Mid-Day Meal

বরাদ্দ বকেয়া ৩ মাস, কোচবিহারের স্কুলে ধারবাকিতে মিড ডে মিল

জেলা

রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর এখন পুরোই বেসামাল! কোচবিহার জেলার প্রাথমিক স্কুলের মিড-ডে মিল চলছে ধার-বাকিতে! তিনমাসের বেশি সময় ধরে আসছে না মিড -ডে মিলের বরাদ্দ টাকা! এরকম চলতে থাকলে কোচবিহার জেলার সরকারী এবং সরকার পোষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের হেঁসেল বন্ধ হতে পারে যে কোন দিন এমনই আশংকা করছেন প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেসব তথ্য মিলেছে তাতে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। জেলায় তিন থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত বরাদ্দ বকেয়া রয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের উদাসীনতায় বাড়ছে ক্ষোভ। এবিটিএ-র জেলা সম্পাদক দীপক কুমার সরকার বৃহস্পতিবার বলেন, শিক্ষক থেকে অভিভাবক এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রাঁধুনিদের ক্ষোভ তো ন্যায় সংগত। শিক্ষকেরা ধারে মালপত্র আনছেন, রাঁধুনিদের বেতন পকেট থেকে দিচ্ছেন কেউ কেউ। এরকম অব্যবস্থা সত্যিই ভাবা যায় না। এটা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক।
কোচবিহার জেলায় সরকারি ও সরকার পোষিত মোট ১৮৫৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। স্কুল গুলিতে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা দুই লক্ষের মত। বিরাট সংখ্যক পড়ুয়ার মিড ডে মিলের বরাদ্দ মাসের পর মাস না দেওয়া প্রশাসনিক উদাসীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা বলছেন শিক্ষকেরা। আগের সরকারের আমলে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের জন্য মাথা পিছু বরাদ্দ ছিল ৬.৭৮ টাকা। ডাবল ইঞ্জিন সরকার বাজেটে ঘোষণা করেছে মাথাপিছু বরাদ্দ ১০ টাকা। ঘোষণাই সার। বরাদ্দ কবে আসবে কেউ জানেন না। পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলের আলাদা একাউন্ট আছে সব প্রাথমিক স্কুলেই। দিনহাটার গোপালনগর শরনার্থী আর আর প্রাথমিক স্কুলে ৫ মাস ধরে বরাদ্দ ঢোকে নি একাউন্টে। স্কুলের রাঁধুনি কৃষ্ণা দেব অভিযোগ করেন মার্চ মাসের পর আর বেতন পাই নি। মাসে মাত্র ২০০০ টাকা পাই। সেটাও অনিয়মিত। কি করে দিন কাটছে আমিই জানি।
কোচবিহার-১ ব্লকের চিলকিরহাটের শিলখুরিবস পঞ্চম পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দুমাস আসে নি বরাদ্দ। মিড ডে মিল চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার শিক্ষকেরা। বরাদ্দ ছাড়া মিড ডে মিল চালানোই এখন জেলার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। জেলার শিক্ষা দপ্তর সূত্রে বলা হচ্ছে পোর্টাল জটে বরাদ্দ বন্ধ আছে। কবে কাটবে জট? এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারুর কাছেই।

Comments :0

Login to leave a comment