জয়ন্ত সাহা: ফালাকাটা
ইনকিলাবের যে কোন মিছিলে যখন আসবেন, যে কোন মিটিংয়ে যখন আসবেন ঝান্ডার নিচে ঝান্ডাটা শক্ত করে নিয়ে আসবেন। এটা করলেই বিজেপি আমাদের নেতা- কর্মীদের ওপর হামলা করার সাহস পাবে না।
২৩ আগষ্ট বুধবার মাথাভাঙা-ফালাকাটার সীমান্ত জামতলায় সিপিআই(এম)'র পথসভায় হামলা করে বিজেপি। তার প্রতিবাদে সেই জামতলা তেমাথার মোড়ে এদিনের সভায় বক্তব্যের শুরুতেই একথা বলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিনাক্ষ্মী মুখার্জী।
এদিন তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে বলেন, যারা সেদিন হামলা করেছিল আমাদের কর্মীরা সেদিনের ঘটনার ফুটেজ পুলিশকে দিয়েছে। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে ফালাকাটা থানা ঘেরাও করবে সিপিআই(এম) কর্মীরা।
মিনাক্ষী মুখার্জী এদিন বলেন, ঘোকসারডাঙা থানার পুলিশ অনুমতি দিতে চায় নি সভার জন্য। মঞ্চ বাঁধা যায় নি। জামতলা মোড়ের সব ব্যবসায়ীদের দোকান জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপি। এলাকার বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে নিষেধ করে দিয়েছে বিজেপি নেতারা। পুলিশকে জিজ্ঞেস করছি, আইনের কোন বইতে লেখা আছে যে আমরা মানুষের দাবিতে কথা বলবো মিটিং করবো মিছিল করবো তার পারমিশন লাগবে?
নির্বাচন কমিশন ভোটার লিস্ট থেকে নিজের ইচ্ছা মত নাম বাদ দিলো। আমাদের পারমিশন নিয়েছিলো? চিনির দাম ৭৫ টাকা কিলো করে দিল বিজেপি সরকার। কার পারমিশন নিয়েছিল? ওষুধের দাম বাড়ানোর সময় কার পারমিশন নিয়েছিল ডাবল ইঞ্জিন সরকার। এই যে পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার কার পারমিশন নিয়েছিল? তাহলে পেট্রোল ডিজেলের দাম ওষুধের দাম চিনির দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে মানুষকে সাথে নিয়ে এই মানুষের কাছে কথা বলব সেটার জন্য পারমিশন কেন নেব আমরা?
এদিন তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরি পেতে গেলে কিছু নিয়ম থাকে কিন্তু অন্নপূর্ণা ভান্ডার পেতে কি কি নিয়ম কেউ জানলো না অথচ বারো পাতার ফর্ম ফিলাপ করিয়ে নিলো। ভোটের আগে বলেছিল সবাই অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাবে। এখন নানা শর্ত চাপিয়ে নাম কেটে দিচ্ছে। এ সরকার চাকরিও দেবে না, আর ভাতার নামে মিথ্যা ভাতা প্রতিশ্রুতি দেবে। সেটা মেনে নেওয়া যাবে না।
আসলে বিজেপি ফ্যাসিবাদী শক্তি। প্রতিদিন পুলিশকে নিয়ে ভয় দেখাবে। প্রতিদিন গুন্ডাকে দিয়ে ভয় দেখাবে।বিজেপিকে রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছে তৃণমূল। এখন তৃণমূল ফসিল হয়ে গেছে। আর ওই দলের লোভী, হিংস্র শেয়ালগুলো বিজেপিতে ঢুকেছে বিজেপির কাছে নাকে খত দিয়ে। এখন বিজেপির নেতারা ওদের দিয়ে গুন্ডামী করাচ্ছে। ঝান্ডা হাতে একবার রুখে দাঁড়ালে ওরা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না।
জামতলার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মিনাক্ষী মুখার্জী বলেন, বিজেপি গোটা রাজ্য জুড়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। ওরা প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে। মানুষের রুটি রুজির লড়াইয়ের বিরুদ্ধে। তাই ভয়ের আর আক্রমণের অবস্থা তৈরি করতে চাইছে। আর সেই ভয়কে অব্যাহত রাখতে জামতলাতে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করলো। আমরা দোকানদারকে বলছি আজকের এই বাজারের সভা ছিল ভয় দূর করার সভা। আজকে যারা দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হলেন তাঁরা একবার ভেবে দেখবেন পশ্চিমবঙ্গের ভয়ের পরিবেশকে কায়েম রাখতে আপনারা সাহায্য করে ফেলছেন না তো? ভয় পাবেন না।আমরা পাশে আছি।
এদিন তিনি আরও বলেন, তৃণমূল যে রাস্তায় চলছিল সেই রাস্তাতেই বিজেপি চলছে গোটা দেশে ১২ বছর সরকার চালাচ্ছে। অথচ বিজেপির গরীব মানুষের কোন উন্নতি করে নি। সরকারি স্কুলে লেখাপড়াতে উন্নতি নেই। হেলথ সেন্টার, সরকারি হাসপাতালে উন্নতি নেই। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী যে অর্থনীতিতে দেশ পরিচালনা করছে তাতে রোজ জিনিসের দাম বাড়ছে, সেখানে মানুষের বেঁচে থাকার রাস্তা নেই। রাস্তা আছে বাম দিকে। সেখানে সব মানুষকে যুক্ত করতে হবে। রেশন দোকানের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, চিনি, আলু, কেরোসিন এই পাঁচটা সাতটা জিনিস না দিতে পারলে বাজারে জিনিসের দাম কমবে না।
এদিনের সভা থেকে মিনাক্ষী মুখার্জী বলেন ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছিল তারা ২৫ সেপ্টেম্বর কলকাতায় চলুন। সেদিন ইলেকশন কমিশনের সিও দপ্তর আমরা ঘেরাও করে রাখবো। যতক্ষণ নাম ভোটার লিস্টে না ফিরবে ততদিন আন্দোলন চলবে।
এদিনের প্রতিবাদ সভায় সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য অলোকেশ দাস বলেন, ২৩ আগষ্ট রবিবার এই জামতলায় সিপিআই(এম) দলের কর্মীরা কি দোষ করেছিল? সেদিন পথসভা করে ওরা মানুষের কথা বলছিল বিজেপির সেটা সহ্য হল না। অথচ সাধারণ মানুষই এখন বলছে লুটেরা তৃণমূলের সরকারকে সরাতে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিলাম, এখন তো দেখছি এরা আগের লুটেরাদের বাবা। চার মাসেই বিজেপির লুটে গ্রামে গঞ্জে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
এদিনের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরুপ ঘোষ বলেন, ওরা মিটিং ভেস্তে দিতে জোর করে জামতলা বাজারের সব দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল। ওরা দেখুক জামতলায় সব বাধা উপেক্ষা করে লালঝান্ডার মেলা বসেছে। বিজেপি জেনে রাখুক আমাদের ওপর যত হামলা হবে তত লালঝান্ডার মিছিল বড় হবে।
ঘোষ আরও বলেন, বিজেপির মত তৃণমূল ১৫ বছর ধরে আমাদের মিটিং হলে গ্রামে গঞ্জে দোকানের শাটার নামিয়ে দিত। আর ভোটে হারার পর সেই তৃণমূলের কালিঘাটের পিসি- ভাইপোর দলের শাটার নেমে গেছে।
এদিন তিনি আরো বলেন, বিজেপির চার মাসের শাসনে চোর তৃণমূল সব ভালো তৃণমূল হয়ে গেল। অথচ খারাপ হল বস্তীবাসীরা। তাদের উচ্ছেদ করা হল। হকারেরা বিজেপির কাছে ভালো হল না। ওদের উচ্ছেদ হতে হল।লক্ষ্মীর ভান্ডারের মায়েরা -বোনেরা অন্নপূর্না ভান্ডার পেল না। শুধু তৃণমূলের পচা -বদমাশ গুলো ভালো হয়ে পদ্মাসনে বসে পড়লো। এই বিজেপি সরকার আসলে বড়লোকের সরকার। চার মাসেই এটা বুঝে গেছে বাংলার মানুষ। বিজেপি জেনে রাখুক, বাংলার একটা মাঠও ফাঁকা পাবে না। সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লালঝান্ডার প্রতিরোধের সামনে পড়তে হবে বিজেপিকে। যত হামলা হবে তত শক্তিশালী হবে লালঝান্ডার লড়াই। বিজেপি জেনে রাখুক বাংলার কোথাও এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেওয়া হবে না। সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই হবে বুক চিতিয়ে। এদিনের প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলার নেতা মহানন্দ সাহা।সভাপতিত্ব করেন আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক কিশোর দাস।
Comments :0