মুক্তধারা
গল্প
নীতা
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
৩০ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
নীতা সেদিন কেঁদে বলেছিল-' দাদা আমি বাঁচতে চাই'-কিন্তু বাঁচা হল না। বারান্দায় বসে বসে ভাবেন ভবেশবাবু। ঋত্বিক মেয়েটাকে বাঁচাতে চাইল না।এত কান্না এত আকুতি নিয়ে মেয়েটা চলে গেল।
ভাবতে ভাবতে বিড়বিড় করে কথা বলেন মহেশবাবু। রিটায়ার্ড অধ্যাপক। ফ্লিম স্টাডিস পড়াতে পড়াতে, গবেষণা করতে করতে এমনি নিজে নিজে কথা বলা অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল।আজও তার বর্তমান।
তাঁর এই অস্ফুট স্বর কানে যায় রমলা দেবীর। তিনি ধীর পায়ে বেরিয়ে এসে দাঁড়ান স্বামীর পাশে।
-'কি বলছো?' রমলা দেবীর প্রশ্নে ঘাড় ঘুরিয়ে মোটা কালো ফ্রেমের মধ্যে থেকে চোখ তুলে তাকান ভবেশবাবু -'না ভাবছিলাম নীতার আকুতির কথা, মনে হয় ঋত্বিক মেয়েটাকে বাঁচাতে পারতো।'
"-না,গো, পারতো না।'বলেন রমলা দেবীর,'নীতারা বাঁচবে না,রোগে নয়।ওটা সমাজের কারণে '
-'সমাজ কি করলো বলো'-ভবেশবাবুর কৌতূহলী চোখ পড়ে রমলা দেবীর চোখে।
_' দেখো নীতা তো একটি মেয়ে নয় কেবল,সে রোগজীর্ণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে সহানুভূতি চাই নি'
ভবেশবাবু জিজ্ঞেস করেন-'কে সে তাহলে?'
রমলা দেবীর চোখে জল।
-'আহা, আহা, কাঁদছে কেন?' ভবেশবাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন, হাতদুটো ধরেন স্ত্রীর '
-'হঠাৎ নীতার কান্না টা মনে পড়ে গেল,ও তো সমাজের কথা বলেছে, আমার তোমার কথা বলেছে,বাঁচার দাবি করেছে গো। কিন্তু এ সমাজ কি তেমন,তাই তো মরতে হলে তাকে '
ভবেশবাবু তাকিয়ে থাকেন স্ত্রীর দিকে। সত্যিই তো আজও সে সমাজ তৈরি হল না যে নীলাদের বাঁচাতে পারে।
ভবেশবাবু স্ত্রীকে দুহাতে আগলে ঘরে নিয়ে চলতে চলতে বলেন-' লড়াই করে যেতে হবে গো। হারতে হারতে একদিন ঠিক মানুষ জিতবে '
রমলা দেবীর শক্ত করে স্বামীর হাতটা চেপে ধরেন।
Comments :0