এরাজ্যের প্রথম আরএসএস নামে সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে। মানুষের বিরুদ্ধে তারা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার চলছে। আমরা বলতে চাই একটা ডবল ইজ্ঞিন সরকার নয় ট্রাবেল ইজ্ঞিন সরকার। অনেক সময় দেখা গিয়েছে এদের ইজ্ঞিন বুলডোজারে পরিনত হয়েছে। এরাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বুলডোজার দিয়ে গরীব মানুষের রুটি রুজির ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। উত্তরপ্রদেশেও একই নীতি। আদানি আম্বানীদের জন্য বিজেপির সরকার খুব ভালো তাদের জন্য সহানুভূতিশীল। বড়লোকদের প্রতি তাদের ভালোবাসা, গরীব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ইজ্ঞিন আসলে বুলডোজার।’
সুভাষ চন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সুভাষ চন্দ্র জি’র মালিক। তার ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নরেন্দ্র মোদীর সরকার তার সেই ঋণ মাত্র ৬ কোটিতে কমিয়ে দিয়েছে বোঝাপড়ার মাধ্যমে। এই ঘটনা প্রমাণ করছে আমাদের কথা ভুল নয়। একই ভাবে আমরা জানি সাধারণ মানুষ কৃষক তারা যদি কোন লোন নেয় তাদের ইন্টারেস্ট দিতে হয়। কমপাউন্ড ইন্টারেস্টে তা আরও বাড়ে। না দিতে পারলে সেই সম্পত্তি নিয়ে নেওয়া হয়। বহু মানুষ ঋণ শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করছে। সরকার এই শ্রেণির মানুষের জন্য কোন কিছু করছে না। বড় লোকদের স্বার্থ তারা রক্ষা করছে। তাদের কোটি কোটি টাকা মাফ করতে দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘দেশে বেকারত্ব হার বাড়ছে। ১৮-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার সব থেকে বেশি। কোন নিয়োগ হচ্ছে না। সরকারি পদ খালি রয়েছে। নিয়োগ করছে না সরকার।’ 
১০০ দিনের কাজের প্রসঙ্গে বেবি বলেন, ‘২০০৪ সালে আমরা বাইরে থেকে ইউপিএ’কে সমর্থন দিয়েছিলাম, আমরা সুনিশ্চিত করেছিলাম সরকার হবে জনমুখি। রেগা প্রকল্প সেই সময় চালু করা হয়। সেই নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। গান্ধীর নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই থেকে জিরামজি চালু হয়েছে। আগের প্রকল্পের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে গত বছর ১৫ কোটি মানুষ কাজে যুক্তছিল, এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে সাত কোটিতে। এই ভাবে ডবল ইজ্ঞিন সরকার মানুষের রুটি রুজি কেড়ে নিচ্ছে। আসলে এই সরকার গরীব মারার সরকার।’
বেবি বলেন, ‘কৃষক আন্দোলনের কাছে এই সরকার মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিল। এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের কৃষকরা আন্দোলন করেছিলেন। সাতশো জনের বেশি কৃষক শহীদ হন। হান্নান মোল্লা, অশোক ধাওয়ালে, বিজু কৃষ্ণানরা সেই আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।’ 
তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে বাঁকিপুরের উপ-নির্বাচনে বিজেপিকে হারতে হয়েছে। যেখানে ৩০ বছর ধরে তারা জয়ী হয়ে আসছে। নিতিন নবীনের ছেড়ে আসা আসনে তারা হেরেছে। এই সব ঘটনা প্রমাণ করে বিজেপিকে হারানো সম্ভব। আমাদের সংযত ভাবে সচেতন ভাবে আরএসএসের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মোকাবিলা করতে হবে।’ 
এদিনের সমাবেশের সভাপতিত্ব করছেন নদীয়া জেলা সিপিআই(এম)’এর জেলা সম্পাদক মেঘলাল শেখ। তিনি বলেন, ‘ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)র বর্ধিত সভা দুমাস আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। আমরা সেদিনই বলেছিলাম কল্যাণীতে একটা প্রকাশ্য সভা আমরা করতে চাই। তাই এই সভা। আমাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা মানুষকে আমরা জানাতে চাই। তৃণমূল এবং বিজেপি এই দুই দল সরকারে না আসলে বুঝতে পারা যেতো না সরকারের কাজ কী। দুই দলই বিরোধীদের ওপর আক্রমণ করেছে ক্ষমতায় এসে। মানুষের যেই যন্ত্রণা সেই নিয়ে তাদের কোন কথা নেই। সরকারে আসার আগে ডবল ইজ্ঞিনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একশো দিনে বোঝা যাচ্ছে এই সরকার গরীব মানুষের সরকার নয়। ডবল বিপদ তারা ডেকে এনেছে। আমাদের এই বিপদ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে। বামফ্রন্ট সরকারের অভিমুখ ছিল গরীব মানুষ, শ্রমজীবী মানুষের উন্নতি কী ভাবে করা যায়।’ 

Comments :0

Login to leave a comment