ABVP assaults SFI-DYFI leader

এসএফআই- ডিওয়াইএফআই নেতাকে মারধর এবিভিপি'র, প্রতিবাদে ধিক্কার মিছিল ও পথসভা মালদহে

জেলা

গত ৩১শে আগস্ট বিকালে মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ তথা স্টুডেন্টস হেলথ হোমের জেলা সভাপতি মানস বৈদ্য একটি সভা আহ্বান করেছিলেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন এসএফআই'র জেলা আহ্বায়ক কৌশিক মৈত্র ও ডিওয়াইএফআই'র জেলা সম্পাদক অরূপ পোদ্দার।‌ সভা শেষে সবাই যখন বেড়িয়ে আসছিল তখন কলেজের গেটের বাইরে কৌশিক মৈত্রকে একা পেয়ে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ  করতে করতে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করে আরএসএস-বিজেপির অনুগামী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। 
এবিভিপি গুন্ডা বাহিনী কৌশিক মৈত্রকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে অরূপ পোদ্দার কৌশিক মৈত্রকে বাঁচাতে গেলে এবিভিপি'র গুন্ডারা তাকেও বেধরক মারধর করে। খবর পেয়ে ছাত্র-যুব ও সিপিআই(এম) নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এই ঘটনার পর স্টুডেন্টস হেলথ হোমের সভাপতি থানায় কোন অভিযোগ দায়ের না করলেও হেলথ হোমের পক্ষে জয়ন্ত কর্মকার ছয়জন এবিভিপি কর্মীর নাম উল্লেখ করে দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে ঘটনার পর ৪৮ ঘন্টা কেটে গেলেও আসামীদের গ্রেপ্তারে কোন উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ। এর প্রতিবাদে বুধবার দুই সংগঠন ধিক্কার মিছিল ও পথসভা এবং মালদহ কলেজের অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয়। সেই উপলক্ষে এদিন শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে আগত ছাত্র যুব নেতা কর্মীরা জমায়েত করে। সেইসঙ্গে, মিছিল করে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মালদহ কলেজ গেটের সামনে সমবেত হয়। মিছিল শুরুর আগে পরে হয় সভা। সেখানে নেতৃবৃন্দ এবিভিপির ভূমিকা উল্লেখ করে ও  পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেন। 
এরপর এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে ৮দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ উপস্থিত না থাকায় কলেজের একজন অধ্যাপক তা গ্রহণ করেন। 
স্মারকলিপিতে ওইদিনের ঘটনায় যুক্ত অভিযুক্তদের পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থার দাবি করা সহ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠ পঠনপাঠন ব্যবস্থা, সকলে যাতে নিজ মতামত ও কাজকর্ম করতে পারে পারে তার ব্যবস্থা করা, এ ধরণের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার দাবি করা হয়েছে। 
এদিনের সভায় প্রণয় কার্য্যী মালদহ কলেজের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, "আরএসএস-বিজেপির অনুগামী  ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, যার কোন অস্তিত্ব মাস তিনেক আগে কোন কলেজে ছিল না তারা এখন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, গুন্ডামী করছে। শুধু মালদহ কলেজ নয় যাদবপুর, মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন কলেজ দাপাদাপি, গুন্ডামী করছে। এখন কোন গুন্ডা দমন আইনের দেখা নেই। কলেজগুলি তুলে দেওয়া হয়েছে এমএলএ, এমপি-র হাতে। তৃণমূল ১৫ বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন করেনি। অথচ,বামফ্রন্টের ৩৪ বছরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত হয়েছে। বর্তমান শাসক দলের যদি সাহস থাকে ছাত্র নির্বাচন করে দেখাক। বিগত দিনে রাজ্যে এবিভিপির কোন অস্তিত্ব ছিল না। আজ যারা করছে দুদিন আগে তাদের কোন অস্তিত্ব ছিল না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে এবিভিপিকে সামনে এসে লড়াই করার কথা বলেন। 

Comments :0

Login to leave a comment