চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রচারে নেমেছেন কেন্দ্রের মন্ত্রীরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে নতুন ভিত্তিবর্ষ এবং পদ্ধতিতে বৃদ্ধির হার মাপার কৌশলেই। পরিস্থিতির জেরে বিশেষ ব্যাখ্যা হাজির করতে হলো কেন্দ্রকে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর চলতি অর্থবর্ষে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি পরিমাপে ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ ব্যবহার করেছে। এর আগে ২০১১-১২ অর্থবর্ষকে ভিত্তি বর্ষ ধরা চলছিল।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রিমাসিকে মোট উৎপাদনের অঙ্ক ২০১১-১২’র ভিত্তিবর্ষ অনুযায়ী ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন ভিত্তিবর্ষ ব্যবহার করে বলা হয় উৎপাদন ছিল ৮০ লক্ষ কোটি টাকা।
অভিযোগ, চলতি অর্থবর্ষ, ২০২৬-২৭’র প্রথম ত্রৈমাসিক, এপ্রিল-জুনে, বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হয়েছে এই কারসাজিতেই। আগেরবারের উৎপাদন কমিয়ে দেখানোয় এবারের বৃদ্ধির হার অঙ্কের হিসেবে বেড়ে গিয়েছে।
গত অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার বলা হয়েছিল ৮.৬ শতাংশ। সেই বিচারেও নতুন অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসে প্রকৃত বৃদ্ধির হার কম, ৭.৮ শতাংশ।
এদিকে সমালোচনার জেরে সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে জোর করে আগের বছরের মোট উৎপাদন কমানো হয়নি। এই কৌশলে এবারের বৃদ্ধির হার বাড়ানো হয়নি। নিয়মিত সময় অন্তর ভিত্তিবর্ষ বদলানো হয়। সেই সঙ্গে হিসেবের পদ্ধতিও সময়োপযোগী করা হয়েছে।
সমালোচনা যদিও থামছে না। এবারের এপ্রিল-জুনে টাকার চলতি দামে বৃদ্ধির হার ১০.৩ শতাংশ। তা আবার গত অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিক, জানুয়ারি-মার্চ পর্বে, ছিল ৯.১ শতাংশ। চলতি দাম এবং স্থির দামে দুই ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হারে উলটো ফল কেন, উঠছে সে প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠেছে কারখানা উৎপাদন ক্ষেত্রের হিসেব নিয়েও। নতুন পদ্ধতিতে জিডিপি নির্ণয়ে দামের হিসেব করা হয়েছে উৎপাদনের উপকরণের দাম চূড়ান্ত পণ্যের দাম থেকে বাদ দিয়ে। সরাসরি পাইকারি মূল্য সূচক বা ক্রেতা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে নয়। সরকারের বক্তব্য এই পদ্ধতিতে অর্থনীতিতে মূল্য যোগের সঠিক হিসেব সম্ভব।
GDP New Series
বৃদ্ধির হারে কারচুপির অভিযোগ, নতুন ভিত্তিবর্ষ চালুর ব্যাখ্যায় নামল কেন্দ্র
×
Comments :0