Nepal Disaster Glacier

নেপালে বিপর্যয়ে দায়ী হিমবাহ ক্ষয়ে যাচ্ছিল তিন দশক ধরে, বলছেন বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক

বিপর্যয়ে মৃতদের গণকবর নেপালের রাসুয়া জেলায়।

হিমবাহের জলে তৈরি হ্রদের জলস্রোত নাকি বরফ শিলা ধস? নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞানীমহল সবদিকই খতিয়ে দেখছেন। 
কিন্তু এর মধ্যেই নজরে পড়েছে যে নেপালের বন্যায় দায়ী হিমবাহের উচ্চতা বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষয়ে যাচ্ছিল। ১৯৯০ থেকে ২০২০’র মধ্যে ৪৫০ মিটার নেমে গিয়েছিল উচ্চতা। 
পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অধ্যাপক মারিনা শাহগেডানোভা ‘ইউরোনিউজ’-কে  বলেছেন, ‘‘কোনও হিমবাহের উচ্চতা কমে গেলে নিচের শিলাস্তরে প্রভাব পড়ে।’’ 
এই বিজ্ঞানী বলছেন, ‘‘বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সর্বত্র হিমবাহ ক্ষয় পাচ্ছে। তার ফলে নিচের শিলাস্তরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। হিমালয়ে হিমবাহ ক্ষয়ের হার বেশি। পর্বত সংলগ্ন জনবসতিতে যাঁরা বাস করছেন তাঁদের পক্ষে এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিয়মতি নজরদারি এবং প্রাকৃতিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হিসেবে রাখা হলে অন্তত আগাম সাবধান করার সুযোগ বাড়বে।’’ 
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারনে হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রবণতায় দীর্ঘদিন ধরে সরব পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং পরিবেশ কর্মীরা। তবে নেপালের ঘটনায় হিমবাহ দ্রুত গলে গিয়ে হৃদের জল বাঁধ ভেঙে বের হওয়া বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বলা যাবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। 
নেপালের কাঠমান্ডুতে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট মনে করছে উপরের স্তরে, ক্রায়োস্ফিয়ারে, বরফ শিলার ধস থেকেই নেপালের এই বিপর্যয়। হিমবাহ পুষ্ঠ হ্রদের জল কারণ নয়। 
গত ২৬ আগস্ট নেপালে তিব্বত সীমান্তে রাসুয়া জেলায় আচমকা বিপুল জলস্রোতে ভেসে গিয়েছে একের পর এক জনপদ। অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আরও ভয়ঙ্কর যে নিখোঁজ ৪ হাজার জনের মধ্যে খুব কম অংশেরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 
বরফের শিলা প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার পিছলে ১২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় পড়ে। দ্রুত বরফগলা জলে নদীর স্তর বেড়ে যায়। 
এদিকে কাঠমান্ডুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট বলছে এখনই তিনটি ধাপে প্রস্তুতি জরুরি। এক, বিশ্ব উষ্ণায়নজনিত বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামো তৈরিতে নামা। নদীর কাছে বা ঢালে ঘরবাড়ি তৈরির নিয়ম নির্দিষ্ট করা জরুরি। দুই, পরিকাঠামো তৈরির আগে পরিবেশে তার প্রভাবের সঠিক বিশ্লেষণ জরুরি। আবার জলবায়ুর পরিবর্তন সেই পরিকাঠামোর ওপর কিভাবে প্রভাব ফেলবে দেখতে হবে তা-ও। তিন, স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে জনজাতি অংশের, প্রজন্মান্তরে নানা ধারণা থাকে। ঝুঁকি সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাজে তাঁদের এই জ্ঞানকে কাজে লাগানো দরকার।

Comments :0

Login to leave a comment