বিধানসভায় থাকলেই বিরোধী হওয়া যায় না, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেহনতির পক্ষে যারা কথা বলে তারাই আসল বিরোধী। রবিবার কল্যাণীর সমাবেশ থেকে এমনটাই বললেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি ।
শনি ও রবিবার কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন চলছি। সেই অধিবেশন শেষে রবিবারই কল্যাণীতে একটি সমাবেশ করে সিপিআই(এম)। এদিন সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমিত দে, সহ রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী সদস্য পলাশ দাস। এছাড়া সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সিপিআইএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র।
এদিন মীনাক্ষী বলেন, দুদিন ধরে কল্যাণীতে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন চলছিল। সেখানে আমরা এটাই ঠিক করেছি কারুর কাছে আমরা মাথা নোয়াব না। করুক হুমকির সামনে মাথা নামাবো না। রাজ্যে সাড়ে তিন মাস বিজেপি সরকার চালাচ্ছে তার মধ্যেই সাপের পাঁচ পা দেখেছে। নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, আমাদের বিশ্বাস ঠিক। আর সেই বিশ্বাসে আত্মবিশ্বাসী হয়েই আমাদের নিজেদের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এই বিজেপি আমাদের দেশভক্তি শেখাবে? স্বাধীনতার আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে,একটা দেশ দিয়ে এরেকটা দেশের মাথায় বসানো যাবেনা। আমরা কোনো উপনিবেশের কাছে মাথা নোয়াব না। আমরা একসময় ব্রিটিশদের তাড়িয়েছি, ওদের দালালদের ও তাড়িয়ে ছাড়বো।
তিনি বলেন, বিজেপির যদি সত্যিই এতও দেশভক্তি থাকে তাহলে বলুক, যেটা আমেরিকা, ইসরায়েল যা হচ্ছে তাঁর পক্ষে না বিপক্ষে ওঁরা? বলতে হবে উপনিবেশবাদের বিপক্ষে না পক্ষে? লুটের রাজনীতির পক্ষে না বিপক্ষে ? ওরা মেহনতি মানুষকে ভয় পায় তাই ওরা আমাদের অফিস দখল করে, আমাদের মেরে, ভয় দেখানোর চেষ্টা করে।
একজন করে শিক্ষক দিয়ে স্কুল চলছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলব না? যে কৃষক এক বস্তা আলু বেচে এক কেজি চিনি কিনতে পারেন না, তাঁদের কথা বলব না? আইসিডিএস-কে টাকা দাও না, রেশন বন্ধ করে জিনিসের দাম বাড়াচ্ছ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছে না, তার কথা বলব না? ভোটের আগে ‘দেব’ বলে এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দিচ্ছ না, আমরা বলব না কথা? কেন এসআইআর-এ নাম বাদ দিলে, বৈধ কাগজ সত্ত্বেও, পেটের সংকটের সঙ্গে এসেছে অস্তিত্বের সংকট, বলব না আমরা? এসব প্রশ্ন করলেই বলা হবে দেশদ্রোহী? আমরা মেহনতি মানুষের সঙ্গে আছি। তার হয়ে কথা আমরা বলবই বলব।
তিনি আরও বলেন, বিধানসভায় করা রয়েছে তাই দিয়ে বিরোধী হয়না, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেহনতির পক্ষে যারা কথা বলে তারাই আসল বিরোধী দল।
বিজেপি এসে ধর্মের নামে ভাগ করার আগে তৃণমূলকে পাঠিয়েছিল জমি প্রস্তুত করতে, এখন তাঁদের 'ভালো তৃণমূল' বলে পকেটে রাখছে আর গরিব মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে।
ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। বলছে আমাদের ২০৭। বলছে হয় ওরা থাকবে নয় আমরা। এটাকে অহঙ্কার বলে। বিজেপি-কে ভালবেসে মানুষ ভোট দেয়নি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দিয়েছে। আর এদের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ জোট বাঁধছে, মেহনতি জোট বাঁধছে। তাঁদের সঙ্গে নিয়েই লালঝান্ডা মানুষের জন্য লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে।
Minakshi Mukherjee at the Kalyani Rally.
বিধানসভায় থাকলেই বিরোধী হওয়া যায় না, মেহনতির পক্ষে যারা কথা বলে তারাই আসল বিরোধী : মীনাক্ষী
ছবি- কল্যাণীর সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মীনাক্ষী মুখার্জি।
×
Comments :0