সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রনেতার সরাসরি সাক্ষাৎ হল।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। পাশাপাশি, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি-সহ সে দেশের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মোদীর সঙ্গে পেজেশকিয়ানের এই বৈঠক এমন এক সময়ে হল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধার মুখে পড়েছে।
ভারত ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ফলে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-ইরান সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে জুন মাসে ফোনে কথা হয় মোদী ও পেজেশকিয়ানের। সেই সময় ইরানের রাষ্ট্রপতি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছিলেন। সংঘাত অবসানে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তাকে স্বাগত জানিয়ে মোদী দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।
সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকা পেজেশকিয়ান এদিনও জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনও আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ়ভাবে জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এর আগে এক মাসের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি ছোট দ্বীপে হামলা চালায়।
উল্লেখ্য ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোন কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তেল কেনা নিয়ে কার্যত মার্কিন চাপের কাছে মাথা নত করেছে মোদী সরকার। জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও চুপ থেকেছে এই সরকার।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই লাভজনক নয়। অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত লক্ষ্য পূরণে দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
এই সম্মেলনের ফাঁকে এদিন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধ শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ভারত-আর্মেনিয়া সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
মোদী জানান, ভারত আর্মেনিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
এদিকে, সম্মেলনের ফাঁকে পরবর্তী পর্যায়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়ার (World Nomad Games) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
Iran India
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর বৈঠক
×
Comments :0